এই নিবন্ধের জন্য GPX ফাইল ডাউনলোড করুন

এশিয়া > দক্ষিণ এশিয়া > বাংলাদেশ > চট্টগ্রাম বিভাগ > রাঙ্গামাটি জেলা > পাবলাখালী বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য

পাবলাখালী বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য

উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

পাবলাখালী বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত একটি বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য। বর্তমানে রাঙামাটি জেলার কাসালং রেঞ্জের দক্ষিণ-পূর্বে খাগড়াছড়ি জেলার সীমানা পর্যন্ত এই অভয়ারণ্যটি বিস্তৃত।

জানুন[সম্পাদনা]

এই বন সম্পর্কে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় ১৯৫৪ সালের এক জরিপে। সেসময় ২,৫৪০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কাসালং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের একটি অংশ ছিল পাবলাখালী এবং এর বিস্তৃতি ছিল প্রায় ৪৫০ বর্গকিলোমিটার। পরবর্তীতে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে এই বনের অনেক এলাকা হ্রদের পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে এবং বনের আয়তন কিছুটা সংকুচিত হয়। ১৯৬২ সালের জুন মাসে বন্যপ্রাণী আর প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য এটিকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ১৯৮৩ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর এটিকে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

কিভাবে যাবেন[সম্পাদনা]

রাঙামাটি সদর থেকে ১১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই অভয়ারণ্যটি। পাবলাখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে ভ্রমণে গেলে প্রথমে রাঙামাটি সদরে যেতে হবে।

ঢাকার কলাবাগান, ফকিরাপুল ও কমলাপুর থেকে অনেক কোম্পানির বাস সরাসরি রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এরমধ্যে রয়েছে ডলফিন পরিবহন, এস আলম, সৌদিয়া পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, ইউনিক সার্ভিস ইত্যাদি। ঢাকার বাহিরের জন্য আপনার জেলার বাস কোম্পানির বাস সেবা দেখুন।

রাঙামাটি এসে সেখান থেকে মারিস্যাগামী লঞ্চে চড়ে নামতে হবে মাইনীমুখ। তারপর এখান থেকে ইঞ্জিনের নৌকায় করে পৌঁছে যাওয়া যাবে পাবলাখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে। ভাড়া জনপ্রতি ১৭০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। তবে শুষ্ক মৌসুমে রাঙামাটি-বাঘাই-ছড়ি নৌপথ বন্ধ থাকে। সেক্ষেত্রে সরাসরি বাঘাই-ছড়ি হয়ে যেতে হবে।

দেখুন[সম্পাদনা]

এই বনে হাতি, বিভিন্ন প্রজাতির বানর, উল্লুক, বুনো কুকুর, বন্য শুকর, সাম্বার হরিণ, বনরুই প্রভৃতির রয়েছে। এ ছাড়া এই অভয়ারণ্যে বহু প্রজাতির পাখি এবং আদি গর্জন, জারুল, চম্বল, সেগুন, কাঞ্চন, চাপালিশের মতো নানা প্রজাতির গাছ রয়েছে।

কোথায় থাকবেন[সম্পাদনা]

পাবলাখালীতে মাইনীমুখ বাজারে থাকতে পারবেন। জায়গাটিতে থাকার জন্য সাধারণ মানের কিছু আবাসিক হোটেল আছে। কক্ষ ভাড়া ২০০-৩০০ টাকা। এখানে বনবিভাগ তৈরি করেছে গেস্ট হাউজ, বনসাথী। বনবিভাগের যেকোনো বাংলোতে থাকতে চাইলে পূর্বানুমতি নিয়ে আসতে হবে। অনুমতি নিতে হবে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (০৩৫১-৬৩১৩৯) কার্যালয় থেকে।

এছাড়া মাইনীমুখ থেকে পানি পথে প্রায় ২০ মিনিট দূরত্বে অবস্থিত লংগদু উপজেলা সদরের জেলা পরিষদ বিশ্রামাগারেও থাকা যাবে।

সতর্কতা[সম্পাদনা]

এখানেনের গেস্ট হাউজে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় মোমবাতি, চর্ট লাইট, খাওয়ার পানি সাথে নিন। ব্যবহৃত কোনো প্রকার পলিথিন, পানির বোতল, প্যাকেট, ময়লা ইত্যাদি বনের ফেলবেন না, সাথে করে নিয়ে আসুন। বনে প্রায়ই দল বেধে ঘুরে বেড়ায় বন্য হাতির দল। পাবলাখালীতে ভ্রমণ বিষয়ক যেকোন তথ্য কিংবা সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ০১৫৫৬৭১০০৪৩, ০১৮১৫-৮৫৬৪৯৭ নম্বরে।