এই নিবন্ধের জন্য GPX ফাইল ডাউনলোড করুন

(রাঙ্গুনিয়া থেকে পুনর্নির্দেশিত)
এশিয়া > দক্ষিণ এশিয়া > বাংলাদেশ > চট্টগ্রাম বিভাগ > চট্টগ্রাম জেলা > রাঙ্গুনিয়া উপজেলা

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা

উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

রাঙ্গুনিয়া বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা।

জানুন[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম জেলা সদর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার পূর্বে ২২°১৮´ থেকে ২২°৩৭´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°৫৮´ থেকে ৯২°০৮´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে অবস্থিত রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আয়তন ৩৪৭.৭২ বর্গ কিলোমিটার। রাঙ্গুনিয়া থানা গঠিত হয় ১৯৬২ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন রয়েছে।

নামকরণ[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া নামের উৎপত্তি কবে কীভাবে হল এ সম্পর্কে কৌতুহলের শেষ নেই। বলা হয়ে থাকে, আরাকানী রাজশক্তি মোগল রাজশক্তির সাথে যুদ্ধে পরাজিত হলে আরাকানী মগেরা তাদের অর্জিত ধন সম্পদ পরিত্যাগ করে এ অঞ্চল ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং এর থেকে অঞ্চলের নাম হয় রাইন্যারাইন্যা একটি মগী শব্দ, যার অর্থ হল পরিত্যক্ত। পরবর্তীতে রাইন্যা শব্দ থেকে রইন্যা তথা রাঙ্গুনিয়া শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।

আরেকটি মত হচ্ছে, এককালে এ অঞ্চলের লোকজন অধিক সংখ্যায় বার্মার রেঙ্গুন শহরে চলে যেত এবং এজন্য এ অঞ্চলকে রেঙ্গুন্যা বলা হত, আর এ থেকেই রাঙ্গুনিয়া নামের উৎপত্তি।

আসলে এই দুইটি মতই ঐতিহাসিকভাবে ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে। চট্টগ্রামের প্রাচীনতম ঐতিহাসিক জনাব হামিদুল্লাহ খাঁ কর্তৃক ফার্সি ভাষায় রচিত চট্টগ্রামের প্রাচীন ইতিহাস আহাদিসুল খাওয়ানিন, যা ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল এবং বর্তমানে এক কপি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। তাতে রাঙ্গুনিয়াকে রঙ্গীনা নামে উল্লেখ করা হয়েছে। রাঙ্গুনিয়ার বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও গবেষক মরহুম সৈয়দ আহমদুল হক রচিত প্রবন্ধ 'বিচিত্রা'য় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফার্সি ভাষায় রঙ্গীনা শব্দের অর্থ হল রঙে রঞ্জিত অর্থাৎ সৌন্দর্য্য। তাঁর মতে, রাঙ্গুনিয়ার মত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমণ্ডিত মনোরম স্থান দক্ষিণ এশিয়ায় আর নেই। চিরহরিৎ অনুচ্চ শৈল শিখর ও কর্ণফুলি নদী বিধৌত এ অঞ্চল সুলতানী আমলে পরিচিত ছিল রঙ্গীনা নামে। পরবর্তীতে এই রঙ্গীনা শব্দ থেকেই রইন্যা বা রাঙ্গুনিয়া নামের উৎপত্তি হয়েছে।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাঙ্গুনিয়া উপজেলার জনসংখ্যা ৩,৪০,০০০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১,৩৯,০২৮ জন এবং মহিলা ২,০০,৯৭২ জন। এ উপজেলার ৭৮% লোক মুসলিম, ১৫% হিন্দু, ৬% বৌদ্ধ এবং ১% অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।

কিভাবে যাবেন[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম মহানগরীর বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদরের দূরত্ব ২৯ কিলোমিটার।

সড়কপথে[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম শহরের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই বাস যোগে রাঙ্গুনিয়া যাওয়া যায়।

  • ভাড়া: জনপ্রতি ২৫ থেকে ৩৫ টাকা।

এছাড়া চট্টগ্রাম নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা যোগেও রাঙ্গুনিয়া যাওয়া যায়।

  • ভাড়া: রিজার্ভ ১২৫ থেকে ১৭৫ টাকা অথবা জনপ্রতি ২৫ থেকে ৩৫ টাকা।

কাপ্তাই সড়ক ছাড়াও রাঙ্গামাটি সড়ক হয়ে রাঙ্গুনিয়া যাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন মোড় এলাকা থেকে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি বাস যোগে রাণীরহাট এলাকায় নামতে হবে।

  • ভাড়া: জনপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

নৌপথে[সম্পাদনা]

নৌপথে ভ্রমণ পিয়াসুরা ইচ্ছে করলে নৌপথেও রাঙ্গুনিয়া যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে চট্টগ্রাম শহরের কালুরঘাট এলাকা থেকে রিজার্ভ স্পীডবোট ভাড়া করতে হবে।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

  • শেখ রাসেল অ্যাভিয়েরী পার্কএশিয়ার ২য় বৃহত্তম ক্যাবল কার রাঙ্গুনিয়ায় তৈরি করা হয়েছে। শেখ রাসেল অ্যাভিয়েরি পার্কে প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটক আসেন। বৃক্ষাচ্ছাদিত সবুজ পাহাড়ি বনে উড়ছে হাজার হাজার পাখি। পাখিদের কলতানে মুখরিত পুরো বন। মাথার সিঁথির মতো বুনো পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিনোদন পিয়াসী মানুষ। পুরো এলাকা ভরে যাচ্ছে সবুজে। এ পার্ককে ঘিরে এলাকাটিতে গড়ে উঠছে সম্ভাবনাময় বিনোদন কেন্দ্র। ঘটছে দেশী বিদেশী পর্যটকদের আগমন।
  • আগুনিয়া চা বাগান লালানগর ইউনিয়নে অবস্থিত।
  • কোদালা চা বাগান কোদালা ইউনিয়নে অবস্থিত।
  • ঠাণ্ডাছড়ি চা বাগান রাজানগর ইউনিয়নে অবস্থিত।
  • সুখবিলাস রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ (আঠারো শতক) পদুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত।
  • রাণীর পুকুর দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের রাজারহাটে অবস্থিত।
  • পাগলা মামার দরগাহ (উনিশ শতক) মরিয়মনগর ইউনিয়নে অবস্থিত।
  • ধর্মচক্র বিহার (১৭৫০)
  • পাল আমলের বুদ্ধমূর্তি বেতাগী ইউনিয়নে অবস্থিত।
  • জগৎদাত্রী মন্দির
  • শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ মন্দির স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের শান্তিনিকেতনে অবস্থিত।
  • শিব চতুর্দশী মন্দির পারুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত।
  • কৃষ্ণ মন্দির স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের মজুমদারখীলে অবস্থিত।
  • সাগরদীঘি রাজানগর ইউনিয়নে অবস্থিত।
  • সীমাঘর

কোথায় থাকবেন[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়ায় থাকার জন্য সরকারি পরিচালনাধীন উপজেলা পরিষদ ডাক বাংলো ছাড়াও ব্যক্তি মালিকানাধীন সুলভ মূল্যে থাকার মত হোটেল রয়েছে।

খাওয়া দাওয়া[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়ার কাপ্তাই সড়ক সংলগ্ন চন্দ্রঘোনা, মরিয়মনগর, রোয়াজারহাট, ইছাখালী, গোচরা ইত্যাদি এলাকায় ও রাঙ্গামাটি সড়ক সংলগ্ন রাণীরহাট এলাকায় যে কোন রেস্টুরেন্টে সুলভ মূল্যে খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।