বিষয়বস্তুতে চলুন

781
উইকিভ্রমণ থেকে
এশিয়া > দক্ষিণ এশিয়া > শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কা

পরিচ্ছেদসমূহ

শ্রীলঙ্কা (সিংহলি: ශ්‍රී ලංකා Śrī Laṃkā; তামিল: இலங்கை Ilaṅkai),(পূর্বনাম সিংহল) দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত। ভারতের ঠিক দক্ষিণে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপরাষ্ট্রটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। এখানে রয়েছে সমগ্র উপকূল জুড়ে অবস্থিত অনেকগুলি মনোরম সমুদ্রসৈকত, অতুলনীয় জীববৈচিত্র, চা-বাগান, ফলের বাগান, মন্দির, সৌধ, এবং হাজার হাজার বছরের পুরোনো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এখানকার মানুষ বিভক্ত সিংহলি (মূলত বৌদ্ধ) এবং তামিল (মূলত হিন্দু) গোষ্ঠীতে, এছাড়াও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খ্রিস্টান ও মুসলিম জনগোষ্ঠী রয়েছে।

অঞ্চল

[সম্পাদনা]

শ্রীলঙ্কা ৯ টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত:

Map of Sri Lanka with provincial regions colour-coded — মিথস্ক্রিয় মানচিত্র দেখান
Map of Sri Lanka with provincial regions colour-coded
 কেন্দ্রীয় প্রদেশ (কান্ডি, মাটালে, নুয়ারা এলিয়া, সিগিরিয়া, দামবুল্লা)
পার্বত্য দেশ বলে পরিচিত। হাইকিং এর জন্য উপযোগী। এখানে চা চাষ হয়।
 উত্তর প্রদেশ (জাফনা, কিলিনছি, ভান্নি, মান্নার)
শ্রীলঙ্কার সংখ্যা গরিষ্ঠ তামিলভাষী এখানে বাস করে। শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এখানে সমুদ্রসৈকত ও কিছু প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ পাবেন।
 উত্তর কেন্দ্রীয় প্রদেশ (অনুরাধাপুর, পোলোনারিয়া)
ঐতিহ্যে পূর্ণ এই অঞ্চলটি সাংস্কৃতিক ত্রিভুজ নামে পরিচিত।
 পূর্ব প্রদেশ (ত্রিনকোমালী, বাট্টিকালোয়া, আরুগাম বে)
এখানে একটি প্রাকৃতিক বন্দর এবং বালিময় সমুদ্রসৈকত অবস্থিত। সার্ফিং এর জন্য উপযোগী।
 উত্তর পশ্চিম প্রদেশ (কুরুনেগালা, পুত্তলাম, চিলাও)
নারকেল বাগিচা, ডলফিন দর্শন, নুন উত্তোলন। এখানে ইয়াপাহুয়া নামক প্রাচীন শহর ও উইলপাট্টু জাতীয় উদ্যান অবস্থিত।
 সবরাগামুয়া (রত্নপুর, কেগাল্লে)
শ্রীলংকার রত্ন উত্তোলনের রাজধানী। উদাওয়ালাঅ জাতীয় উদ্যানে হাতি সাফারির সুযোগ পাবেন। রাবণ জলপ্রপাত আরেকটি দর্শনীয় স্থান।
 দক্ষিণ প্রদেশ (গালে, ওয়েলিগামা, মিরিসা, মাতারা, তাঙ্গাল্লে, উনাওয়াতুনা, হামবানটোটা, ইয়ালা জাতীয় উদ্যান)
গালেতে ঐতিহাসিক দূর্গ, মিরিসায় তিমি দর্শন এবং তাঙ্গাল্লের সমুদ্রসৈকত উল্লেখযোগ্য
 উভা (বাদুল্লা, এল্লা, হাপুতালে, বন্দরওয়েলা)
প্রচুর চা-বাগিচা রয়েছে।
 পশ্চিম প্রদেশ (শ্রীজয়বর্ধনেপুরাকোট্টে, বেরুয়েলা, কলম্বো, গাম্পাহা, বেনটোটা, নেগম্বো)
শ্রীলঙ্কার রাজধানী।

  • 1 কলম্বো (সিংহলি: කොළඹ; তামিল: கொழும்பு) — শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যিক রাজধানী এবং বৃহত্তম শহর। হোটেল, ক্যাফে, রেস্তোঁরা, নাইটক্লাব এবং কেনাকাটা।
  • 2 শ্রী জয়বর্ধনপুর কোট্টে (সিংহলি: ශ්‍රී ජයවර්ධනපුර කෝට්ටේ; তামিল: ஶ்ரீ ஜெயவர்த்தனபுர கோட்டை) —শ্রীলঙ্কার বর্তমান রাজধানী, কোট্টে নামেও পরিচিত।
  • 3 অনুরাধাপুরা (সিংহলি: අනුරාධපුරය; তামিল: அனுராதபுரம்) —আংশিক পুনর্গঠিত প্রাচীন রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যময় স্থান।
  • 4 বাট্টিকালোয়া (সিংহলি: මඩකලපුව; তামিল: மட்டக்களப்பு) —গাইয়ে মাছের ভূমি নামে পরিচিত। সুন্দর সরু সৈকত, ধানের ক্ষেত, কিছু ঐতিহাসিক স্থান।
  • 5 গালে (সিংহলি: ගාල්ල; তামিল: காலி) — বিখ্যাত ওলন্দাজ দূর্গ অবস্থিত। গালে সাহিত্য উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যময় স্থান।
  • 6 জাফনা (সিংহলি: යාපනය; তামিল: யாழ்ப்பாணம்) — উত্তরাঞ্চলের অঘোষিত রাজধানী। তামিল সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল।
  • 7 ক্যান্ডি (সিংহলি: මහනුවර; তামিল: கண்டி) — এখানে গৌতম বুদ্ধের একটি দাঁত রয়েছে। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যময় স্থান।
  • 8 নেগোম্বো (সিংহলি: මීගමුව; তামিল: நீர்கொழும்பு) —সমুদ্রনিকট বর্তী শহর।
  • 9 নুওয়ারা এলিয়া (সিংহলি: නුවර එළිය; তামিল: நுவரேலியா) — শীতল জলবায়ু, ভিক্টোরীয় স্থাপত্য।

অন্যান্য গন্তব্য

[সম্পাদনা]
Morning mist in Sinharaja rainforest
  • 10 আরুগাম বে (Sinhala: ආරුගම් බොක්ක; Tamil: அறுகம் குடா) –দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের এই সৈকতশহরে বেশ কয়েকটি সেরা সার্ফিং স্পট রয়েছে
  • 11 সিগিরিয়া –এই প্রাচীন শহরটি লাল পাথরের উঁচু দুর্গ এবং প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষের জন্য বিখ্যাত। কাছাকাছি, ডাম্বুল্লা বিখ্যাত গুহা মন্দির (উভয়ই ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান) এবং মিনেরিয়া জাতীয় উদ্যানের কাছাকাছি অবস্থিত হাবারানা।
  • 12 হর্টন সমভূমি জাতীয় উদ্যান (Sinhala: හෝර්ටන් තැන්න ජාතික වනෝද්‍යානය; Tamil: ஓட்டன் சமவெளி) – A cloud forest in the central highlands with many endangered fauna and flora and endless hikes
  • (Sinhala: කිතුල්ගල; Tamil: கித்துள்கலை) – known for pristine nature and white-water rafting - 4 hours from Colombo
  • 13 মিরিসা (Sinhala: මිරිස්ස) – beach village and party hotspot on the south coast close to Matara with two good surfing spots
  • (Sinhala: පාසිකුඩා; Tamil: பாசிக்குடா) – famous beach resort in Sri Lanka's east region with white beaches and upscale hotels
  • crocodile enjoying the sun in Kumana National Park.
  • 14 সিংহরাজ সংরক্ষিত বন (Sinhala: සිංහරාජ වනාන්තරය; Tamil: சிங்கராஜா வனம்) – Largest rainforest in Sri Lanka, also a ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান. Extremely diverse fauna and flora. It is home to almost all the endemic species of birds in Sri Lanka. Open at 06:00 onwards.
  • 15 উনাওয়াতুনা (Sinhala: උණවටුන) – beach resort on the south coast very close to Galle
  • 16 ইয়ালা জাতীয় উদ্যান (Sinhala: යාල ජාතික වනෝද්‍යානය; Tamil: யால தேசிய வனம்) – হাম্বানটোটায় বন্যপ্রাণী সাফারি। ইয়ালা জাতীয় উদ্যান একটি খুব বড় প্রাণী অভয়ারণ্য। পার্কের চারপাশে বিভিন্ন ধরণের প্রাণী ঘুরে বেড়ায়, যার মধ্যে বিরল শ্রীলঙ্কান চিতাবাঘও রয়েছে। ভাগ্য ভাগ্য ভালো থাকলে জলাশয়ের কাছে এদের দেখা পেলেও পেতে পারেন।

অনুধাবন

[সম্পাদনা]
রাজধানী শ্রী জয়বর্ধনপুর কোট্টে
মুদ্রা শ্রীলঙ্কান রুপি (LKR)
জনসংখ্যা ২১.৪ মিলিয়ন (2017)
বিদ্যুৎ ২৩০ ভোল্ট / ৫০ হার্জ (টাইপ ডি, বিএস ৫৪৬, বিএস ১৩৬৩)
দেশের কোড +94
সময় অঞ্চল ইউটিসি+০৫:৩০, Asia/Colombo
জরুরি নম্বর 119 (পুলিশ), 110 (জরুরি চিকিৎসা সেবা, দমকল বাহিনী)
গাড়ি চালানোর দিক বাম

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

এই দ্বীপের আদিম অধিবাসীদের বলা হয় ভেদ্দা। আধুনিক ভেদ্দা জাতিগোষ্ঠীর পূর্বপুরুষদের সম্ভবত ৪০,০০০ বছর আগেও এই দ্বীপে বসবাস ছিল। বর্তমানে, ভেদ্দা জাতিগোষ্ঠী ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু এবং সাংস্কৃতিক আত্তীকরণের কারণে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি বিলুপ্তির পথে।

কান্ডির দন্ত মন্দির

শ্রীলঙ্কার ২,৫০০ বছরেরও বেশি ধারাবাহিক লিখিত ইতিহাস রয়েছে, যা ঐতিহাসিক মহাকাব্য "মহাবংশ" থেকে শুরু হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থেও এর উল্লেখ রয়েছে। সবচেয়ে বিখ্যাত হল "রামায়ণ", যেখানে লঙ্কা নামে পরিচিত দ্বীপ ছিল রাবণের দ্বীপদুর্গ, যিনি বিষ্ণুর অবতার রামের স্ত্রী সীতাকে বন্দী করেছিলেন। জনশ্রুতি আছে যে হনুমান লঙ্কায় উড়ে গিয়ে রাজধানীতে আগুন লাগিয়ে দেন, আর রাম এবং তাঁর অবশিষ্ট সৈন্যরা পরে সমুদ্রের উপর একটি স্থল সেতু নির্মাণ করে মূল ভূখণ্ড থেকে শ্রীলঙ্কা অতিক্রম করেন।

দ্বীপের প্রধান জাতিগত গোষ্ঠী, সিংহলীরা খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষের দিকে শ্রীলঙ্কায় এসে পৌঁছায়, সম্ভবত বাংলা অথবা মহারাষ্ট্র থেকে। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বৌদ্ধধর্ম এই দ্বীপে আসে এবং অনুরাধাপুর (আনুমানিক ২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে আনুমানিক ১০০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজ্য) এবং পোলোন্নারুওয়া (আনুমানিক ১০৭০ থেকে ১২০০) মতো শহরগুলিতে বৌদ্ধ সভ্যতা সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। প্রাচীনতম বৌদ্ধ নিদর্শনগুলি অনুরাধাপুর যুগের। এই সময়ে শ্রীলঙ্কা রোমান সাম্রাজ্য সহ এশিয়া ও ইউরোপের অন্যান্য সভ্যতার সাথে ব্যবসা করত। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা পুরাতন বিশ্বের বাকি অংশে দারুচিনি রপ্তানি করত। পরবর্তীকালে বিখ্যাত অন্যান্য রাজ্যগুলি হল ডাম্বাদেনিয়া, ইয়াপাহুওয়া, গাম্পোলা, কান্ডি এবং জাফনা রাজ্য।

শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতিগত গোষ্ঠী, তামিলরা, সিংহলিদের পরেই আসতে শুরু করে এবং ব্রিটিশরা তাদের আগমনকে ত্বরান্বিত করে। ষোড়শ শতাব্দীতে পর্তুগিজরা এবং সপ্তদশ শতাব্দীতে ডাচরা দখল করে, ১৭৯৬ সালে দ্বীপটি ব্রিটিশদের হাতে চলে যায়।

রাজা শ্রী বিক্রম রাজসিংহের (ශ්‍රී වික්‍රම රාජසිංහ) শাসনামলে ভারত দখলের সাথে সাথে, রাজা এবং তার প্রজাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, যা ব্রিটিশদের কান্দিয়ান রাজ্য আক্রমণ করার এবং ক্ষমতা দখলের সুযোগ করে দেয়। ১৮১৫ সালে ব্রিটিশরা নতুন আইন প্রণয়ন করে এবং সিলনকে (সেই সময় দ্বীপটিকে এই নামে ডাকা হত) রাজ-উপনিবেশে পরিণত করে। সিলন ১৯৪৮ সালে স্বাধীন হয়; ১৯৭২ সালে নাম পরিবর্তন করে শ্রীলঙ্কা রাখা হয়।

শ্রীলঙ্কা সরকার এবং তামিল টাইগারদের মধ্যে ত্রিশ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়। তামিল টাইগাররা তামিল-ভাষী সংখ্যালঘুদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবীতে লড়াই করছিল। এই যুদ্ধে আনুমানিক ১,০০,০০০ মানুষ মারা যায় এবং দেশের অনেক অংশ ধ্বংস হয়ে যায়, বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চল। ২০০৯ সালের মে মাসে সরকারের জয়ের মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ হয়, কিন্তু এর পরিণতি অব্যাহত থাকে এবং ব্যাপক অভিবাসন এখনও জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিচ্ছে।

২০০৯ সালের পর, গোতাবায়া রাজাপক্ষে এবং তার পরিবারের অভিজাত প্রশাসনের অধীনে গৃহযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হয়। তবে, দেশটির উন্নয়নের জন্য সরকার বিদেশী ঋণের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। কৃষি উৎপাদন ধ্বংসকারী সার-বিরোধী নীতি, ভারসাম্যহীন অর্থনৈতিক কাঠামো, দুর্নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার মিশ্রণ অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ২০২২ সালে, বছরব্যাপী গণ-বিক্ষোভের ফলে রাজাপক্ষে সরকারের পতন ঘটে এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে একটি বিরোধী মধ্য-বাম জোট ক্ষমতায় আসে। তবে, দেশটির বেশিভাগ সমস্যার এখনও সমাধান হয়নি এবং ২০২৫ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক সংকট অব্যাহত রয়েছে।

জলবায়ু

[সম্পাদনা]
দ্বীপের উত্তর ও পূর্বের তুলনায় পার্বত্য দক্ষিণ-পশ্চিমে বৃষ্টিপাত অনেক বেশি হয়।

শ্রীলঙ্কা গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশ হওয়ায়, বছরের বেশিরভাগ সময় আপনি বৃষ্টিপাতের আশা করতে পারেন। তবে এখানে দ্বীপের ভিন্ন ভিন্ন অংশে বছরে দুবার আলাদা বর্ষাকাল হয়।

প্রধান দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়ালা মৌসুমি বায়ু এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত পশ্চিম, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং পার্বত্য অঞ্চলে প্রবাহিত হয়। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত কম তীব্র উত্তর-পূর্ব মহা মৌসুমি বায়ু পূর্ব উপকূলে আঘাত হানে। এছাড়াও অক্টোবর-নভেম্বরে সারা দেশে সাধারণত অস্থির আবহাওয়া লক্ষণীয়। এই কথা বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে প্রযোজ্য, যেখানে জানুয়ারী-মার্চ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রৌদ্রোজ্জ্বল থাকে।

দুটি আলাদা আলাদা বর্ষার ফলে, শ্রীলঙ্কার কোথাও না কোথাও সবসময় ভালো আবহাওয়া থাকে। দেশের এক অংশ থেকে অন্য অংশে জলবায়ু নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, কেন্দ্রীয় শ্রীলঙ্কার পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত নুয়ারা এলিয়ায় সারা বছর তাপমাত্রা -৫ থেকে ২০° সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে, আবার শুষ্ক অঞ্চলে অবস্থিত হাম্বানটোটায় তাপমাত্রা ৩০-৩৫° সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে। দ্বীপটিকে মোটামুটিভাবে আর্দ্র এবং শুষ্ক অঞ্চলে ভাগ করা যেতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিমের পাহাড়গুলি পশ্চিমা বাতাস থেকে আর্দ্রতা গ্রহণ করে, যার ফলে একটি আর্দ্র অঞ্চল তৈরি হয়। উত্তরভাগ সমতল এবং শুষ্ক থাকে এবং পূর্ব উপকূলে বাতাস পৌঁছানোর সময় আর্দ্রতা কমে যায়।

সাধারণত শ্রীলঙ্কায় সারা বছর খুব গরম তাপমাত্রা থাকে, যে কারণে বেশিরভাগ স্থানীয় পুরুষরা সারং পরেন এবং মহিলারা হালকা লম্বা পোশাক পরেন।

ধর্ম মূলত জাতিগতভাবে বিভক্ত, সিংহলী সংখ্যাগরিষ্ঠরা প্রায় সম্পূর্ণ বৌদ্ধ, অন্যদিকে তামিল সংখ্যালঘুরা বেশিরভাগই হিন্দু, তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খ্রিস্টান এবং মুসলিম সংখ্যালঘুও আছে।

ভূমিরূপ

[সম্পাদনা]

বেশিরভাগই নিচু, সমতল থেকে ঢালু সমভূমি; দক্ষিণ-মধ্য অভ্যন্তর পাহাড়ি।

  • সর্বোচ্চ শৃঙ্গ: পিদুরুতালাগালা, ২,৫২৪ মিটার।
  • দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ: কিরিগালপোথ্থা (হর্টন সমভূমি) ২,৩৮৮ মিটার।
  • তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ: থোটুপোলা কান্দা (হর্টন সমভূমি) ২,৩৫৭ মিটার।

ভ্রমণকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য

[সম্পাদনা]

প্রবেশ করুন

[সম্পাদনা]
সতর্কতা টীকা: শ্রীলঙ্কান পুলিশ গৌতম বুদ্ধ বা অন্য কোনো ধর্মীয় প্রতীকের ট্যাটু আছে এরকম ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও দেশ থেকে বহিষ্কার করতে পারে। আপনার এরকম কোনো ট্যাটু থাকলে শ্রীলঙ্কা যাওয়া পরিহার করুন, যেতে হলে সর্বদা ট্যাটুটি ঢেকে রাখুন।
মানচিত্রে শ্রীলঙ্কায় ভিসার প্রয়োজনীয়তা চিত্রিত, সোনালী রঙে চিহ্নিত দেশগুলিতে 'ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমোদন' সহ ভিসা অন অ্যারাইভালের(পৌঁছানোর পর ভিসা আবেদন করতে পারবেন, আগে থেকে করে রাখতে হবে না) ব্যাবস্থা রয়েছে।

ভিসা সংক্রান্ত নিয়মাবলী

[সম্পাদনা]

অধিকাংশ দেশের নাগরিকরাই অনলাইনে 'ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমোদন'(ETA) এর আবেদন করতে পারবেন। ব্যাতিক্রম হচ্ছে মালদ্বীপ, সেশেলস, চেক প্রজাতন্ত্রসিঙ্গাপুর; এখনকার নাগরিকদের ইটিএর প্রয়োজন হয় না। এতে শ্রীলঙ্কায় ৩০ দিন থাকা যায়। ইটিএ ছয়মাস বৈধ থাকে। অনলাইন আবেদন শ্রীলঙ্কায় প্রবেশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে করে রাখতে হয়। তারপর ইটিএ পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের হিসেব অনুযায়ী সার্ক (সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কোঅপারেশন) ভুক্ত দেশগুলির (নেপাল, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, মালদ্বীপ) নাগরিকদের জন্য ভিসা মূল্য ২০ মার্কিন ডলার। অন্যান্যদের জন্য ভিসা মূল্য ৫০ মার্কিন ডলার। অতিরিক্ত ২ ডলার লাগে প্রসেসিং ফি হিসেবে। নিয়মানুযায়ী আবেদনের ২ দিনের মধ্যে ইটিএ পাওয়ার কথা। বাস্তবে টাকা দিয়ে দেওয়ার ১০-২০ মিনিটের মধ্যেই ইটিএ পাওয়া যায়। ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ট্রানজিট ভিসা বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

আগে থেকে ইটিএ না করে রাখলে বন্দরনায়কে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিসা ডেস্ক থেকে ৬০ মার্কিন ডলার দিয়ে পর্যটক ভিসা করাতে পারবেন। তাই শ্রীলঙ্কায় আসার জন্য আগে থেকে অনলাইন ভিসা করানো বাধ্যতামূলক নয়।

২০২৫ সালে ফেরত যাওয়ার রিটার্ন টিকিট (ভিসায় এর প্রয়োজনীয়তা লেখা থাকে) আদৌ আছে কিনা দেখা হয় না, বিশেষত পশ্চিমাদের কাছে। যদি পরীক্ষা করে দেখা হয় এবং আপনার কাছে না থাকে তবে তখনই বিমানবন্দরের ওয়াইফাই ব্যবহার করে কেটে নিতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ: কলম্বো বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ অনলাইনে প্রাপ্ত আপনার ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমোদনের পাসপোর্ট নম্বরের নির্ভুলতার বিষয়ে খুবই কঠোর। একক সংখ্যার ভুল আপনাকে নতুন ভিসা কিনতে বাধ্য করার এবং আপনার অনলাইন পেমেন্টের অর্থ ফেরতের জন্য কলম্বোর কোনও অজ্ঞাত সরকারি অফিসে পাঠানোর কারণ হিসেবে ধরা হয়। 1 ও I এবং 0 ও O সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। নম্বরটি আপনার পাসপোর্টের যন্ত্রপাঠ্য অংশের সাথে হুবহু মিলতে হবে, অন্য কিছুর সাথে নয় (উদাহরণস্বরূপ, রুশ পাসপোর্টে একটি অ-আলফানিউমেরিক প্রতীক থাকে যা সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া উচিত)।

শ্রীলঙ্কার ভিসা পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি দীর্ঘ আলোচনা এখানে পাওয়া যাবে।


ভিসা সম্প্রসারণ

[সম্পাদনা]

ইটিএ শ্রীলঙ্কায় সহজে পাওয়া যায় ঠিকই কিন্তু ভিসার মেয়াদ বাড়াতে গেলেই আমলাতান্ত্রিক দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হতে হয়। দুশ্চিন্তা ও হতাশা থেকে বাঁচতে এজেন্টের সাহায্য নেওয়া সম্ভবত সবচেয়ে ভালো। আপনি যদি নিজে করাতে চান, তাহলে আপনাকে শ্রী সুভূতিপুরা রোড, বাত্তারামুল্লায় অবস্থিত অভিবাসন দপ্তরের কার্যালয়ে (ফোন নম্বর +94 11 532–9000; সোম-শুক্র ০৯:০০-১৬:৩০ খোলা থাকে) "সুহুরূপায়া"য় যেতে হবে। অনলাইনেও আবেদন করা সম্ভব, তবে বেশিরভাগ পর্যটক কখনও কোনও পেমেন্ট অর্ডার পাননা এবং তাদের ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হতে হয়। তাই, কলম্বোতে থাকাকালীন পৌঁছানোর সাথে সাথেই ভিসা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা ভাল।

ভিসার মেয়াদ সম্প্রসারণ আপনাকে প্রাথমিক ৩০ দিনের প্রবেশ ভিসার বাইরে দেশে অতিরিক্ত ১-৬ মাস সময় দেয়। দেশে প্রবেশের পর থেকে আপনার ভিসার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপনি যেকোনো সময় আবেদন করতে পারেন। এর বাইরের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি অভিবাসন দপ্তরের বিবেচনার ভিত্তিতে করা হয়, এবং এর জন্য ১৫,০০০ রুপি ফি এবং এক্সটেনশন ফি দিতে হয়। প্রথম ৯০ দিনের মেয়াদ বৃদ্ধির ফি সম্পর্কে উপরে দেখুন।

ভিসা এক্সটেনশন ফি

অভিবাসন দপ্তর মার্কিন ডলারে খরচ নির্ধারণ করে, তবে আপনাকে ২০২৫ সালের হিসাবে শ্রীলঙ্কান রুপিতে ১০,০০০ টাকা দিতে হবে। সম্প্রসারণের জন্য আপনার পাসপোর্ট এবং পরবর্তী টিকিট প্রয়োজন হয়। শ্রীলঙ্কায় আপনার প্রস্তাবিত অবস্থান আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে দুই মাস আগে শেষ হতে হবে।

অভিবাসন দপ্তর সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ০৮:৩০ এর একটু আগে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে, একজন কর্মী সাধারণত ০৭:০০ থেকে ০৭:৩০ এর মধ্যে লাইন নম্বর দিতে শুরু করে এবং ফর্ম তৈরি করে, তাই তাড়াতাড়ি পৌঁছান।

২০১৫ সালের গ্রীষ্মে করা হিসেবের উপর ভিত্তি করে, আপনি যদি ০৭:০০ নাগাদ পৌঁছান তাহলে মোট প্রায় আড়াই ঘন্টা লাগবে: ০৭:১৫ নাগাদ টিকিট নিন, ০৮:৩০ এ নথিপত্র জমা দিন, ০৯:০০ য় টাকা জমা দিন, ০৯:৩০ নাগাদ পাসপোর্ট ফেরত নিন। আপনি যদি ০৮:৩০ এ পৌঁছান, ওইসময় ভিড় হতে শুরু করে এবং ৩-৪ ঘন্টা লাগতে পারে। ০৯:৩০ র পরে পৌঁছালে কমপক্ষে ৪ ঘন্টা সময় লাগবে। ১১:৩০ এর পরে পৌঁছানোর কোনও লাভ নেই, কারণ পেমেন্ট কাউন্টার ২:৩০ এ বন্ধ হয়ে যায়; যদি আপনার ২:৩০ এর আগে পেমেন্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাক-প্রক্রিয়াকরণ শেষ না হয়, তাহলে আপনাকে পরের দিন আবার আসতে হবে।

এজেন্টরা আপনার জন্য ভিসা এক্সটেনশন করতে পারে: আপনার পাসপোর্ট এবং অন্য নথিপত্র নিয়ে যায়, লাইনে অপেক্ষা করে, ফি প্রদান করে, ইত্যাদি, তারপর আপনাকে পাসপোর্ট ফেরত দেয়। বৃহত্তর ভ্রমণকারী দলগুলি ভিসা সম্প্রসারণের জন্য এই এজেন্টদের ব্যবহার করে। এজেন্টরা পরিচিত লোক: তারা আগে পৌঁছায় এবং প্রথম সারির নম্বর পায়। অনেক পর্যটকের কাজ করাবে এরকম কোনো এজেন্টের পরে লাইনে দাঁড়ালে আপনার অনেক বেশি সময় নষ্ট হবে। স্বাধীন ভ্রমণকারী হিসাবে সর্বোত্তম পরামর্শ হল স্থানীয় এজেন্টদের আগেই ০৭:০০র আগে পৌঁছান, প্রবেশদ্বারের ঠিক পরে বাম দিকে কাঠের ডেস্কে অপেক্ষা করুন ও এজেন্টদের বেলাইন করতে দেবেন না।

আকাশ পথে

[সম্পাদনা]
কলম্বো বিমানবন্দর

শ্রীলঙ্কায় দুটি সক্রিয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। প্রধান এবং সবচেয়ে কার্যকর বিমানবন্দর হল 'কলম্বো-বন্দরানায়কে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর' (CMB  আইএটিএ), কলম্বোতে (৩৫ কিমি) যেতে ট্যাক্সিতে প্রায় এক ঘন্টা সময় লাগে। দেশের সুদূর উত্তরে অবস্থিত 'জাফনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর' থেকে চেন্নাই থেকে প্রতিদিন দুটি এবং তিরুচিরাপল্লী থেকে একটি দৈনিক ফ্লাইট চলে। প্রসঙ্গত, এই দুটি গন্তব্যস্থলই ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে অবস্থিত এবং শ্রীলঙ্কার উত্তরে তামিলরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। 'মাত্তালা রাজাপক্ষে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর' (হাম্বানটোটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর,HRI  আইএটিএ), দেশের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত কিন্তু এখানে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের পরিষেবা নেই।

'শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্স' হলো পতাকাবাহী বিমান সংস্থা, এরা ইউরোপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য, ভারত এবং পাকিস্তান জুড়ে শহরগুলি থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করে। শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি গন্তব্যগুলিতেও উড়ান চালায় যথা চেন্নাই, তিরুবনন্তপুরম, মুম্বাই, দিল্লি, কোচি, বেঙ্গালুরু এবং মালদ্বীপ। যদি আপনাকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের মধ্যে ৮-৪৮ ঘন্টার জন্য এখানে ট্রানজিট করতে হয়, তাহলে বিমান সংস্থাটি বিনামূল্যে ট্রানজিট থাকার ব্যবস্থা এবং খাবার প্রদান করে (২০২৩ সালের জুলাই পর্যন্ত বিমানবন্দরের কাছে ফুল মুন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে) এবং অনুরোধ করলে বিনামূল্যে গ্রুপ ভ্যান ভ্রমণের জায়গাও প্রদান করে। আপনাকে কমপক্ষে ৪৮ ঘন্টা আগে বিমান সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে অনুরোধ করতে হবে। আগে থেকে বুকিং না করলে বিনামূল্যে ট্রানজিট থাকার ব্যবস্থা করা হয় না।

'এমিরেটস', 'এতিহাদ', 'কাতার এয়ারওয়েজ', এবং 'ওমান এয়ার' সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, দোহা, এবং মাস্কটের মাধ্যমে কলম্বোর সাথে অনেক ইউরোপীয় ও অন্যান্য শহরকে সংযুক্ত করে।

'ফ্লাই দুবাই' দুবাই, 'এয়ার এশিয়া' সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, এবং ব্যাংকক, 'ইন্ডিগো' ভারতের অনেক শহর এবং 'রয়েল জর্ডানিয়ান' আম্মান পর্যন্ত বিমান চালায়।

উত্তর আমেরিকা থেকে

[সম্পাদনা]

এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের বাইরের কোনো শহর থেকে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছানোর জন্য কোনও সরাসরি ফ্লাইট নেই। আমেরিকান পশ্চিম উপকূল থেকে শ্রীলঙ্কার দূরত্ব পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় অর্ধেক। আপনার পছন্দ এবং অবসর সময়ের উপর নির্ভর করে, আপনি ইউরোপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া/পূর্ব এশিয়া বা মেলবোর্নে স্টপওভার বিবেচনা করতে পারেন অথবা শিকাগো, নিউয়ার্ক, নিউ ইয়র্ক শহর (জেএফকে), অথবা টরন্টো থেকে নয়াদিল্লি বা মুম্বাই যাওয়ার জন্য উত্তর মেরুর উপর দিয়ে একটি নন-স্টপ ফ্লাইট নিতে পারেন। এটাই সম্ভবত দ্রুততম রুট, তবে আপনার ভারতীয় ট্রানজিট ভিসার প্রয়োজন কিনা তা দেখুন। আরেকটি দ্রুত এবং সহজ উপায় হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো বিমান সংস্থা ব্যবহার করা যাদের কাতার, বাহরাইন বা সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর স্টপওভার রয়েছে (এক্ষেত্রে কোনও ট্রানজিট ভিসার প্রয়োজন হয় না)। উদাহরণস্বরূপ, দুবাই-ভিত্তিক এমিরেটস SFO, LAX, হিউস্টন (IAH) এবং টরন্টো (YYZ) থেকে প্রতিদিন ফ্লাইট অফার করে যেখানে কলম্বোতে সংক্ষিপ্ত ফ্লাইটের আগে খুব অল্প সময়ের জন্য স্টপওভার থাকে। এমিরেটস এয়ারলাইন্স দুবাই থেকে প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার কলম্বোতে বিরতিহীন পরিষেবা প্রদান করে। শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্স ওয়ানওয়ার্ল্ড জোটের অংশ যা আমেরিকান এয়ারলাইন্স এবং বেশ কয়েকটি এশিয়ান, ইউরোপীয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইন্সের সাথে টিকিটের মাধ্যমে পরিষেবা প্রদান করে।

জল পথে

[সম্পাদনা]

২০২৫ সালে, সেইল শুভম তামিলনাড়ুর নাগপট্টিনাম এবং শ্রীলঙ্কার উত্তর জাফনার কাঙ্কেসান্তুরাইয়ের মধ্যে নিয়মিত ফেরি পরিষেবা পরিচালনা করে। এই ফেরি সপ্তাহে একাধিকবার চলাচল করে এবং নাগপট্টিনাম বন্দর (বাতিঘরের কাছে অবস্থিত) থেকে সকাল ৭:৩০ মিনিটে ছেড়ে যায় এবং কাঙ্কেসান্তুরাইয়ে ১১:৩০ মিনিটে পৌঁছায়। ভ্রমণকারীদের অভিবাসন, নিরাপত্তা এবং শুল্ক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ০৬:০০ মিনিটের মধ্যে বন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ফেরিটির অবস্থা ভালো এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।

২০২৫ সালের এপ্রিল অনুযায়ী, একমুখী টিকিটের দাম ৪,৫০০ টাকা, যা ক্রেডিট কার্ড বা ইউপিআইএর মাধ্যমে অনলাইনে কেনা যায়। কাঙ্কেসান্তুরাই বন্দরে অভিবাসন এবং শুল্ক পরীক্ষা দক্ষতার সাথে পরিচালিত হয়। সাইকেল সহ উল্লেখযোগ্য লাগেজ নিয়ে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়, যদিও আকার এবং ওজনের উপর নির্ভর করে অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হতে পারে।

পুরাতন তুতিকোরিন (ভারত) - কলম্বো যাত্রীবাহী ফেরি পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রয়েছে। তুতিকোরিনের কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, তুতিকোরিন বন্দর থেকে শ্রীলঙ্কায় যাত্রী পরিবহন করা পণ্যবাহী জাহাজের জন্য অবৈধ।

ঘুরে দেখুন

[সম্পাদনা]
লাল বাসটি পাবলিক এবং নীল বাসটি প্রাইভেট, জাফনায় ট্রেনের পিছন থেকে তোলা ছবি

শ্রীলঙ্কার প্রায় সব পর্যটনকেন্দ্র সংলগ্ন অঞ্চলেই কার্যকরী গণপরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে স্বাধীনভাবে ভ্রমণ এদেশে খুবই সহজ। স্থানীয়দের নিয়ম না মেনে গাড়ী চালানোর কারণে সড়কপথ বিপজ্জনক মনে হতে পারে — #নিরাপদ থাকুন অংশে বিস্তারিত দেখুন। বাস ভ্রমণ করার সবচেয়ে আকর্ষণীয় উপায় বলে মনে হয় না; মাঝে মাঝে প্রচুর ভিড় হয় (বিশেষ করে ছুটির দিনে), সেইসঙ্গে সাধারণত জিনিসপত্র রাখার জায়গার অভাব থাকে। তা সত্ত্বেও স্থানীয়দের সাথে মিশতে চাইলে বাসে চড়া উচিত। শ্রীলঙ্কায় বাসে চড়ার খরচা কম এবং ঘনঘন বাসস্টপ থাকাটাও একটা ইতিবাচক দিক। বাস প্রাইভেট না পাবলিক, এক্সপ্রেস না স্থানীয় তার ওপর নির্ভর করে খরচা কম-বেশি হতে পারে, খেয়াল করে উঠবেন। অতীতে একা ভ্রমণকারী মহিলাদের হয়রানি ছিল সাধারণ ঘটনা, তবে এখন অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয়।

শ্রীলঙ্কায় বাস সস্তা। বাস সর্বত্র পাওয়া যায়, যদিও নিরাপত্তা এবং ব্যবহারযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। বিদেশীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হতে পারে - সঠিক ভাড়া পেতে আপনার গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই টিকিট চেয়ে নিন, অথবা আগে থেকে স্থানীয় বাসচালকের সাথে যোগাযোগ করুন। কয়েক দিন অভ্যেস হয়ে গেলে আপনি নিজেই সঠিক দাম আন্দাজ করতে পারবেন। মোটামুটি গড় হিসাব অনুযায়ী, একটি সাধারণ স্থানীয় বাসের দাম ৫-১০ রূপী/কিমি হওয়া উচিত, যত দূর তত সস্তা (৫ কিমি ~ ৫০ রূপী, এবং ৪০ কিমি ~ ২০০ রূপী), এর বেশি চাইলে ধরে নিতে পারেন আপনার কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। শহরে বাস পরিষেবা রাত ১২:০০ নাগাদ শেষ হয়। গুগল ম্যাপ বাস স্টপের তালিকায় বাস রুট এবং সময়সূচী সম্পর্কে অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদর্শন করে। গুগল ম্যাপে সেরা বাসের সময়সূচীর তথ্য বাস ডিপোতে দেখা যায়; রাস্তার পাশের স্টপে সাধারণত কোনও রুট নির্দেশিত থাকে না। রিভিউ পরীক্ষা করুন, কারণ কখনও কখনও পর্যালোচকরা বাস স্টপে উপলব্ধ সময়সূচীর ছবি সংযুক্ত করে দেন।

শ্রীলঙ্কায় তিন রকম বাস রয়েছে: পাবলিক, প্রাইভেট এবং বিলাসবহুল। 'পাবলিক বাস' শ্রীলঙ্কা পরিবহন বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হয়।এগুলি অত্যন্ত সাধারণ, লাল রঙের বাস। পাবলিক বাস নেটওয়ার্কের রুট এবং সময়সূচী সহজেই অনুসন্ধান করা যায় এই ওয়েবসাইটে। 'প্রাইভেট বাস' রাস্তায় অনেক বেশি দেখা যায়। এগুলিও অত্যন্ত সাধারণ, সাধারণত লালের পরিবর্তে নীল রঙ করা হয়, তবে অনেক সাজানো-গোছানো থাকে। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন এসব বাসের অধিক অর্থ উপার্জনের জন্য বিপজ্জনকভাবে দ্রুত গাড়ি চালানো এবং যতটা সম্ভব যাত্রী ভর্তি করার কুখ্যাতি রয়েছে। পাবলিক এবং প্রাইভেট উভয় বাসেরই উইন্ডস্ক্রিনের উপরে একই ধরণের রুট সাইনবোর্ড থাকে।

আপনি যদি পয়সা খরচ করার পরিকল্পনা করেন (তুলনামূলকভাবে বলতে গেলে), 'বিলাসবহুল বাস' ( এ/সি বাস) কিছু (বিশেষ করে পর্যটন) রুটে দ্বিগুণ দামে চলে, এতে অনলাইন বুকিং, এয়ার-কন্ডিশনিং এবং রিসার্ভ করা আসনের সুবিধা পাবেন। তবে, এগুলি এখনও কিছুটা অস্বস্তিকর। বিলাসবহুল বাস কোম্পানির মধ্যে রয়েছে সুপারলাইন এবং এনসিজি এক্সপ্রেস। অনেক কোম্পানির বাস বাস সিট ওয়েবসাইট থেকে বুক করা যায়। এই সব বাস 12GO তেও বুক করা যায় কিন্তু ১০-২০% দাম বেশি লাগে।

দেশটির বাস নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন। জাতীয় পরিবহন কমিশনের ওয়েবসাইটটি জগাখিচুড়ি হয়ে পড়ে আছে। প্রত্যেক প্রদেশ তাদের নিজস্ব বাস নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে, তাই কোনও কেন্দ্রীয়, হালনাগাদ করা বাস রুট ডাটাবেস নেই। সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সরকারী মূল্য ব্যবস্থা অনলাইনে (সিংহলী ভাষায়) দেখতে পারেন, মনে রাখবেন প্রাইভেট বাস কখনও কখনও আরও সস্তা হয়। এছাড়াও, আপনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলি এখানে খুঁজে পেতে পারেন। বাস ভাড়া দেওয়ার সময়, কন্ডাক্টর কখনও কখনও আপনার দেওয়া যেকোনো নোট পকেটে রাখতে পারেন এবং আপনাকে টিকিট বা কোনও পরিবর্তন নাও দিতে পারেন। সমস্ত যাত্রীর টিকিট থাকা বাধ্যতামূলক। টিকিটের জন্য জোর দিন, এবং ভাড়া কত তা জিজ্ঞাসা করুন এবং সঠিক ভাড়া দেওয়ার চেষ্টা করুন।

শ্রীলঙ্কার বাস স্টেশন বিভ্রান্তিকর জায়গা, কিন্তু প্রায় সকলেই ইংরেজি অনুশীলন করতে এবং আপনাকে সাহায্য করতে পেরে আনন্দিত হবে। বাসে ভ্রমণ করার সময়, বাসে ওঠা যেকোনো সন্ন্যাসী বা পুরোহিতকে সামনের যাত্রী আসন ছেড়ে দেওয়া স্থানীয় শিষ্টাচার।

আপনি যদি আগে পৌঁছান এবং হালকা ভ্রমণ করেন তবে বাস ভ্রমণ সহজ হতে পারে। যদি আপনার প্রচুর লাগেজ থাকে, তাহলে আপনার ব্যাকপ্যাক কোলে বা পায়ের নীচে রাখতে না চাইলে আলাদা টিকিট কেনার কথা বিবেচনা করুন। টিকিট যথেষ্ট সস্তা তাই অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।


ট্রেনে

[সম্পাদনা]
শ্রীলঙ্কার রেলপথের মানচিত্র

শ্রীলঙ্কায় উত্তর ছাড়া সকল প্রধান শহর ও নগরে "বিস্তৃত রেল ব্যবস্থা" রয়েছে। প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর ট্রেন যথেষ্ট আরামদায়ক। সরাসরি টিকিট কিনলে সস্তা হবে। আপনি সর্বদা যেকোনো স্টেশনে রিজার্ভেশন ছাড়াই তৃতীয় শ্রেণীর টিকিট কিনতে পারেন, দ্বিতীয় শ্রেণীর টিকিটও কিছু ক্ষেত্রে পাওয়া যায়।

প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর টিকিট আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ দিন আগে প্রতিদিন সকাল ১০:০০ স্থানীয় সময়ে বিক্রি শুরু হয়। অনেক অসৎ ব্যাক্তি এই টিকিট কিনে নিয়ে বিদেশীদের বেশি দামে বিক্রি করে। আপনি সরাসরি অনলাইনে টিকিট কিনতে সক্ষম হলে আপনাকে আপনার ইমেল করা রসিদ আসল টিকিটে রূপান্তর করতে হবে নির্দিষ্ট স্টেশনে

পাহাড়ের উপরে আঁকাবাঁকা পথের কারণে শ্রীলঙ্কার রেল ব্যবস্থা পাহাড়ি অঞ্চলে প্রবেশের সময় মনোরম। ট্রেনে ভ্রমণ আলাদা করে মনে রাখার মতো একটি অভিজ্ঞতা, তা সে কেন্দ্রীয় শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ হোক বা উপকূলীয় লাইনে ভ্রমণ করা হোক। এক্সপ্রেস ট্রেন বেছে নেওয়াই ভালো, এবং যদি সম্ভব হয় আগে থেকে রিজার্ভেশন করে নেওয়ার চেষ্টা করুন। পর্যটকদের জন্য দৃশ্য উপভোগ করার জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষণ গাড়ি রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে লাইনে অন্য গাড়ী আছে কিনা তার ওপর নির্ভর করে ট্রেন বাসের চেয়েও ধীর হতে পারে। তবে সর্বদাই বাসের চেয়ে বেশি আরামদায়ক এবং সস্তা।

আপনি ট্রেনের সময়সূচী এবং দাম অনলাইনে দেখতে পারেন; শুধুমাত্র স্টেশনের মধ্যে সরাসরি সংযোগ দেখানো হয়। পাহাড়ে ট্রেন প্রায়শই বিলম্বিত হয়, তবে অতিরিক্ত ট্রেন থাকতে পারে — স্টেশনে জিজ্ঞাসা করুন! একটি সামান্য বেশি ব্যবহারকারী-বান্ধব ওয়েবসাইট আছে এখানে ভাড়া এবং দূরত্ব সম্পর্কে জানতে পারবেন।

রেলওয়ে গাড়ির তিনটি শ্রেণী রয়েছে, যদিও প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণী শুধুমাত্র কিছু আন্তঃনগর এবং এক্সপ্রেস ট্রেনে পাওয়া যায়। তৃতীয় শ্রেণীতে ভ্রমণ করা যতটা খারাপ শোনায় ততটা খারাপ নয়। তৃতীয় এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর মধ্যে পার্থক্য হল আসনের মধ্যে আর্মরেস্টের অভাব। আন্তঃনগর এবং এক্সপ্রেস ট্রেনগুলিতে রিজার্ভ করা গাড়ি থাকে যা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে আগে থেকে বুক করা যায়।

ট্রেনে কখনও কখনও ভিড় থাকে, বিশেষ করে সকাল এবং শেষ বিকেলে। এছাড়াও, পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় লাইনগুলির জন্য পর্যবেক্ষণ গাড়ির আসন (যেমন কলম্বো-কান্ডি লাইন) পর্যটনের মৌসুমে বেশ কয়েক দিন আগে বুক করা হয়। তাই আগে থেকে রিজার্ভেশন করে রাখা উচিত: আরও তথ্যের জন্য শ্রীলঙ্কা রেলওয়ে এবং শ্রীলঙ্কায় ট্রেন ভ্রমণ দেখুন।

ট্রেন সহজলভ্য থাকলে বাসের তুলনায় ভালো বিকল্প প্রদান করে। স্ট্যান্ডার্ড ট্রেন ক্ষেত্রবিশেষে বেসরকারি বাসের তুলনায় সামান্য বেশি ব্যয়বহুল। ট্রেনের আরেকটি সুবিধা হলো প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর ট্রেনের টিকিট বেশ কয়েক দিন আগে থেকে বুক করা যায়। শ্রীলঙ্কান রেলওয়ের ইংরেজিতে একটি কার্যকর ওয়েবসাইট রয়েছে। কোনও অফিসিয়াল স্মার্টফোন অ্যাপ নেই তবে একটি কিছুটা কার্যকর অনানুষ্ঠানিক বিকল্প আছে।

কান্দি এবং বাদুল্লার মধ্যে ট্রেন ভ্রমণ দর্শনীয় দৃশ্যের জন্য বিশেষভাবে বিখ্যাত - বিশেষ করে নুয়ারা এলিয়া এবং এলার মধ্যে। যদি সম্ভব হয়, তাহলে বাদুল্লার দিকে যাওয়ার সময় ট্রেনের ডান পাশে বসুন, আরও ভালো প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে পাবেন।

শ্রীলঙ্কায় এখন ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ট্রেন পরিষেবা আর চলে না। এক্সপোরেল এবং রাজধানী এক্সপ্রেস পূর্বে নির্দিষ্ট গন্তব্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং পরিষেবাপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণীর রেলওয়ে গাড়ি পরিচালনা করত।

তিনচাকায়

[সম্পাদনা]
Three-wheelers waiting for fares at Nuwara Eliya

শ্রীলঙ্কায় পরিবহণের আরেকটি সাধারণ মাধ্যম হল তিন চাকার গাড়ি যা তিনচাকা বা থ্রি হুইলার, ট্রাই-শ) বা টুক-টুক নামে পরিচিত। এগুলো ট্যাক্সির সঙ্গে তুলনীয় এবং ঘুরে বেড়ানোর জন্য সুবিধাজনক এবং সাশ্রয়ী উপায়। তবে টুকটুকে নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়, কারণ এতে কোনো রকম সিট বেল্ট থাকে না এবং দুই পাশ সম্পূর্ণ খোলা থাকে। কলম্বো-বন্দরনায়কে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এগুলি অনুমোদিত নয়, তাই কোনও টুক-টুক চালককে আপনার প্রস্থানের সময় তাকে ভাড়া করার জন্য আপনাকে বলতে দেবেন না।

শ্রীলঙ্কায় এই টুকটুক সর্বত্র পাওয়া যায়। যেকোনো রাস্তায়, আপনাকে কয়েক মিনিটের বেশি অপেক্ষা করতে হবে না, পাশ দিয়ে আপনি হাত নাড়তে পারবেন। লাগেজ নিয়ে ভ্রমণ করলে ব্যাগ রাখার জন্য আরও জায়গা সহ সামান্য বড় তিন চাকার গাড়ি রয়েছে। এই বড়ো টুকটুক অভিনব হলেও সব পরিস্থিতিতে সাশ্রয়ী নয়। গণপরিবহন সস্তা কিন্তু বেশিরভাগ তিনচাকার চালক বিদেশীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাই, কখনওই প্রথম দামে রাজি হবেন না, অথবা নীচে উল্লেখিত অ্যাপ ব্যবহার করবেন না। আপনি প্রতি কিলোমিটারে সবচেয়ে ভালো দাম পেতে পারেন প্রায় ৭০-১০০ টাকা। যদি আপনি মিটারযুক্ত ট্রাই-শ দেখেন তবে নিশ্চিত করুন যে মিটার চালু আছে। ট্যাক্সি কিছুটা বেশি ব্যয়বহুল তবে অনেক বেশি নিরাপদ। তবে, তিন চাকার গাড়িতে ভ্রমণ না করা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার নিজস্বতা আপনি অনুভব করতে পারবেন না।

তিন চাকার গাড়ি বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া যায়: ২০২৫ সালের হিসাবে, "পিকমি" এবং "উবের" সবচেয়ে জনপ্রিয়। দাম অনুমান এবং অন্যান্য চালকদের সাথে দর কষাকষির জন্যও এগুলি দুর্দান্ত। পর্যটকদের অ্যাপের উপর নির্ভর করাই ভাল, অন্য পদ্ধতিতে অযথা ঝামেলায় পড়বেন।

ট্যাক্সিতে

[সম্পাদনা]

Taxis are a better way of getting around Colombo than three wheelers, and they often turn out to be cheaper because they (should) use the meter. Rates are about US$0.55 and they have full day packages (ca. 8 hr and 80 km) for around US$40. They will also take you outstation for around US$0.30-0.35 per km with no waiting charges. You can also set up your own itinerary and travel around that way as opposed to whatever the tour operator tells you.

Alternatively to the meter, there is always Uber and PickMe. Use it to avoid the hassle!

You can also hire a driver with car for a day or for your whole holiday. Some drivers and guides are government-licensed; some are extremely knowledgeable and multilingual, specialising in historical and cultural knowledge, and environmental/natural history for your visits to the ancient sites and the natural reserves.

Of course, if you're not on a budget and especially if you're pressed for time, renting a car with driver for the whole or part of the journey can be a convenient way to follow your itinerary, and will in some cases allow you to see two sites on one day.

While not common at all, hitchhiking is very easy in Sri Lanka. The only challenge can be to find a suitable vehicle, because most are tuktuks, motorbikes, tour buses, and regular buses. However, there are enough trucks, regular cars, or vans on the road, so you often don't have to wait longer than 15 min.

While you will easily find buses in most places, for very remote destinations it can be more efficient to just hitch a ride instead of waiting 1 hr for the bus.

Locals usually don't demand money for a ride, unless you happen to catch a tout, but the bus fare (Rs 5-10/km) is a fair compensation if anyone is going to ask. Never pay a tuktuk or taxi fare – demanding such amounts would require a licence.

A tourist renting a tuk-tuk

You can also rent a tuk-tuk from various companies. Some of these companies offer more services than others. For example, some companies offer help with getting a Sri Lankan licence, free repairs, unlimited kilometers, and tuk-tuk features such as bluetooth speakers, an esky, lockable storage, and 24 hour phone support. Do your research.

While an international driving license is recommended in practise the police will not ask for it. The rule of the administration seems to be not to bother tourists too much and shield them from any corruption-related topics.

Rented cars are less prone to road accidents, which Sri Lanka is badly known for. Daily rates vary between Rs 5,000–10,000 per day excluding fuel, depending on the kind of car you want and whether you book via a hotel or travel agency that will take a commission.

You will need to bring your international driving license and get it validated by the Automobile Association of Sri Lanka to be able to drive on your own. You can opt to pay an agency to do this for you in advance. Otherwise, you must do it in Colombo, and it will take a day. You will find international car hire agencies in Colombo Airport and some local companies in Negombo's beach area.

Traffic is on the left. Some of the main roads are in good condition, but other roads are still narrow and bumpy, especially in the interior. Cyclists, pedestrians and animals are among the cars on the roads, don't expect them to pay any attention to you. Always honk if some situation comes up that could potentially result in an accident — this is the local way of driving, better honk more than less. Be prepared for traffic jams. Local driving habits are very different from those in the West and traffic is dangerous. Accidents and injuries are common.

Cinnamon Air aircraft

বিমানে

[সম্পাদনা]

Sri Lankan Airlines operates a seaplane service to destinations such as Nuwara Eliya, Kandy, Galle and elsewhere. This is perfect for photographers because you can get a bird's eye view. Also the seaplanes land on picturesque lakes and tanks (reservoirs) around the island.

Ratmalana Airport (RML  আইএটিএ) is a minor domestic airport 15 km from central Colombo. Two domestic airlines operate charter helicopter services from this airport.

By tour operator

[সম্পাদনা]

Tour operators are happy to get you a van and a driver who will take you all over the island but beware, the roads are bumpy and slow. If you book off-the-cuff when you arrive, ask to be shown on a map where you are going before agreeing to any 'tour' of the island and research before you arrive so that you have a clear idea of where you might like to travel. Senseless backtracking to lengthen the trip and increase the cost is a real danger, as is a driver's wish to take you on unwanted shopping expeditions in an effort to gain commission. Travel websites specialising in Sri Lanka are easily found and have greatly increased the choice that is readily available to independent travellers seeking tailor-made tours. The best of them will produce clearly-stated travel itineraries and some are flexible enough to make late changes to itineraries. Ask to see their booking conditions and anti-fraud policies.

দেখুন

[সম্পাদনা]
অনুরাধাপুরে অবস্থিত রুওয়ানওয়েলিসায়া স্তূপ

অনেক পর্যটনকেন্দ্রেই বিদেশিদের প্রবেশমূল্য স্থানীয়দের তুলনায় দশ গুণ বেশি। আর আজকাল এমনকি প্রত্যন্ততম বুদ্ধ মূর্তি বা জলপ্রপাত দেখার জন্যও ৩০০ বা ততোধিক শ্রীলঙ্কান রূপী দিতে হয়।

পবিত্র দাঁতের ধ্বংসাবশেষের মন্দির (ধলধা মালিগাওয়া) ষোড়শ শতাব্দীতে বুদ্ধের দাঁতের ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণের জন্য নির্মিত হয়েছিল। প্রথমে এই স্থাপনাটি শ্রীলঙ্কার রাজাদের জন্য প্রাসাদ হিসাবে নির্মিত হয়েছিল, যা পরে মন্দিরে রূপান্তরিত হয়। ১৯৮৩-২০০৯ সালের গৃহযুদ্ধের সময় সন্ত্রাসী হামলার ফলে ধ্বংস হওয়ার পরও এই স্থাপনাটি বহুবার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার অন্যান্য জনপ্রিয় দেখার জায়গা হচ্ছে:

২,৫০০ বছরেরও বেশি পুরনো ইতিহাসের সাথে সাথে শ্রীলঙ্কার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে এবং বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান দেশটির অন্যতম আকর্ষণ। আটটি স্বীকৃত স্থান সহ, শ্রীলঙ্কা দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বাধিক তালিকাভুক্ত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (শুধুমাত্র ভারতে এর চেয়ে বেশি আছে,৩০ টি)। বিশাল সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডস (তিনটি উচ্চভূমি উদ্যান সহ: হর্টন সমভূমি জাতীয় উদ্যান, নাকলস পর্বতমালা এবং পিক ওয়াইল্ডারনেস সুরক্ষিত অঞ্চল) ২০১০ সালে ঘোষিত হয়েছিল। এগুলি ছাড়াও, শ্রীলঙ্কা সরকার দুটি সম্ভাব্য বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান চিহ্নিত করেছে: সেরুইলা মঙ্গলা রাজা মহা বিহার এবং সেরুইলা থেকে শ্রী পাদ (পবিত্র পায়ের ছাপ মন্দির), মহাওয়েলি নদীর ধারে একটি প্রাচীন তীর্থযাত্রী পথ।

যাত্রাপথ

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: ভারতীয় উপমহাদেশের পবিত্র স্থান
ওয়েলিগামা সমুদ্রসৈকত

সার্ফিং

[সম্পাদনা]

নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত পূর্ব ও দক্ষিণের সমুদ্রসৈকতে সার্ফিং করা যায়। আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলে ওয়েলিগামায় সার্ফিং শুরু করতে পারেন। আরুগাম বে অঞ্চলটিও সাম্প্রতিককালে এজন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছে।

কাইটসার্ফিং

[সম্পাদনা]

পূর্ব সমুদ্রসৈকতে কাইটসার্ফিং করা যায়। সেথাওয়াদি ও কাপ্পালাদি লেগুন সংলগ্ন কালপিটিয়ায় কাইটসার্ফিং শেখানোর ভালো বন্দোবস্ত আছে, এখানকার জলবায়ুও এর উপোযোগী।

সাদা জলে র‍্যাফটিং

[সম্পাদনা]

র‍্যাফটিং সাধারণত ক্রান্তীয় বর্ষাবনে করা হয়, নৌকাচালকরা ফোলানো র‍্যাফট ব্যবহার করে ছোট জলপ্রপাত বেয়ে নিচে নামে। কিটুলগালা এই কার্যকলাপের জন্য বিখ্যাত।

স্নর্কেলিং

[সম্পাদনা]

হিক্কাদুয়ার কাছে স্নর্কেলিং করার জায়গা আছে। এখানে প্রচুর কচ্ছপ দেখতে পাবেন।

হাইকিং

[সম্পাদনা]

Horton Plains National Park offers a nice hiking opportunity to the spectacular view at World's End — quite pricey though.

Likewise Knuckles Mountain Range offers many guided hikes and campsites. Go to nearby Meermure if you are an individual traveller — at least two hikes and some climbing can be found here.

Around Adam's Peak many trails can be found, if you look properly — of course beside the peak itself. In addition, Delhousie (the base camp for Adam's Peak) connects to Gartmore Falls, which also have many trails, waterfalls and river pools in their proximity.

Another great destination is Dolukanda Mountain for an exciting day-hike with IG-finish.

Besides that, around Ella there is Ella Rock (Rs 1,000, but there are many free alternatives) and the popular railway tracks hiking.

Sunset in Mannar

পক্ষী দর্শন

[সম্পাদনা]

There are over 400 bird species in Sri Lanka, and over 30 of them are endemic. Bird watching is an excellent activity to take on during a visit to the island. The only requirement would be a binocular and a field guide which you can easily purchase from local bookshops and Plazas (When buying field guides, publications of Ceylon bird club and FOGSL (Field ornithology group Sri Lanka) are highly recommended.)

The best place for birdwatching is Kumana National Park, which is known for its multitude of vagrants and migrants. Places like Mannar and Chilaw are filled with migratory birds (mostly waders) during migrating seasons. If you want to see birds from deep forests, the best place for that is the Sinharaja Forest Reserve, the home to almost all the endemic birds of Sri Lanka. Another good place is Bundala National Park near Yala National Park.

তিমি দর্শন

[সম্পাদনা]

মিরিসায় অনেক কোম্পানি বন্দর থেকে তিমি দেখার বন্দোবস্ত করে থাকে। সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে নৌকো বিপজ্জনক ভাবে দুলবে, এব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারেন। শ্রীলঙ্কার সমুদ্রে তিমির সংখ্যা কম, তাই কয়েক ডজন তিমি-পর্যবেক্ষক নৌকা এদের তাড়া করে বেড়ায়। এতে অবশিষ্ট তিমিদের ওপর মানসিক চাপ পড়ে।

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দর্শন

[সম্পাদনা]

শ্রীলঙ্কার ইতিহাস ২৫০০ বছরেরও বেশি পুরনো। দ্বীপ জুড়ে অনেক প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। প্রত্নতত্ত্বে আগ্রহ থাকলে এগুলি দেখা উচিত। কেন্দ্রীয় প্রদেশের অনুরাধাপুর এবং পোলোন্নারুওয়া হলো সবচেয়ে বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখার স্থান।

ইতিহাস ও সংস্কৃতি

[সম্পাদনা]

সাংস্কৃতিক ভ্রমণ বছরের যেকোনো সময়েই করা যায়। আগস্ট মাসে কান্ডি গেলে বিখ্যাত এসালা পেরেহেরা বা দন্ত উৎসব দেখতে পাবেন। প্রাচীন নিদর্শন এবং বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলি ঘুরে দেখুন যা বছরের পর বছর ধরে অজস্র মানুষের মন মুগ্ধ করে চলছে। বিস্তারিত জানার জন্য লাভ শ্রীলঙ্কা ওয়েবসাইটটি দেখুন।

কেনাকাটা

[সম্পাদনা]

মুদ্রা

[সম্পাদনা]
শ্রীলঙ্কান রূপী-এর বিনিময় হার

জুলাই ২০২৫-এর হিসাবে:

  • ইউএস$১ ≈ Rs ৩০০
  • €১ ≈ Rs ৩৫০
  • ইউকে£১ ≈ Rs ৪১০
  • ভারতীয় ₹১০০ ≈ Rs ৩৫০

বিনিময় হার ওঠানামা করে। এই এবং অন্যান্য মুদ্রার বর্তমান রেট XE.com থেকে পাওয়া যায়

সরকারি মুদ্রা হলো শ্রীলঙ্কান রুপী, যা "''රු" বা "'Rs" (ISO কোড: LKR) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। ১ (পুরাতন সংস্করণ বড় এবং রূপালী, নতুন সংস্করণ অনেক ছোট এবং নকশা সামান্য পরিবর্তিত), ২ (রূপা), ৫ (স্বর্ণ ও রূপা), ১০ (রূপা) এবং ২০ টাকা (সাত-মুখী এবং রূপা) মূল্যের ধাতব মুদ্রা পাওয়া যায়। শ্রীলঙ্কার ব্যাংক নোট হয় ২০, ৫০, ১০০, ৫০০, ১,০০০ এবং ৫০০০ টাকার। ছিঁড়ে যাওয়া, বিকৃত বা লেখা ব্যাংক নোট কোনো দোকানে গ্রহণ করে না, ভেজা বা গোল করা নোটও গ্রহণ করে না। অন্যের থেকে টাকা নেওয়ার সময় কোনো কালির দাগ বা ছেঁড়া আছে কিনা ভালো করে দেখে নেবেন।

কান্ডির বাজারে মশলার দোকান

নোটে একাধিক জালিয়াতি-বিরোধী চিহ্ন রয়েছে যা ভ্রমণকারীদের জেনে রাখা উচিত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাম দিকে একটি জলছাপ, নোটের বাম এবং ডান প্রান্তের উঁচু সুতো এবং নোটের মাঝখানে চকচকে হলোগ্রাম স্ট্রিপ।

এটিএম

[সম্পাদনা]

শহর এবং শহরতলিতে অনেক এটিএম পাবেন। আপনি ডেবিট কার্ড (সিরাস, মায়েস্ট্রো, ভিসা ইলেকট্রন, ইত্যাদি) ব্যবহার করে টাকা তুলতে পারেন। সব এটিএম আন্তর্জাতিক কার্ড গ্রহণ করে না, এই ব্যাপারটি খেয়াল রাখবেন। বেশিরভাগ এটিএম এক দফায় ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত টাকা ছাড়ে। শুধুমাত্র পিপলস ব্যাংক এবং ব্যাংক অফ সিলন (BOC) টাকা তোলার জন্য কোনও ফি নেয় না বলে মনে হয়।

ক্রেডিট কার্ড ও ব্যাংকিং পরিষেবা

[সম্পাদনা]

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকবেন, শ্রীলঙ্কায় জালিয়াতির সমস্যা ক্রমবর্ধমান। শ্রীলঙ্কা থেকে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন বা মানি গ্রাম ব্যবহার করে বাইরে টাকা পাঠানো যায় না। তবে আন্তজার্তিক অর্থ সঞ্চালন ব্যবহার করে শ্রীলঙ্কায় টাকা গ্রহণ করা যায়।


শ্রীলঙ্কায় থাকার ব্যবস্থা দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার তুলনায় কিছুটা বেশি দামী। তবে খাবারের দাম প্রায় সমান। রাস্তার খাবারের দাম পড়বে প্রায় ১ইউরো, স্থানীয় রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম ২-৫ ইউরো, এক বোতল স্থানীয় লায়ন বিয়ারের দাম ১ইউরো।Accommodation in Sri Lanka is a little more expensive than Southeast Asia. However, food is comparable: local street food costs around €1, a meal in a local restaurant, €2-5, and a bottle of the local Lion beer is €1. All across the country there are simple accommodations, hostels and homestays. As is common in developing countries, the cheapest homestays have no online presence and so cannot be booked online. Prices for such places are generally around €25 per night. On the coast many small boutique hotels have opened up with prices of €30-60 per night.

This bottle of water has a printed MRP of Rs 90

Colombo is the shopping capital, with many malls and plazas selling items of both modern and cultural origins. Rural areas tend to sell handicrafts: reed, cane, cotton, paper, leather, wood, clay, metal, and gemstones are transformed into batiks, toys, curios, jewellery and other hand-made treasures. When out in the more rural areas, you will encounter shops selling low-quality but cheap toys, hats, sunglasses. Counterfeit sunglasses may look good but may not protect your eyes from UV light like the real thing. Many packaged goods are stamped with the Maximum Retail Price (MRP) including taxes. Retailers are not supposed to charge more than this. Although most vendors stick to this rule, you may be charged more than the MRP at tourist destinations or remote places.

Gems (mainly sapphires and moonstones) are mined in the country. Both unset stones and finished jewellery are easily found and often well priced. See Colombo#Buy.

কিরিবাথ (নারকেলের দুধে রান্না করা ভাত)
মুরগির মাংস আর কোট্টু রুটি
হপার
আরও দেখুন: দক্ষিণ এশীয় রন্ধনশৈলী

শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ ভারতের খাবারের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। অনেক স্থানীয় রেস্তোরাঁ তাদের মেনুকে "শ্রীলঙ্কান এবং দক্ষিণ ভারতীয়" বলে বর্ণনা করে। তবে আঞ্চলিকভাবে এর অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে, যেমন বিভিন্ন ধরণের মুরগি, চিংড়ি, কাটলফিশ ইত্যাদি, এবং যেকোনো তরকারির সাথে সাধারণ মশলা সংযোজন, "পোল সাম্বল" যা নারকেল, লঙ্কা গুঁড়ো এবং লেবুর রস দিয়ে তৈরি হয়।

শ্রীলঙ্কার খাবারের বৈচিত্র্য খুব বেশি বিস্তৃত নয়, বেশিরভাগ জায়গায় একই জিনিস, ভাজা খাবার, একই বেকারি, কোট্টু, রুটি, তরকারি বিক্রি হয়। কিছু ক্ষেত্রে আপনি দোসার দোকান দেখতে পাবেন। অন্যথায় চাইনিজ বা ওয়েস্টার্ন রেস্তোরাঁ খুঁজতে থাকুন, যা আপনার খাদ্যতালিকায় কিছুটা পরিবর্তন আনবে।

শ্রীলঙ্কার খাবার সাধারণত মশলাদার, তবে আপনি চাইলে কম মশলাদার বিকল্প পাবেন। শ্রীলঙ্কায় সবাই "ডান হাতে করে খায়"; আপনি একান্তই এভাবে খেতে না পারলে রেস্তোরাঁ চামচ-ছুরি সরবরাহ করবে।

খাবার সাধারণত খুব সস্তা, দাম প্রায় ১ মার্কিন ডলার। সবচেয়ে ব্যয়বহুল পর্যটন-কেন্দ্রিক জায়গাতেও কদাচিৎ ১০ মার্কিন ডলারের বেশি দাম নেয়। শ্রীলঙ্কানদের প্রধান খাবার হলো ভাত এবং তরকারি (৩০০-৫০০ শ্রীলঙ্কান রূপী )। স্থানীয়দের মতোই অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে আপনি ছোটো কোনো রেস্তোরাঁয় খেতে পারেন। এগুলোয় প্রায় সর্বক্ষণই ভিড় হয়ে থাকে। এসব হোটেলে ভাত এবং তরকারির প্যাকেট বিক্রি করে, সেইসাথে 'ছোট খাবার', আলু, মাছ বা মুরগির মাংস দিয়ে ভরা মশলাদার রোল এবং সামোসা থাকে। এই খাবার ব্যাকপ্যাকারদের জন্য এবং যারা পোড়া মুরগি এবং চিপস বিক্রি করে পর্যটকদের হোটেলগুলি অতিক্রম করতে চান তাদের জন্য আদর্শ; কতটা খাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করে দাম নেয়, এবং আপনি যদি প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত না হন তাহলে এর দাম এক মার্কিন ডলারের বেশি হবে না।

কলম্বোর বাইরে রোড ট্রিপে গেলে দুপুরের খাবারের জন্য রাস্তায় থামার জন্য অফুরন্ত বিকল্প রয়েছে। প্রধান রাস্তার ধারে রেস্ট হাউস এবং হোটেলে ভালো রেস্তোরাঁ রয়েছে যেখানে শ্রীলঙ্কান এবং পশ্চিমা উভয় ধরণের মেনু পাওয়া যায়। আপনি এইসব রেস্তোরাঁয় কম দামে ভালো স্যান্ডউইচ এবং স্যুপও পেতে পারেন। এখানে চমৎকার ভাত-তরকারি পাওয়া যায়।

কোট্টু (কোঠু) রুটি (কাটা রুটি, সবজি এবং আপনার পছন্দের মাংসের মিশ্রণ) অবশ্যই খাওয়া উচিত (২০২৫ সালের হিসাবে প্রায় ১০০০ টাকা)। এটি অনন্যভাবে শ্রীলঙ্কান এবং রাস্তার বিক্রেতারা তাজা তৈরি করলে সবচেয়ে ভালো স্বাদ হয়। তবে, বাসি এবং পুরানো রুটি ব্যবহারের কারণে কতৃপক্ষ কয়েকটি কোট্টু রুটি রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিয়েছে। সাবধানতা অবলম্বন করুন, এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে নির্ধারণ করুন কোনটি সেরা কোট্টু রুটির দোকান।

অন্যান্য খাবারের মধ্যে রয়েছে স্ট্রিং হপারস, হপারস, পিট্টু এবং কিরিবাথ

২০২৫ সালের হিসাবে, বিভিন্ন ভোজ্য খাবারের সূচক মূল্য হল:

  • শ্রীলঙ্কার প্রাতরাশ (হপারস, চা/কফি): ১২০০ শ্রীলঙ্কান রূপী
  • পশ্চিমা প্রাতরাশ (অ্যাভোকাডো টোস্ট, কফি): ২৫০০ শ্রীলঙ্কান রূপী
  • মুরগির মাংস ও কোট্টু রুটি: ১০০০ শ্রীলঙ্কান রূপী
  • মাছভাজা এবং ভাত: ১৫০০ শ্রীলঙ্কান রূপী
  • মাছ এবং চিপস: ২০০০ শ্রীলঙ্কান রূপীর বেশি
  • সামুদ্রিক খাবারের শেয়ার প্লেটার: ৫০০০ শ্রীলঙ্কান রূপীর বেশি
  • পিৎজা: ৩০০০ শ্রীলঙ্কান রূপীর বেশি
  • বার্গার: ১৫০০ শ্রীলঙ্কান রূপীর বেশি

কলম্বো শহরে অনেক উন্নতমানের রেস্তোরাঁ রয়েছে। ৫-তারকা হোটেলে বেশ কয়েকটি সুস্বাদু খাবারের রেস্তোরাঁ রয়েছে যারা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় ধরণের খাবার সরবরাহ করে। এই প্রতিষ্ঠানগুলি মূলত পশ্চিম কলম্বোতে (গ্যালে রোড বরাবর) পাওয়া যায়, যদিও আরও অনেকগুলি কলম্বো এবং অন্যান্য প্রধান শহরগুলির আশেপাশে রয়েছে।

কেএফসি, পিৎজা হাট, ম্যাকডোনাল্ড, সাবওয়ে এবং বার্গার কিং এর মতো মার্কিন ফাস্ট-ফুড আউটলেট বড়ো শহরগুলিতে পাওয়া যেতে পারে।

বড়া এবং অন্যান্য ভারতীয় রন্ধনশৈলী-ভিত্তিক খাবার যেমন পুরি এবং হপার্স স্থানীয় দোকান থেকে থেকে কেনা যায়। এসব খাবার বেশিরভাগই ময়দা এবং তেল দিয়ে তৈরি করা হয়। এগুলি সাধারণত রাতের খাবার হিসাবে বেশিরভাগ রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায়। স্ট্রিং হপার বেশ তৃপ্তিদায়ক। এছাড়া "পোল সাম্বোল" বা ডালের মতো এক ধরণের খাদ্য পাওয়া যায়। কিছু রেস্তোরাঁয় সামুদ্রিক খাবার পাওয়া যায়। কাঁকড়া, গলদা চিংড়ি, মাছ সবই খেতে ভালো।

রিটজবুরি এবং কান্ডোস হলো চকোলেটের প্রধান বাজারচলতি ব্র্যান্ড, কান্ডোস তুলনামূলক উচ্চ মানের কিন্তু দামি। শ্রীলঙ্কায় তৈরি অন্যান্য খাবারের মধ্যে রয়েছে মুঞ্চি এবং মালিবান ব্র্যান্ডের বিস্কুট।

আইসক্রিম সাধারণত স্থানীয় সুপারমার্কেটে পাওয়া যায়। দুটি সাধারণ ব্র্যান্ড হলো এলিফ্যান্ট হাউস এবং ম্যাজিক। আপনি সমুদ্র সৈকতের পাশ দিয়ে চলাচলকারী গাড়ি থেকেও আইসক্রিম কিনতে পারেন। সবচেয়ে সস্তা আইসক্রিম হল "ক্যাপ্টেন কুল" নামক পপসিকল যার দাম ২০ শ্রীলঙ্কান রূপী।

পানীয়

[সম্পাদনা]

শ্রীলঙ্কায়, 'কলের জল' পান করা নিরাপদ নয়। বোতলজাত জল সস্তা (২০২৫ সালের জানুয়ারির হিসেবে ১ লিটারের দাম ১৫০ শ্রীলঙ্কান রূপী) এবং সর্বত্র পাওয়া যায়। বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের বোতলে SLS (শ্রীলঙ্কা স্ট্যান্ডার্ড ইনস্টিটিউট) লেবেল থাকে, দেখে নেবেন।

'তাজা দুধ' জলবায়ুর কারণে সহজেই নষ্ট হয়ে যায় এবং সেই সঙ্গে ব্যয়বহুল। তবে গুঁড়ো দুধ নিরাপদ।

'থাম্বিলি' হচ্ছে একরকম নারকেলের রস। এই রস রাস্তার পাশে বিক্রি হয়, নারকেল আপনার সামনে খোলা থাকেই। থাম্বিলি বোতলজাত পানীয়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শ্রীলঙ্কান রূপী সস্তা। স্ট্যান্ডার্ড আন্তর্জাতিক কোমল পানীয় সর্বত্র পাওয়া যায়। এছাড়াও স্থানীয় উৎপাদক, এলিফ্যান্ট হাউসের কোমল পানীয় পাওয়া যায়, আদা বিয়ার এবং ক্রিম সোডা চেখে দেখুন।

সবচেয়ে সাধারণ স্থানীয় বিয়ার হল লায়ন লেজার: রেস্তোরাঁ এবং বারে বড় বোতলের দাম ২০২৫ সালে প্রায় ১০০০ শ্রীলঙ্কান রূপী। একটু ভিন্ন কিছুর জন্য লায়ন স্টাউট পান করুন। এই বিয়ার মসৃণ, ঘন , চকোলেট এবং উচ্চ অ্যালকোহল ঘনত্বের জন্য পরিচিত। অন্যান্য বিয়ারের মধ্যে রয়েছে বেলজিয়ান রেসিপি অনুসারে তৈরি থ্রি কয়েন্স, মাউন্ট লাভিনিয়া হোটেল চেন এই বিয়ার তৈরি করে।

ঐতিহ্যবাহী একরকম স্পিরিট হচ্ছে অ্যারাক, প্রতি বোতলের দাম প্রায় ৪ মার্কিন ডলার এবং সাধারণত ক্লাব সোডা দিয়ে পান করা হয়। আপনি কত খরচ করতে চান তার উপর নির্ভর করে গুণমান পরিবর্তিত হতে পারে। অন্য আরেকটি ব্র্যান্ড "ওল্ড রিজার্ভ" এবং এর দাম ৭.৫০ মার্কিন ডলার।

কিছু কিছু উৎসবের দিনে অ্যালকোহল বিক্রি এবং জনসাধারণের জন্য সেবন নিষিদ্ধ। আপনি যদি এই দিনগুলিতে পান করতে চান, তাহলে আগে থেকেই পরিকল্পনা করুন।

রাত্রিযাপন

[সম্পাদনা]

গত কয়েক দশকে শ্রীলঙ্কায় আবাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক রূপান্তর ঘটেছে। আধুনিক পর্যটন শিল্প হিসেবে যা পরিচিত তার সূচনা হয়েছিল ১৯৬০-এর দশকে পশ্চিম উপকূলে ঐতিহ্যবাহী সমুদ্র সৈকত হোটেল তৈরির মাধ্যমে, যা মূলত ছুটির দিনে ভ্রমণকারীদের জন্য তৈরি করা হতো। কিন্তু গত দশকে ভিলা, বুটিক হোটেল বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন রকম পছন্দের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

শিক্ষা

[সম্পাদনা]
  • বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা ও পালি ভাষা পেরাদেনিয়া এবং কেলানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ইংরাজিতে পালি ভাষা ও বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা বিষয়ে পড়াশোনা করায়।
  • ধ্যান আপনি প্রকাশনা সমাজের গাইডে অনেক মঠ ও ধ্যানকেন্দ্রের সন্ধান পাবেন যারা বিনামূল্যে এসবে শেখায়।
  • মহামেবনাওয়া মেডিটেশন মোনাস্টেরি বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে শেখার জন্য ভালো।
  • নৃত্য অনেক বিদেশী নৃত্যোৎসাহী শ্রীলঙ্কার শাস্ত্রীয় নৃত্য উদারতা, পাহাথারতা এবং সবরাগামু শিখে থাকেন। প্রত্যেকটি নৃত্যের আলাদা আলাদা বাজনাও আছে।

নিরাপদ থাকুন

[সম্পাদনা]

অপরাধ

[সম্পাদনা]

পর্যটকদের কাছে সহিংস অপরাধ অন্য কোনো স্থানের তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়। ২০২০ থেকে পর্যটকদের উপর সংঘটিত সহিংস ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে ঠিকই কিন্তু তা এখনও খুবই বিরল। আপনি নিজের দেশে যে রকম সতর্কতা বজায় রাখেন তাই বজায় রাখুন। স্থানীয়রা বিদেশিদের হাসিমুখে অভ্যর্থনা করে এবং সাধারণতঃ উপকারী। অন্ধকারে একা একা না বেরোনোই ভালো। গণপরিবহনে পকেটমারী খুব একটা হয় না তাও সতর্ক থাকা উচিত।

পথ সুরক্ষা

[সম্পাদনা]

শ্রীলঙ্কায় পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার এশীয় গড় মৃত্যু হারের থেকেও খারাপ। গড়ে প্রতিদিন আটজন মানুষের প্রাণ যায় পথ দুর্ঘটনায়। নিয়ম না মেনে ওভারটেক করা ও অত্যধিক গতিতে চলার কারণেই সিংহভাগ দুর্ঘটনা ঘটে। শ্রীলঙ্কার বাসচালকরা পরিস্থিতির চাপে ঝুঁকি পূর্ণভাবে বাস চালানোর জন্য পরিচিত। টুকটুক বা বাইক ভাড়া করলে সতর্কভাবে অনেকটা জায়গা ছেড়ে রেখে চালান। রাস্তা পারাপারের সময় অবশ্যই দুই দিক দেখতে হবে। রাস্তায় হাঁটার সময়ও দুই দিক দেখে হাঁটবেন।

যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদ

[সম্পাদনা]

২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ শেষ হয়। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সরকার এলটিটিইকে পরাস্ত করতে গিয়ে অসামরিক তামিল জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ পর্যন্ত করেছিল। আজও শ্রীলঙ্কার গ্রামীণ অঞ্চলে ল্যান্ড মাইন পাওয়া যায়। পূর্ব ও উত্তর শ্রীলঙ্কার একাধিক শহরে পুনর্গঠনের কাজ এখনও শেষ হয়নি। সরকারের লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ দেশটিকে ল্যান্ড মাইন মুক্ত করা। আপনি ল্যান্ড মাইনের মুখোমুখি হবেন এরকম সম্ভবনা খুবই কম; কোনো বিষয়ে সন্দিগ্ধ হলে ১১৪ নম্বরে কল করে কতৃপক্ষকে জানান।

কলম্বোর রাস্তা

২০১৯ সালে ইস্টার উৎসবের সময় ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসবাদীরা দেশটিতে একের পর এক বোমা হামলা চালায়। তবে পরবর্তীকালে আর কোনো হামলা হয়নি।

নারী সুরক্ষা এবং এলজিবিটি অধিকার

[সম্পাদনা]

সাধারণতঃ তুলনামূলকভাবে নারীদের একা ভ্রমণ করা নিরাপদ তবে সুরক্ষার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলুন।

  • গভীর রাতে গণপরিবহণ ব্যবহার করবেন না।
  • গ্রামাঞ্চলে, রাত নয়টার পর রাস্তায় বেরোবেন না। যদি বেরোতেই হয় তবে হাঁটু ও কাঁধ ঢাকা পোশাক পরুন।
  • সমুদ্রসৈকতে দলবদ্ধভাবে বা পর্যটকদের মধ্যে থাকার চেষ্টা করুন।

ঔপনিবেশিক আমলের আইনের কারণে সমকামী সম্পর্ক আজও দণ্ডনীয় অপরাধ। এলজিবিটি পর্যটকদের সতর্ক থাকা উচিত।


প্রতারক ও দালাল

[সম্পাদনা]

প্রতারণা ও দালালি দেশটির সর্বত্রই ভ্রমণকারীদের জন্য বড়ো সমস্যা। অনেকে শ্রীলঙ্কাকে এশিয়ার দালাল রাজধানী আখ্যা দেন। আবার অনেকে মনে করেন শ্রীলঙ্কায় আগত পর্যটকরাই আসলে অনভিজ্ঞ। বুকিং ডট কম বা গুগলে রিভিউ পড়ে দেখুন আপনাকে কীরকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে জানার জন্য।

স্থানীয় যাতায়াত, বাসস্থান, বা কেনাকাটার জন্য কোনো দালালের খপ্পরে পড়লে আপনার অনেক টাকা বেশি খরচ হবে এবং প্রতারিত হওয়ার সম্ভবনা বাড়বে। উদাহরণস্বরূপ, ট্যুর গাইড ও টুকটুক চালকদের প্রায় প্রত্যেকেই দালালি করে এবং এদের সামনে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। অনভিজ্ঞ অনেক ভ্রমণকারী শ্রীলঙ্কায় প্রতারণার শিকার হন। অভিজ্ঞদের প্রতারিত হওয়ার ঘটনা খুবই কম। প্রতারণা থেকে বাঁচার জন্য নিম্নলিখিত বিষয়ে সতর্ক থাকবেন:

  • যদি কেউ প্রমাণ ছাড়াই নিজেকে কেউকেটা, বা পেশাদার (যেমন বিমানচালক) বা কোনো কিছুর দায়িত্বে আছে দাবী করে তবে বিশ্বাস করবেন না।
  • কেই অযাচিত ভাবে দিকনির্দেশনা বা ভ্রমণ উপদেশ দিলে সতর্ক থাকবেন। ট্যাক্সি বা টুকটুক চালকদের কোনো কথাই বিশ্বাস করবেন না। নিজে মানচিত্র দেখুন বা অন্য কোনো স্থানীয়কে জিজ্ঞাসা করুন। আপনাকে যদি কেউ বলে যে আপনার বুকিং করা হোটেলে কোনো ঘর ফাঁকা নেই তবে প্রায় সব ক্ষেত্রেই সে মিথ্যে বলছে।
  • অচেনা কেউ হঠাৎ আপনার সাথে কথা বলতে এলে সতর্ক থাকবেন। শ্রীলঙ্কানরা স্বভাবে লাজুক প্রকৃতির হয়, কেউ নিজে থেকে একজন বিদেশির সঙ্গে কথা বলতে এসেছে মানে সে হয় কিছু বিক্রি করতে চায় অথবা দালালি করতে চায়। এরা সাধারণত "কোথা থেকে এসেছেন?","কোথায় যাবেন?","শ্রীলঙ্কায় প্রথমবার?" এসব বলে বাক্যালাপ শুরু করে এবং ধীরে ধীরে দালালি শুরু করে।
  • আপনি যদি প্রথমবার শ্রীলঙ্কায় এসে থাকেন তবে সে কথা কারোর সামনে স্বীকার করবেন না, করলে আপনার থেকে সবকিছুর জন্য বেশি দাম চাইবে।
  • যদি না আপনার একান্ত বাধ্যবাধকতা থাকে তবে, ''একই চালক বা গাইডকে একদিনের বেশি ভাড়া করবেন না। পুরো দেশটা এতই ছোটো যে বাস, ট্রেন, টুক-টুক বা প্রয়োজনে অন্য পরিবহণ মাধ্যমে এক শহর থেকে অন্য শহর যেতে আপনার কোনও সমস্যা হবে না। আপনি দৈনিক বা ঘন্টায় ভাড়ার বিষয়ে একমতও হন, তবুও এসব চালকরা সাধারণত তাদের "ভাই" বা বন্ধুদের ব্যবসা (যেমন, মশলা বাগান, খোদাই বা রত্নপাথরের দোকান) পরিদর্শন করতে বাধ্য করে আপনার কাছ থেকে আরও কমিশন আদায়ের চেষ্টা করবে। শান্ত এবং দৃঢ়ভাবে বলুন যে আপনি আগ্রহী নন এবং তারপরেও যদি আপনাকে যেতে বাধ্য করতে থাকে তবে তাদের ফেলে অন্য চালক খুঁজুন - অনেক লোক এই কাজ করে এবং অন্য একজনকে খুঁজে পেতে আপনার কোনও সমস্যা হবে না।
  • কখনও অন্য "প্রস্তাবিত" ব্যক্তি বা "বন্ধু"র পরিষেবা নেবেন না। এরা আপনার থেকে দ্বিগুণ বা তিনগুণ টাকা আদায় করবে। আপনি যদি সত্যিই সাহায্য করতে চান, তবে রাস্তার ধারে ভিক্ষুকদের একজনকে সেই টাকা দিন।
  • কাউকে হতাশ করার জন্য কখনও দোষী বোধ করবেন না, দালালরা এই মনোভাব নিয়েই ব্যাবসা করে। এরা আপনার অপরাধবোধকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে যাতে আপনাকে পণ্য বা পরিষেবার জন্য অতিরিক্ত দাম দিতে হয়।
  • যদি আপনি কোনও পরিষেবা বা ভ্রমণের জন্য অর্থ প্রদান করেন, তাহলে আপনি যা আলোচনা করেছেন তা দাবি করুন এবং অন্য কোনও স্থানে এবং সম্মতিহীন ব্যাপারে বিভ্রান্ত হবেন না। আপনার বক্তব্যে অনড় থাকুন এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে টাকা না দেওয়ার হুমকি দিন। দালালরা সর্বদাই আপনার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করে।
  • যদি আপনি কোনোভাবে প্রতারিত হন, তাহলে সেই স্থানের যথোচিত রিভিউ লিখতে ভুলবেন না। অন্যান্য পর্যটকদের আগে থেকেই এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা উচিত, যেমন অতিরিক্ত দাম বা খারাপ ট্যুর, ডিনার বা ট্যাক্সি পরিষেবা, যাতে তারা একই ফাঁদে না পড়ে।
  • সরকারী প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত সরকারী দর্শনীয় স্থান এবং পর্যটন আকর্ষণ পরিদর্শন করার সময় সর্বদা সঠিক এবং মুদ্রিত টিকিট দাবি করুন। টিকিট না থাকা মানে আপনাকে অর্থ প্রদান করতে হবে না! যেকোনো হারানো টিকিটের টাকা সরাসরি টিকিট বিক্রেতার ব্যক্তিগত পকেটে চলে যাচ্ছে। এর অর্থ হল সরকার এই টাকা পাচ্ছে না এবং জায়গাটি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারছে না। খালি ছেঁড়া বা ব্যবহৃত টিকিটের স্টাব দেখিয়ে প্রতারিত হবেন না — আবারও বলছি, টিকিট না থাকার মানে হচ্ছে আপনাকে আদৌ কোনো টাকা দিতে হবে না! আপনার ট্যুর গাইড যদি দাবি করে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম দামে টিকিটের ব্যবস্থা করে দেওয়ার তবে সম্মত হবেন না। এদের সঙ্গে কিছু সরকারি কর্মচারীর যোগসাজশ থাকে এবং এইটা দুর্নীতি, এতে অংশ নেবেন না! দায়িত্বশীল ভ্রমণকারী হিসেবে আপনার কর্তব্য পালন করুন।

সুস্থ থাকুন

[সম্পাদনা]
  • হেপাটাইটিস এ, বি এবং টিটেনাসের ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত। বর্ষাকালে প্রচলিত পর্যটনাঞ্চলের বাইরে বেড়াতে গেলে টাইফাসের ভ্যাকসিনও নেওয়া উচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি জাপানি এনসেফালাইটিসেরও ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দেয়।
  • ডেঙ্গু: বর্ষাকালে মশা তাড়ানোর ধূপ বা কয়েল ব্যবহার করুন। মাথা বা গাঁটে ব্যাথা করলে ডাক্তার দেখান। ডেঙ্গভ্যাক্সিয়া বা ওডেঙ্গা ভ্যাকসিন নিতে পারেন।
  • ম্যালেরিয়া: ২০১৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শ্রীলঙ্কাকে ম্যালেরিয়া মুক্ত বলে ঘোষণা করেছে।
  • হলুদ জ্বর: এশিয়ার অন্য সব দেশের মতোই এখানেও হলুদ জ্বর হয় না। হলুদ জ্বরের প্রকোপ আছে এরকম দেশ থেকে শ্রীলঙ্কায় আসতে হলে এক বছরের বেশি বয়সী সকলকে ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট দেখাতে হয়।
  • শ্রীলঙ্কায় রাস্তার কুকুরের সমস্যা আছে —দেশটির প্রায় সর্বত্রই কুকুর দেখা যায়। দিনের বেলায় এরা বেশি ঝামেলা না করলেও রাতে সমস্যা তৈরি করে। পর্যাপ্ত আলোর অভাব আছে এরকম স্থানে হাঁটতে হলে সঙ্গে লাঠি রাখা ভালো। শ্রীলঙ্কায় দীর্ঘদিন থাকতে হলে র‍্যাবিস ভ্যাকসিন নিয়ে রাখতে পারেন।
  • কলের জল পান করা উচিত নয়। দাঁত মাজা, পান করা সব কিছুর জন্যই বোতলজাত জল ব্যবহার করুন।
  • পর্যাটকদের সাপে খুব একটা কামড়ায় না ( বজ্রাহত হওয়ার মতোই বিরল), যদি কাউকে কামড়ায় তবে অবিলম্বে উপসর্গ নির্বিশেষে চিকিৎসালয়ে যান। শ্রীলঙ্কার জাতীয় ইমারজেন্সি নম্বর ১১৯। অ্যাম্বুলেন্সের নাম্বার ১১০।
  • বালিতে (সমুদ্রতীরবর্তী বালিতে না) একধরনের ছোটো মাছি বাস করে। এর কামড় এড়িয়ে চলা উচিত।
  • কলম্বোর বাইরে ট্যাম্পন পাওয়া যায় না। শ্রীলঙ্কায় আসার আগে কিনে আনা উচিত।

মনে রাখবেন, যদি ভ্রমণবীমা করানো আপনার সাধ্যের বাইরে হয় তবে ভ্রমণ করাও আপনার সাধ্যের বাইরে। সরকারি হাসপাতাল পর্যটকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা করে না। সরকারি হাসপাতাল বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে সস্তা কিন্তু নগদ ছাড়া কিছু নেয় না। বেসরকারি হাসপাতাল ভ্রমনবীমা গ্রহণ করে।

মোকাবেলা করুন

[সম্পাদনা]

ট্যুর গাইড

[সম্পাদনা]

ট্যুর গাইড বিরক্তিকর আচরণ করতে পারে। এদের সঙ্গে কিছু দোকানদারের যোগসাজশ থাকে। সেই দোকানে আপনি কিছু কিনলে গাইড কিছু টাকা কমিশন পায়।

তাই গাইডের সব কথা না শুনে নিজে যাচাই করে কেনাকাটা করুন। বলুন নির্দিষ্ট সময়ের পর নির্দিষ্ট স্থানে পুনরায় দেখা করতে। যদি এর পরেও বিরক্ত করতে থাকে তবে ট্রাভেল এজেন্সি বা কোম্পানিতে নালিশ করার হুমকি দিন, বা আপনার টাকা ফেরত চান।

বিশেষত আপনি যদি ২,০০০ ইউরো বা তার বেশি খরচ করেন তবে আপনাকে সম্মান করা উচিত।

গাইডের সব কথা শুনে চললে আপনার ছুটি মাটি হতে পারে।

শ্রীলঙ্কায় একাধিক ধর্ম ও সংষ্কৃতি দেখতে পাবেন। সংখ্যাগুরু ধর্ম হলো থেরবাদী বৌদ্ধধর্ম। অন্য অনেক দেশের মতোই শ্রীলঙ্কানরাও ধর্মপ্রিয়। উল্টোপাল্টা আচরণের জন্য আপনাকে গ্রেপ্তার পর্যন্ত করা হতে পারে।

  • বৌদ্ধধর্ম — ৩য় শতাব্দীতে শ্রীলঙ্কায় আসে,বর্তমানে সংখ্যাগুরু ধর্ম। সিংহলিদের অধিকাংশই বৌদ্ধ।
  • হিন্দুধর্ম — শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম, সারা দেশেই ছড়িয়ে আছে, তামিলদের অধিকাংশই হিন্দু।
  • ইসলামধর্ম — বণিকদের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় আসে ;তামিল এবং মালয়ালম ভাষীদের একাংশ এই ধর্মাবলম্বী।
  • খ্রিস্টধর্ম — শ্রীলঙ্কায় পর্তুগিজদের মাধ্যমে আসে, তামিল দের একাংশ বর্তমানে এই ধর্মাবলম্বী। শ্রীলঙ্কান খ্রিস্টানদের অধিকাংশই রোমান ক্যাথলিক।

দেশটির স্থাপত্যে ধর্মের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। মন্দির, কোভিল, গীর্জায় এই প্রভাব দেখতে পাবেন।

সম্মান

[সম্পাদনা]
কলম্বোর গঙ্গারাম মন্দিরে গৌতম বুদ্ধের মূর্তি

শ্রীলঙ্কায় এমন অনেক রীতিনীতি আছে যা পশ্চিমা পর্যাটকদের রপ্ত করতে সময় লাগে।

  • মন্দির দর্শন করার সময় জুতো খোলা এবং সম্মানজনক পোশাক পরা (অর্থাৎ মিনিস্কার্ট, ট্যাংকটপ, শর্ট প্যান্ট ইত্যাদি পরবেন না) অলিখিত ভাবে বাধ্যতামূলক। ঘরে ঢোকার সময় জুতো খোলারও নিয়ম আছে, তবে এই নিয়ম জাপানের তুলনায় অনেক শিথিল।
  • বৌদ্ধ ভিক্ষু বা সন্ন্যাসীদের তাদের বয়স নির্বিশেষে কখনোই স্পর্শ করবেন না
  • গৌতম বুদ্ধের ট্যাটু' সবার সামনে প্রদর্শন করবেন না। অন্যান্য কিছু বৌদ্ধ সংখ্যাগুরু দেশে এরকম ট্যাটু সমস্যাজনক না হলেও শ্রীলঙ্কায় একে অপমানজনক মনে করা হয়। আপনাকে গ্রেপ্তার এবং এমনকি দেশ থেকে বিতাড়নও করা হতে পারে।
  • বুদ্ধমূর্তির দিকে পিছন ফিরে দাঁড়াবেন না। ছবি তোলার সময়ও এরকম করবেন না। বুদ্ধমূর্তি স্পর্শ করাও উচিত নয়। ছবি তোলার সময় বুদ্ধমূর্তি দর্শন করছেন এরকম ভাবে তোলা উচিত।
  • প্রকাশ্য নগ্নতা শ্রীলংকায় বেআইনি – নগ্ন অবস্থায় রোদ পোয়ানো বা সমুদ্র স্নানও এড়িয়ে যাওয়া উচিত। তবে কিছু রিসোর্ট সংলগ্ন সমুদ্রসৈকতে এসব করা যায়।
  • টাকাপয়সা বা ছোটো জিনিসপত্র দেওয়া বা নেওয়ার সময় ডান হাত ব্যবহার করা উচিত। বড়ো বা ভারী কিছু ব্যবহারের সময় অবশ্যই দুই হাত ব্যবহার করতে পারেন।
  • সন্ন্যাসী/বয়স্ক/প্রতিবন্ধীদের সম্মান করুন।পর্যাটকদের জন্য আলাদা কোনো রীতি নেই – শুধুমাত্র নম্র আচরণ করুন। ভিড় বাসে এদের সিট ছেড়ে দিন।
  • রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করা খুবই বিতর্কিত, বিশেষ করে সিংহলি/তামিল ভেদাভেদ বা এলটিটিই। ২০০৯ সালে শেষ হওয়া ২৬ বছর ব্যাপী গৃহযুদ্ধে দেশ জুড়ে হাজার হাজার আক্রমণ, প্রতিআক্রমণ, আত্মঘাতী বোমাহামলা, দুইপক্ষের নেতাদের গুপ্তহত্যা, গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল।
  • সংবেদনশীল কোনো স্থানের ভিতরে বা বাইরে ছবি তুলবেন না। শপিং মল বা চা কারখানার ভিতরেও ছবি তুলবেন না (বাইরে তুলতে পারেন)। কলম্বোর দূর্গ দেখার সময় এবিষয়ে সতর্ক থাকবেন। যদি দেখেন সেনারা কোনকিছু পাহারা দিচ্ছে তবে তার ছবি তুলবেন না। এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা চিহ্ন খুঁজে লাভ নেই, অনেক জায়গাতেই চিহ্ন হারিয়ে যায় বা অবোধ্য হয়ে যায়। এমন অনেক সেতু দেখতে পাবেন যার একপ্রান্তে "No Photography" চিহ্ন আছে, অন্য প্রান্তে নেই।
  • প্রেমিকপ্রেমিকা বা স্বামীস্ত্রীর প্রকাশ্যে চুম্বন করা বা আলিঙ্গন করাকে স্থানীয় জনগন নেতিবাচক ভাবে দেখে, তবে নাইটক্লাব, ক্যাসিনো বা সমুদ্রসৈকতে এসবে অসুবিধা নেই। পিতামাতা সন্তানের হাত ধরে থাকলে তাতেও কোনো অসুবিধা নেই।
  • দরিদ্রদের সর্বদা সম্মান করতে হবে। অনেক অভাবী মানুষ শহরের রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়ান। তাদের অসম্মান করা ঠিক নয়। তবে প্রতারণাকারী ও ঠগবাজদের থেকে সদা সতর্ক থাকুন।

সংযোগ

[সম্পাদনা]

শ্রীলঙ্কার কান্ট্রি কোড ৯৪। অন্য দেশ থেকে শ্রীলঙ্কায় ফোন করার সময় +৯৪ ১২৩ ৪৫৬ ৭৮৯ এভাবে করতে হবে। শ্রীলংকাতেই এক স্থান থেকে অন্যস্থানে ফোন করার সময় ০১২৩ ৪৫৬ ৭৮৯ এভাবে করতে হবে। ৯৪ এর পরবর্তী দুইটি সংখ্যা প্রত্যেক জেলার জন্য আলাদা হয়। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন শ্রীলঙ্কায় টেলিফোন নম্বর

মোবাইল এবং ডাটা

[সম্পাদনা]

বর্তমানে উল্লেখযোগ্য নেটওয়ার্ক সরবরাহকারী কোম্পানি হচ্ছে: ডায়ালগ, এয়ারটেল, মোবিটেল এবং হাচ. শ্রীলঙ্কায় ৪জি কভারেজ সরবরাহকারী অনুযায়ী কম বেশি ভালোই। জনমত অনুযায়ী ডায়ালগ সবচেয়ে ভালো, এবং মোবিটেলে মাঝেমাঝে সমস্যা হয়।

২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ডেটা সহ প্যাকেজ (বিমানবন্দরে) সীমাহীন সামাজিক মাধ্যম, কল এবং বার্তা সহ ৩০ দিনের জন্য ৫০-৬০ গিগাবাইট সমেত প্রায় ৯ ডলারে হয়ে যায়। এয়ারটেলের ৩০ দিনের জন্য ১২ জিবি ডেটা এবং সীমাহীন সামাজিক মাধ্যম এবং কলের জন্য ১,১৮৮ টাকায় অফার রয়েছে। এয়ারটেল এবং মোবিটেল ১,০০০ টাকায় ১৫ জিবি ডেটা অফার করে। মোবিটেলের ১ জিবি/দিন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কল, বার্তা এবং সীমাহীন সামাজিক মাধ্যম প্রতি ২৯ দিনে ১,৩৯০ টাকায় পাওয়া যায়।

ইন্টারনেট

[সম্পাদনা]

অধিকাংশ রেস্তোরাঁ ও অতিথিশালায় বিনামূল্যে ওয়াইফাইয়ের সুবিধা পাবেন।

This TYPE শ্রীলঙ্কা has ব্যবহারযোগ্য অবস্থা TEXT1 TEXT2

{{#assessment:দেশ|ব্যবহারযোগ্য}}