বিষয়বস্তুতে চলুন

28.637777.2058
উইকিভ্রমণ থেকে
এশিয়া > দক্ষিণ এশিয়া > ভারত > গাঙ্গেয় সমভূমি > দিল্লি

দিল্লি

পরিচ্ছেদসমূহ

দিল্লি (হিন্দি: दिल्ली, পাঞ্জাবি: ਦਿੱਲੀ, উর্দু: دلّی) হল ভারতের রাজধানী এবং সরকারের শাসনকেন্দ্র। এটি কোনো রাজ্যের অংশ নয়, আলাদা করে জাতীয় রাজধানী অঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠেছে। দিল্লি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম শহর। এটি বিশ্বের বৃহত্তম মহানগর অঞ্চলগুলির একটির কেন্দ্রস্থল, যেখানে ২ কোটি ৮৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ বসবাস করেন (২০১৮)। ভারতের মধ্যে এটি শিল্পকলা, বাণিজ্য, শিক্ষা, পর্যটন এবং পরিবহনের একটি প্রধান কেন্দ্র। দিল্লি গত ২০০০ বছর ধরে বিভিন্ন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। এই কারণে এখানে পর্যটকদের দেখার জন্য আকর্ষণীয় এবং ভালোভাবে সংরক্ষিত অনেক ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে।

দিল্লি সরকারিভাবে ১১টি জেলায় বিভক্ত। ভ্রমণের সুবিধার জন্য, এই নির্দেশিকায় কিছু সরকারি জেলাকে একত্রিত করে বড় জেলা তৈরি করা হয়েছে। জেলাগুলির রঙগুলি তাদের মধ্যে দিয়ে যাওয়া প্রধান মেট্রো লাইনের রঙকে বোঝায়:

দিল্লির অঞ্চল, রং করা মানচিত্র — মিথস্ক্রিয় মানচিত্র দেখান
দিল্লির অঞ্চল, রং করা মানচিত্র
 মধ্য দিল্লি
এটি দিল্লির ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থল। এটি পুরানো দিল্লি নামেও পরিচিত। এখানে লাল কেল্লা এবং জামা মসজিদের মতো প্রধান পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে। দিল্লি জংশন রেলওয়ে স্টেশনটি এখানেই অবস্থিত। এখানে লাল মেট্রো লাইনটি পূর্ব-পশ্চিমে এবং হলুদ লাইনটি উত্তর-দক্ষিণে চলে গিয়েছে।
 পূর্ব দিল্লি
যমুনা নদীর পূর্বে অবস্থিত দিল্লির অংশ। এখানকার সবচেয়ে বিখ্যাত আকর্ষণ হল অক্ষরধাম মন্দির।
 নতুন দিল্লি
এটি ব্রিটিশদের দ্বারা নির্মিত ভারতের রাজধানী ছিল। এর বৈশিষ্ট্য হল চওড়া রাস্তা, গোলচত্বর (ট্র্যাফিক সার্কেল), ঔপনিবেশিক অট্টালিকা এবং সরকারি ভবন। এগুলিতে ভারতের ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ের স্মৃতিস্তম্ভ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। কনট প্লেস (রাজীব চক) এবং খান মার্কেট এখানকার জনপ্রিয় কেনাকাটার কেন্দ্র, এবং কাছাকাছি পাহাড়গঞ্জ এলাকায় অনেক সস্তা হোটেল রয়েছে। নতুন দিল্লি এবং নিজামুদ্দিন রেলওয়ে স্টেশন এবং বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন এখানে অবস্থিত।
 দক্ষিণ দিল্লি
এখানে বেশ কিছু অভিজাত এলাকা, অনেক হোটেল ও অতিথিশালা, শপিং মল, বাজার এবং রেস্তোরাঁ রয়েছে। প্রধান আকর্ষণগুলির মধ্যে কুতুব মিনার অন্যতম। এই এলাকায় পরিষেবা দেওয়ার জন্য হলুদ মেট্রো লাইন রয়েছে।
 দক্ষিণ পূর্ব দিল্লি
এটি সাধারণত দক্ষিণ দিল্লির মতোই একটি উচ্চবিত্ত এলাকা। এছাড়াও, দক্ষিণ পূর্ব দিল্লির বর্তমান জেলা সীমানার মধ্যে শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি হুমায়ুনের সমাধি এবং পুরানা কিলার মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। এই এলাকায় বেগুনি মেট্রো লাইন পরিষেবা দেয়।
 পশ্চিম দিল্লি
দিল্লির অনেক বাজার এবং মেলার কেন্দ্রস্থল হল এই অঞ্চল।

জানুন

[সম্পাদনা]

যারা উন্নয়নশীল দেশের বড় শহরগুলিতে ভ্রমণের ব্যাপারে খুব একটা অভ্যস্ত নন, তাঁদের কাছে দিল্লিকে বেশ বিশৃঙ্খল, ভিড়ে ঠাসা আর দূষিত বলে মনে হতে পারে। আশির দশক থেকেই বায়ু দূষণ দিল্লির একটি বড় সমস্যা, আর দিনের বেশিরভাগ সময়েই বাতাসে অস্বাস্থ্যকর ধূলিকণার পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত থাকে। বসন্তের শেষে আর গরমের শুরুতে শহরটিতে তীব্র দাবদাহ চলে। কিন্তু এই আপাত বিশৃঙ্খলার গভীরে উঁকি দিলেই চোখে পড়বে এক আশ্চর্য শৃঙ্খলা। এখানে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এক সুন্দর মেলবন্ধন ঘটেছে, যেখানে দুই সংস্কৃতিই পাশাপাশি বেড়ে উঠছে। প্রথমবার দিল্লিতে এসে অনেকেই এখানকার সংস্কৃতি দেখে ধাক্কা খেতে পারেন। তাঁদের জন্য পরামর্শ, খারাপ আবহাওয়ায় ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই ভালো। তাছাড়া, ঘোরার ফাঁকে আরাম করার জন্য একটি ভালো হোটেল বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]
দিল্লিতে পূর্বের জনবসতি

খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক থেকে জনবসতির প্রমাণ মেলায়, দিল্লিকে বিশ্বের প্রাচীনতম শহরগুলির মধ্যে অন্যতম বলে গণ্য করা হয়। মনে করা হয়, দিল্লি শহরটি মোট এগারোবার ভেঙেছে আর গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে অন্তত আটটি ভিন্ন ভিন্ন শহরের অস্তিত্বের প্রমাণ আজও পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থানগুলি হল ১১৯৩ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে মুসলিম ও ব্রিটিশ শাসনকালের কীর্তি। মহাভারতের কিংবদন্তী শহর ইন্দ্রপ্রস্থ আজকের দিল্লির জায়গাতেই অবস্থিত ছিল বলে কথিত আছে, যদিও তার কোনো ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়নি। দশম থেকে চতুর্দশ শতক পর্যন্ত, এই শহরটি মূলত বর্তমান দক্ষিণ দিল্লিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল:

  • 1 সুরজকুণ্ড — ৯ম-১০ম শতকে দিল্লির একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে এটি গড়ে উঠেছিল। এখানে একটি বিশাল জলাধার রয়েছে যা বেশ ভালোভাবে সংরক্ষিত।
  • 2 কিলা রাই পিথোরা — সম্ভবত ১১শ শতকে হিন্দু শাসনামলে বর্তমান মহরৌলি অঞ্চলে "লালকোট" নামে একটি শহর প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে ১১৮০ সাল নাগাদ, হিন্দু রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহান শহরটিকে আরও বড় করে এর নাম দেন কিলা রাই পিথোরা। কুতুব মিনার ও মহরৌলির চারপাশে এখনও সেই সময়ের দুর্গ-প্রাচীরের কিছু ধ্বংসাবশেষ চোখে পড়ে।
  • 3 মহরৌলি — এর কিছুদিন পরেই, ১১৯২ সালে, মুসলিম শাসক মুহাম্মদ ঘোরি যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ চৌহানকে পরাজিত করেন। ঘোরি তার সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবেককে দিল্লির শাসক নিযুক্ত করেন, যিনি পরের বছরই দিল্লি দখল করে নেন। ১২০৬ সালে ঘোরির মৃত্যুর পর, কুতুবউদ্দিন নিজেকে দিল্লির সুলতান ঘোষণা করে দাস রাজবংশের পত্তন করেন। মহরৌলি শহরটি গড়ে তুলে তিনি স্থাপত্যে বিরাট অবদান রাখেন। তার সবচেয়ে বড় কীর্তি হল কুতুব মিনারের নির্মাণকাজ শুরু করা (যা শেষ হয়েছিল ১২২০ সালে)। কুতুব মিনারের আশেপাশের সমাধি এবং অন্যান্য সৌধগুলিও ওই সময়কার।
  • 4 সিরি — দাস বংশের পর ক্ষমতায় আসে খিলজি (বা খলজি) বংশ। ১৩০৩ সালে, মঙ্গোল আক্রমণ থেকে বাঁচতে তারা প্রথমে একটি সেনা ছাউনি ও পরে সিরি নামে একটি সুরক্ষিত শহর গড়ে তোলে। বর্তমানে মহরৌলির উত্তরে হৌজ খাস চত্বরে সিরি দূুর্গের ধ্বংসাবশেষ, একটি মাদ্রাসা এবং সেই আমলের আরও কিছু স্থাপত্য দেখতে পাওয়া যায়।
  • 5 তুঘলকাবাদ — খিলজিদের পতনের পর বেশ কিছুদিন অস্থিরতা চলে। অবশেষে ১৩২০-র দশকে তুর্কি শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক দিল্লি আক্রমণ করে তুঘলক বংশের সূচনা করেন এবং দক্ষিণ পূর্ব দিল্লিতে তুঘলকাবাদ নামে নতুন রাজধানী স্থাপন করেন। তার পুত্র মুহাম্মদ বিন তুঘলক সিরি এবং কিলা রাই পিথোরার মাঝে জাহাপানাহ নামে আরেকটি শহর তৈরি করে তিনটি শহরকে এক করে দেন। তবে তুঘলকাবাদই মূল রাজধানী থেকে যায়।
পুরানা কিলা - শেরগড়ের ধ্বংসাবশেষ

চতুর্দশ শতকের পর থেকে বর্তমান শহর কেন্দ্রের কাছাকাছি, আরও উত্তর দিকে নতুন এলাকা গড়ে উঠতে থাকে:

  • 6 ফিরোজাবাদ (ফিরোজ শাহ কোটলা) — মুহাম্মদ বিন তুঘলকের পুত্র ফিরোজ শাহ ১৩৫৪ সালে এটি নির্মাণ করেন। মধ্য দিল্লিতে নদীর ধারে ফিরোজ শাহ কোটলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আশেপাশে এর কিছু ধ্বংসাবশেষ এখনও বর্তমান। শহরটি প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এক বিশাল এলাকা ছিল, যার মধ্যে অনেক প্রাসাদ, মসজিদ, স্তম্ভযুক্ত সভাঘর এবং একটি জলাধার ছিল। ফিরোজ শাহ তার প্রাসাদের চূড়ায় ১৫০০ বছরের পুরোনো একটি অশোক স্তম্ভও স্থাপন করেন, যেটি সম্রাট অশোক মিরাটে স্থাপন করেছিলেন। ফিরোজ শাহকে হৌজ খাসের একটি উঁচু সমাধিতে সমাধিস্থ করা হয়। তাঁর মৃত্যুর পর সাম্রাজ্য দুর্বল ও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং তৈমুর দিল্লি আক্রমণ করে শহরটিকে ধ্বংস করেন। তুঘলকদের পর সৈয়দ ও লোদি বংশ দিল্লিতে রাজত্ব করলেও তারা তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য নির্মাণ করেননি; সেই সময়ের উদ্যানের সমাধিসমূহ। অবশেষে ১৫২৬ সালে বাবর শেষ লোদি সুলতানকে পরাজিত করে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
লাল কেল্লার দিল্লি গেট
  • 7 শেরগড় — ১৫৩৩ সালে বাবরের পুত্র হুমায়ুন ফিরোজাবাদের দক্ষিণে নদীর ধারে দিনপনাহ নামে একটি নতুন শহর গড়েন। ১৫৪০ সালে শের শাহ সুরির কাছে পরাজিত হয়ে হুমায়ুন দিল্লি ছাড়তে বাধ্য হন। শের শাহ সুরি তখন দিনপনাহর ধ্বংসাবশেষের উপরেই শেরগড় নামে নতুন শহর প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে দিল্লি চিড়িয়াখানার কাছে পুরানা কিলা বলতে যা দেখা যায়, সেটিই হল শেরগড়। হুমায়ুন পরে দিল্লি পুনরুদ্ধার করে ক্ষমতায় ফিরে আসেন এবং শেরগড় থেকেই শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
  • 8 শাহজাহানাবাদ (পুরানো দিল্লি) — পরবর্তী মুঘল সম্রাটরা দিল্লি ছেড়ে আগ্রাকে রাজধানী বানান। পরে হুমায়ুনের প্রপৌত্র শাহজাহান দিল্লিতে ফিরে এসে শাহজাহানাবাদ শহরটি গড়ে তোলেন, যার মধ্যে জামা মসজিদ এবং লাল কেল্লাও ছিল। সেই শহরের প্রাচীরের অনেকটাই এবং ছয়টি ফটকের মধ্যে তিনটি আজও টিকে আছে।
  • 9 নতুন দিল্লি — ১৯১১ সালে ব্রিটিশরা ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিলে নতুন দিল্লির পত্তন হয়। এটি স্থপতি স্যার এডউইন লুটিয়েন্সের নকশায় তৈরি একটি পরিকল্পিত শহর।

জনসংখ্যার উপাত্ত

[সম্পাদনা]

দিল্লির মুসলিম স্থাপত্যের নির্মাতাদের সব বংশধর এখন আর দিল্লিতে বাস করেন না। দেশভাগের সময় তাঁদের অনেকেই পাকিস্তানে চলে যান। ফলে পুরানো দিল্লির যে সম্প্রদায়টি পুরোনো দরবারী ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে, তাদের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। শহরটি নানা স্থাপত্য ও স্মৃতিস্তম্ভে সমৃদ্ধ, যার মধ্যে ১৭৪টি এএসআই দ্বারা সুরক্ষিত। দিল্লির জনসংখ্যায় নানা প্রদেশের মানুষের মিশ্রণ দেখা যায়, যারা মূলত উত্তর ভারত বা তারও বাইরের অঞ্চল থেকে এসেছেন। এখানকার প্রভাবশালী উত্তর ভারতীয় জনগোষ্ঠীগুলির মধ্যে পাঞ্জাবিরা অন্যতম। দিল্লিতে দক্ষিণ ভারতীয়দের উপস্থিতিও বেশ লক্ষণীয়, বিশেষ করে করোল বাগ, আর.কে. পুরম, ময়ূর বিহার এবং মুনিরকার মতো এলাকাগুলিতে। দক্ষিণ দিল্লিতে অবস্থিত চিত্তরঞ্জন পার্ক নামক বাঙালি বসতিটি যেন দিল্লির বুকে এক টুকরো কলকাতা। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ছাত্রছাত্রীদের এখানে টেনে আনে, যা দিল্লির ছাত্রসমাজকে দেশের অন্যতম বৈচিত্র্যপূর্ণ করে তুলেছে।

অবস্থান

[সম্পাদনা]

গাঙ্গেয় সমভূমির অন্যান্য অঞ্চলের মতোই দিল্লিও একটি প্রায় সমতল এলাকা। এখানকার দুটি প্রধান ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য হল যমুনা নদী, যা শহরের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে, এবং দিল্লি শৈলশিরা, যা শহরের পশ্চিমে একটি নিচু পাহাড়ের মতো অর্ধবৃত্ত তৈরি করেছে। যমুনার পশ্চিম তীরে রয়েছে অত্যন্ত জনবহুল ও ঘিঞ্জি পুরানো দিল্লি (মধ্য দিল্লি) এবং তার দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে ব্রিটিশদের তৈরি নতুন দিল্লি, যা তাদের রাজত্ব চালানোর জন্য চওড়া, গাছপালা ঘেরা রাস্তা দিয়ে সাজানো হয়েছিল। বাকি শহরটি মূলত শহরতলি ও বস্তি এলাকা নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে দক্ষিণ দিল্লি সাধারণত বেশি বিত্তশালী মানুষদের বাস।

জলবায়ু

[সম্পাদনা]
দিল্লি
জলবায়ু চার্ট (ব্যাখ্যা)
জাফেমামেজুজুসেডি
 
 
 
১৯
 
 
২১
 
 
 
২০
 
 
২৪
১০
 
 
 
১৫
 
 
২৯
১৫
 
 
 
২১
 
 
৩৬
২২
 
 
 
২৫
 
 
৩৯
২৬
 
 
 
৭০
 
 
৩৯
২৮
 
 
 
২৩৭
 
 
৩৫
২৭
 
 
 
২৩৫
 
 
৩৪
২৬
 
 
 
১১৩
 
 
৩৪
২৫
 
 
 
১৭
 
 
৩৩
২০
 
 
 
 
 
২৮
১৩
 
 
 
 
 
২৩
°C-এ গড় উচ্চ ও নিম্ন তাপমাত্রা
Precipitation+Snow totals in mm
উৎস: w:Delhi#Climate
Imperial conversion
জাফেমামেজুজুসেডি
 
 
 
০.৭
 
 
৭০
৪৬
 
 
 
০.৮
 
 
৭৪
৫০
 
 
 
০.৬
 
 
৮৫
৬০
 
 
 
০.৮
 
 
৯৭
৭১
 
 
 
 
 
১০৩
৭৯
 
 
 
২.৮
 
 
১০২
৮২
 
 
 
৯.৩
 
 
৯৪
৮০
 
 
 
৯.৩
 
 
৯২
৭৯
 
 
 
৪.৪
 
 
৯৪
৭৬
 
 
 
০.৭
 
 
৯১
৬৭
 
 
 
০.৪
 
 
৮৩
৫৬
 
 
 
০.৪
 
 
৭৩
৪৭
°F-এ গড় উচ্চ ও নিম্ন তাপমাত্রা
Precipitation+Snow totals in inches

দিল্লির আবহাওয়ায় পাঁচটি আলাদা ঋতুর প্রভাব দেখা যায়। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শীতকালে বেশ ঠান্ডা পড়ে (রাতে তাপমাত্রা প্রায় হিমাঙ্কের কাছাকাছি নেমে যায়, যদিও দিনের বেলাটা আরামদায়ক থাকে)। এই সময়টা দিল্লির কুখ্যাত ঘন ধোঁয়াশার জন্য পরিচিত, যা পুরো শহরকে ঢেকে রাখে। এর ফলে কেবল বিমান বাতিল বা ট্রেন দেরিতে চলাই নয়, বাইরে বেরোলে উন্নত মানের মাস্ক পরার এবং যথাসম্ভব ঘরে থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বসন্তকাল বেশ মনোরম, দিনগুলি উষ্ণ এবং সন্ধ্যা শীতল থাকে। এপ্রিল ও মে মাসের গ্রীষ্মকাল অত্যন্ত অস্বস্তিকর; তাপমাত্রা ৪৫ °সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত পৌঁছে যায়। বর্ষাকালে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও বাতাসে আর্দ্রতা খুব বেশি থাকে। অক্টোবর ও নভেম্বরের শরৎকালে দিন উষ্ণ এবং রাত তুলনামূলকভাবে শীতল থাকে।

পড়ুন

[সম্পাদনা]
  • দিল্লি – ইন্ডিয়া চার্মিং কেয়স” - জনি ফিনসোয়েন এই বইটি নতুন দিল্লির বর্তমান ক্ষমতার কেন্দ্র এবং তার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা। বইটির লেখা এবং ১১৭টি ছবি পাঠককে ভারতের রাজধানীর জীবনযাত্রা সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেয়।
  • কালটার্স মাইম : স্টোরিস অফ শিখ চিলড্রেন হু সারভাইভড দ্য ১৯৮৪ দিল্লি ম্যাসাকার - সর্বপ্রীত সিং। এই বইটিতে ১৯৮৪ সালে শিখ-বিরোধী জনতা দ্বারা সংঘটিত গণহত্যা থেকে বেঁচে ফেরা শিখ শিশুদের গল্প বলা হয়েছে। (আইএসবিএন ৯৭৮১৫২৩৮৩৪১৩৬)
  • হুয়েন আ ট্রি শুক দিল্লি  : দ্য ১৯৮৪ কারনেজ অ্যান্ড ইটস আফটারম্যাথ - মনোজ মিত্তার। ১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী দাঙ্গার উপর একটি বই। (আইএসবিএন ৯৭৮৮১৭৪৩৬৬১৯১)
  • টিবেটান্স ইন দিল্লি - এস. খুরানা। এই বইটি দিল্লিতে বসবাসকারী তিব্বতি শরণার্থীদের জীবন নিয়ে। (আইএসবিএন ৯৭৮১৫৪২৯৫৪১৯৮)
  • ডিলিরিয়াস দিল্লি - ডেভ প্রেগার। একজন প্রবাসী বাসিন্দার চোখে দিল্লির একটি চিত্র। (আইএসবিএন ১৬১১৪৫৮৩২৩)

পর্যটন তথ্য

[সম্পাদনা]

কথোপকথন

[সম্পাদনা]

দিল্লি অঞ্চলের স্থানীয় ভাষা হল হিন্দি। এটি কেন্দ্রীয় সরকারেরও প্রধান সরকারি ভাষা। প্রায় সমস্ত স্থানীয় মানুষই হিন্দিতে কথা বলেন, তবে প্রায়শই তাদের উচ্চারণে বিহারি এবং পাঞ্জাবি টান লক্ষ্য করা যায়। অধিকাংশ শিক্ষিত মানুষ ইংরেজিতেও পারদর্শী। এছাড়াও, অনেক দোকানদার এবং ট্যাক্সি চালক কাজ চালানোর মতো ইংরেজি বলতে পারেন। পাঞ্জাবি এবং উর্দু দিল্লির সরকারি ভাষা। এই দুটি ভাষাও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত এবং তারা সহজেই বুঝতে পারেন। দিল্লিতে যে হিন্দি বলা হয়, তাতে ফারসি ভাষার বেশ প্রভাব রয়েছে। এটি পশ্চিম উত্তর প্রদেশের হিন্দির মতো, এবং মধ্যপ্রদেশের হিন্দির চেয়ে অনেক কম সংস্কৃত ঘেঁষা। সাধারণত এখানকার সাইনবোর্ডগুলি হিন্দি এবং ইংরেজিতে দ্বিভাষিক হয়। কিছু রাস্তার চিহ্ন (বিশেষ করে দক্ষিণ ও মধ্য দিল্লিতে) হিন্দি, ইংরেজি, পাঞ্জাবি এবং উর্দু - এই চারটি ভাষাতেই লেখা থাকে। মেট্রোতে ঘোষণাসমূহ হিন্দিতে (পুরুষ কণ্ঠে) এবং ইংরেজিতে (নারী কণ্ঠে) করা হয়। অন্যান্য বড় শহরের মতো দিল্লির স্থানীয়রা বহুভাষিক নন, এবং এখানকার ট্যুর গাইডরাও অন্যান্য ভারতীয় ভাষায় কথা বলেন না। যদিও সারা ভারত থেকে মানুষ দিল্লিতে বাস করেন, তবুও অন্যান্য ভারতীয় ভাষায় কথা বলতে পারেন এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া খুব একটা সহজ নয়।

প্রবেশ

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: স্থলপথে ইস্তাম্বুল থেকে নয়াদিল্লি

বিমানে

[সম্পাদনা]
ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোনে বিমান
  • 1 ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DEL  আইএটিএ, IGI নামেও পরিচিত), নতুন দিল্লি দিল্লিতে আসা অনেক পর্যটকদের জন্য প্রবেশপথ। বিমানবন্দরে বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকি রয়েছে এবং বিমানে ওঠার আগে আপনাকে হয়তো বারো বারের মতো আপনার বোর্ডিং পাস এবং পাসপোর্ট দেখাতে হতে পারে। দিল্লি থেকে আন্তর্জাতিক টার্মিনাল দিয়ে যাওয়ার সময়, নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা আগে পৌঁছানো উচিত। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য দু'ঘণ্টাই যথেষ্ট, তবে লাগেজ চেক-ইন করার জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে কিনা তার উপর সময় নির্ভর করে। যদিও এই প্রক্রিয়াটি কখনও কখনও সময়সাপেক্ষ, তবে এটি বেশ সুবিধাজনক। নতুন টার্মিনালের দোকান এবং রেস্তোরাঁগুলি প্রবেশ এলাকায় অবস্থিত, নিরাপত্তা পরিীক্ষার জায়গার আগে নয়। তবে, আপনি যদি ভারতীয় রুপি পরিবর্তন করে বিদেশি মুদ্রা নিতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই নিরাপত্তা পরিক্ষা পার করার আগেই তা করতে হবে। একটি টার্মিনাল থেকে অন্য টার্মিনালে যাওয়ার জন্য একটি বিনামূল্যের ইন্টার-টার্মিনাল বাস রয়েছে। তবে এর জন্য আপনাকে টার্মিনালের ভিতরে আপনার বোর্ডিং পাস দেখিয়ে একটি কুপন সংগ্রহ করতে হবে, যা আপনাকে বাসে বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ দেবে। মনে রাখবেন যে পশ্চিমা দেশগুলির বিমানবন্দরের মতো নয়, এই বাসগুলি শহরের যানজটের মধ্যে দিয়েও যেতে পারে এবং ব্যস্ত সময়ে বা অন্যান্য কারণে দেরি হতে পারে। (Q821275)
  • 2 হিণ্ডন বিমানবন্দর (HDX  আইএটিএ), গাজিয়াবাদ এটি একটি বিমান ঘাঁটির ভিতরে অবস্থিত একটি অসামরিক ছিটমহল হিসাবে কিছু আঞ্চলিক ফ্লাইটের পরিষেবা দেয়। আইজিআই-তে আরও সম্প্রসারণের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। (Q12693010)

বিমান যাত্রীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায়, নয়ডার কাছে জেওয়ারে একটি নতুন বিমানবন্দর তৈরি করা হচ্ছে।

বাস যোগে নেপালের কাঠমান্ডুচিতবন (৩৬ ঘণ্টার বেশি) এবং ভারতের প্রায় প্রতিটি শহর থেকে দিল্লিতে আসা যায়। যদিও ট্রেনযাত্রার মতো আরামদায়ক নয়, তবুও কিছু গন্তব্যের জন্য, বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলের ক্ষেত্রে, বাসই একমাত্র উপায়।

দিল্লিতে তিনটি প্রধান আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাল (আইএসবিটি) রয়েছে - কাশ্মীরী গেট আইএসবিটি, সরাই কালে খান আইএসবিটি এবং আনন্দ বিহার আইএসবিটি। দিল্লি পরিবহন নিগম এখানকার প্রধান পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা, তবে প্রতিটি রাজ্যও তাদের নিজস্ব বাস চালায় এবং কিছু বেসরকারি সংস্থাও রয়েছে।

  • 3 কাশ্মীরী গেট আইএসবিটি (মহারানা প্রতাপ) (মেট্রো কাশ্মীরী গেট, লাইন ১/২), +৯১ ১১ ৪৩০৯০১০০, ইমেইল: এটি দিল্লির "প্রধান" আইএসবিটি এবং সবগুলির মধ্যে বৃহত্তম। এখান থেকে উত্তর দিকের বাস ছাড়ে: পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, গাড়ওয়াল, রাজস্থান, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং নেপাল
  • 4 সরাই কালে খান আইএসবিটি (বীর হাকিকত রাই) (হযরত নিজামুদ্দিন রেলওয়ে স্টেশনের পাশে)। দক্ষিণ দিকের বাস ছাড়ে, (আগ্রা, মধ্যপ্রদেশ)
  • 5 আনন্দ বিহার আইএসবিটি (স্বামী বিবেকানন্দ) (যমুনার পূর্ব তীরে, মেট্রো: আনন্দ বিহার)। পূর্ব দিকের বাস ছাড়ে (লখনউ, কুমায়ুন)
  • 6 বিকানের হাউস, পান্ডারা রোড, নতুন দিল্লি (মেট্রো: সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশন)। এটি একটি বাস স্টপ। জয়পুর থেকে আসা বাতানুকূল ভলভো বাস সহ অন্যান্য বাস এখানে এসে দাঁড়ায়। জয়পুর ও দিল্লির মধ্যে যাতায়াতের জন্য এই বাস স্টপটি খুবই ভালো, আইএসবিটির চেয়ে কম ভিড় এবং এখানে পৌঁছানোও সহজ।
  • 7 মজনু কা টিলা, নিউ অরুণা নগর, (তিব্বতি কলোনি, মেট্রো বিধান সভা থেকে অল্প দূরত্বে, রিকশায় যাওয়া যায়)। ধর্মশালাগামী বাস

ট্রেনে

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: ভারতে রেল ভ্রমণ

টিকিট ঘর থেকে বা ভ্রমণের আগে অনলাইনে টিকিট কিনে ফেলার পর, আপনাকে শুধু আপনার কেনা শ্রেণীর কামরায় যেতে হবে। আপনি কামরায় উঠে প্রথম উপলব্ধ আসনে বসতে পারেন, অথবা উচ্চ শ্রেণীর ক্ষেত্রে, ট্রেন থামলে কামরার বাইরে যাত্রীদের একটি তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়। তালিকায় আপনার নাম খুঁজে নির্দিষ্ট কামরা, কেবিন এবং আসনে চলে যান। বোর্ডিং পাস নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, তাই ভিড়ের মধ্য থেকে যদি কেউ এসে আপনাকে একথা বলে, তবে তার কথা শুনবেন না; আপনি প্রতারণার শিকার হতে পারেন। যদি সাহস করে এগোতে চান, তবে আপনি কেবল একটি সাধারণ দ্বিতীয় শ্রেণীর টিকিট কিনে যেকোনো কামরায় উঠে পড়তে পারেন যেখানে জায়গা পাওয়া যায়। ট্রেন চলতে শুরু করলে টিটই এসে আপনার টিকিট পরীক্ষা করবেন। আপনার টিকিটের চেয়ে উচ্চ ভাড়ার শ্রেণীতে থাকলে, আপনাকে শুধু ভাড়ার পার্থক্যটুকু টিটইকে দিয়ে দিতে হবে। এখানে একমাত্র ঝুঁকি হল যে ট্রেনটি সম্পূর্ণ ভর্তি থাকলে আপনাকে সাধারণ কামরাতেই উঠতে হবে। একখানে আপনি বসার জায়গা নাও পেতে পারেন ।

টিকিট কেনা: সবচেয়ে সহজ উপায় হল IRCTC বুকিং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কাটা। নিবন্ধীকরণের জন্য একটি ই-মেইল ঠিকানা এবং একটি মোবাইল ফোন নম্বর যাচাই করতে হয়।

ভিড়ের মধ্য থেকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসা কোনো অপরিচিত ব্যক্তিকে বিশ্বাস করবেন না; তাদের উপেক্ষা করুন। সর্বদা অনুসন্ধান কাউন্টারে বা পুলিশকর্মীদের (খাকি উর্দি পরা) কাছে সাহায্য চান। যে কেউ নিজে থেকে আপনার কাছে আসবে তাকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা উচিত। আপনার ট্রেন খুঁজে পেতে এবং আপনার মালপত্র বহন করার জন্য কুলি (কমলা পোশাক পরা এবং বাহুতে ধাতব ব্যাজ লাগানো) নিয়োগ করতে পারেন, যার বিনিময়ে কিছু বকশিস দিতে হবে।

  • টিকিট ঘর (কনট প্লেসের রাস্তার উপর, অনেকক্ষণ খোলা থাকে)। এখানে পর্যটন বুকিং অফিসের চেয়ে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় না। আপনি যে ট্রেনে যেতে চান তার নম্বর বা নাম আপনার জানা প্রয়োজন।

নতুন দিল্লি রেলওয়ে স্টেশন

[সম্পাদনা]
আজমেরী গেট প্রান্তের নতুন দিল্লি রেলওয়ে স্টেশন
  • 8 নতুন দিল্লি  NR  (NDLS) (পাহাড়গঞ্জের বাইরে, যা ব্যাকপ্যাকারদের এলাকা নামেও পরিচিত, নতুন দিল্লি স্টেশন থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে গাড়িতে যেতে প্রায় ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সময় লাগে)। সকাল ৬টা–রাত ১১টা আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্যুরো নামে একটি পর্যটন টিকিট অফিস নতুন দিল্লি রেলওয়ে স্টেশনের মূল ভবনের ভিতরেই ওপরের তলায় (মেট্রোর উল্টো দিকে, ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাছে) অফিস চলাকালীন সময়ে খোলা থাকে। মনে রাখবেন যে এটি শুধুমাত্র বিদেশী পর্যটকদের জন্য, তাই আপনার অবশ্যই একটি পর্যটন ভিসা থাকতে হবে (অর্থাৎ ছাত্র এবং কাজের ভিসা গ্রহণযোগ্য নয়)। অনাবাসী ভারতীয়রাও এই অফিসের মাধ্যমে তাদের টিকিট বুক করতে পারেন। পাসপোর্টের প্রয়োজন হবে। এমনকি ভিসার নম্বরও লাগে। তারা ভিসা/মাস্টারকার্ড এবং রুপে কার্ডের (যা একটি ভারতীয় পেমেন্ট পদ্ধতি) মাধ্যমে ডেবিট/ক্রেডিট পেমেন্ট গ্রহণ করে। টিকিট পেতে, প্রথমে ঘরের মাঝখানে গিয়ে রিজার্ভেশন এবং ইনফরমেশন ডেস্কের জন্য নম্বর নিন, এবং একটি ফর্ম পূরণ করুন। তারপর দুটি ইউ-আকৃতির চেয়ারের লাইনের একটিতে দাঁড়ান, ফর্মটি পূরণ করুন এবং দীর্ঘ অপেক্ষার জন্য প্রস্তুত হন। আপনার ইনফরমেশন নম্বর ডাকা হলে, ক্লার্কের কাছে আপনার পছন্দের ট্রেনের উপলব্ধতা পরীক্ষা করান এবং ফর্ম সম্পর্কে আপনার যেকোনো প্রশ্নের উত্তর জেনে নিন। তারপর আপনার রিজার্ভেশন নম্বর ডাকার জন্য অপেক্ষা করুন। মনে রাখবেন যে আপনি রিজার্ভেশন ডেস্কে পৌঁছানোর সময় আপনার পছন্দের ট্রেনটি আর উপলব্ধ নাও থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে আপনি অন্য একটি ট্রেনের জন্য চেষ্টা করতে পারেন। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সময় যদি আপনার শৌচাগারের প্রয়োজন হয়, তবে পাশের দরজা দিয়ে বারান্দায় বাইরে অপেক্ষাকৃত পরিষ্কার পুরুষ এবং মহিলাদের শৌচাগার রয়েছে। স্টেশনটি বড়, ভিড়ে পরিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর এবং দালাল বা টাউটে ভরা। টেমপ্লেট:Pbri প্রথমবার গেলে আপনার ট্রেন খুঁজে পেতে এক ঘণ্টা সময় হাতে রাখুন। ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ডের উপর বিশ্বাস করবেন না, যেগুলিতে প্রায়শই ভুল তথ্য দেখানো হয়। পরিবর্তে ঘোষণা শুনুন এবং আপনার ট্রেন খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত উর্দি পরা একাধিক ব্যক্তিকে (পুলিশ) জিজ্ঞাসা করুন। (Q2742296)

নতুন দিল্লি স্টেশন থেকে যাতায়াতের বিকল্প:

  • মেট্রোতে: নতুন দিল্লি স্টেশনে দিল্লি মেট্রোর হলুদ  2  এবং কমলা  Airport Express  লাইন পরিষেবা দেয়। মেট্রোর প্রস্থান পথগুলি আজমেরী গেট (দ্বিতীয় প্রবেশদ্বার) প্রান্তের ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাছে অবস্থিত।
  • ট্যাক্সিতে: ট্র্যাফিকের উপর নির্ভর করে, একটি ট্যাক্সি ভাড়া প্রায় ₹৪০০ লাগতে পারে। দিল্লি পুলিশের দ্বারা পরিচালিত প্রি-পেইড ট্যাক্সি বুথ রয়েছে। আপনি যদি স্টেশনে পৌঁছে ট্যাক্সি নিতে চান, তবে দিল্লি পুলিশের প্রি-পেইড ট্যাক্সি বুথে যান। দুর্ভাগ্যবশত, এই বুথটি ট্যাক্সি পার্কিংয়ের একেবারে উত্তর প্রান্তে (স্টেশনের মূল প্রস্থান পথ থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে) অবস্থিত এবং আপনি প্রি-পেইড ট্যাক্সি দেওয়ার দাবি করা দালালদের সম্মুখীন হবেন; তাদের উপেক্ষা করে দিল্লি পুলিশের দ্বারা পরিচালিত প্রি-পেইড ট্যাক্সি বুথটি খুঁজে নিন যা নিরাপদ এবং সবচেয়ে কম খরচের। আপনি মূল প্রবেশপথের বাইরের প্লাজা থেকেও প্রি-পেইড রিকশা এবং ট্যাক্সি নিতে পারেন।

দিল্লি জংশন

[সম্পাদনা]
  • 9 দিল্লি জংশন  NR  (DLI, পুরানো দিল্লি) (মেট্রো: চাঁদনী চক । স্টেশনের পূর্ব প্রান্তে বাইরে একটি প্রবেশদ্বার রয়েছে এবং মূল রাস্তার ওপারেও একটি প্রবেশদ্বার রয়েছে (শেষ মেট্রো প্রায় সকাল ১১:৩০)। এখান থেকে অটোরিকশা নিলে, প্রি-পেইড ডেস্ক প্রায়শই তাদের জানালায় স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত অফিসিয়াল মূল্য তালিকার চেয়ে তিনগুণ বেশি টাকা চাইতে পারে - দুঃখজনকভাবে, দরাদরি করা প্রায়শই সস্তা হয়।)। (Q3633132)

হযরত নিজামুদ্দিন

[সম্পাদনা]
  • 10 হযরত নিজামুদ্দিন  NR  (NZM), হর্ষ রোড, নিজামুদ্দিন পূর্ব, (দক্ষিণে কয়েক কিলোমিটার দূরে। রিং রোডে অবস্থিত সরাই কালে খান আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনালে ২৬১, ৩০৬ নম্বর বাসে গিয়ে সেখান থেকে হেঁটে স্টেশনে যেতে হবে (৪০০ মিটার)।)। বেশিরভাগ দক্ষিণগামী ট্রেন এখান থেকে ছাড়ে। এটি তিনটি বড় স্টেশনের মধ্যে সবচেয়ে কম বিশৃঙ্খল, কিন্তু তবুও বেশ বড় এবং সাইনবোর্ড খুব একটা ভালো নয়; আপনার ট্রেন কোনটি তা বোঝার জন্য ঘোষণা শুনুন। স্টেশনে একটি বেশ ভালো ফুড কোর্ট রয়েছে যেখানে স্যান্ডউইচ এবং সিঙাড়া সহ সস্তা, স্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি হয়। (Q2723139)

অন্যান্য স্টেশন

[সম্পাদনা]
  • 11 আনন্দ বিহার টার্মিনাল (ANVT) (গাজিয়াবাদ-দিল্লি সীমান্তের কাছে; মেট্রো: আনন্দ বিহার  আনন্দ বিহার আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনালের ঠিক বিপরীতে)। বেশিরভাগ পূর্বগামী ট্রেনগুলির টার্মিনাল। (Q4751289)
  • 12 দিল্লি সরাই রোহিলা, রেল অফিসারদের কলোনি, (মেট্রো: শাস্ত্রী নগর ; বাস ৭১, ৮৯)। (Q3635051)
  • 13 দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট (দিল্লি ক্যান্ট-এ বাস ৫১৮, ৫৪৫, ৫৮৮ )। রয়্যাল ওরিয়েন্টের মতো বিলাসবহুল ট্রেনগুলি এই স্টেশন থেকে ছাড়ে। এছাড়া, আজমীর থেকে একটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস দিল্লি ক্যান্টনমেন্টে এসে যাত্রা শেষ করে। (Q16955670)

র‍্যাপিড রেলে

[সম্পাদনা]

র‍্যাপিড রেল, যা সরকারিভাবে RAPIDX নামে পরিচিত, লোকাল এবং এক্সপ্রেস ট্রেনের চেয়ে দ্রুতগামী। ২০২৪ সাল অনুযায়ী, দিল্লি-মিরাট র‍্যাপিড রেলের সাহিবাবাদ-দুহাই অংশটি চালু রয়েছে। তবে র‍্যাপিড রেলে করে দিল্লিতে পৌঁছানোর জন্য আপনাকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। র‍্যাপিড রেলে ব্যবহৃত ট্রেনগুলিকে নমো ভারত বলা হয়।

ঘুরে দেখুন

[সম্পাদনা]

দিল্লির মধ্যে যাতায়াত করাটা সবসময়ই একটা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। এখানকার ট্র্যাফিক মোটের ওপর ভয়াবহ যানজটপূর্ণ, এবং অনেক চালকই পর্যটকদের কাছে চালু ভাড়ার দশ গুণ দাম চাইতে দু'বার ভাবেন না। নীচে দেওয়া দামগুলিকে একটি সাধারণ নির্দেশিকা হিসাবে ব্যবহার করুন এবং যাত্রা শুরু করার আগেই ভাড়া ঠিক করে নিন। যাতায়াতের সেরা উপায় হল মেট্রো, যেখানে মহিলাদের জন্য আলাদা কামরা রয়েছে (যা ভিড়ের সময় খুব কার্যকরী প্রমাণিত হয়)। মেট্রো পরিষ্কার, দ্রুত এবং সাধারণত তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছল, মধ্যবিত্ত ছাত্রছাত্রী বা কাজে যাতায়াতকারী নিত্যযাত্রীরা এটি ব্যবহার করেন। শহরের এমন কোনো জায়গা নেই বললেই চলে যেখানে মেট্রোর মাধ্যমে পৌঁছানো যায় না।

মেট্রোতে

[সম্পাদনা]
দিল্লি মেট্রোর কামরা
দিল্লি মেট্রো এবং রেল নেটওয়ার্ক

দ্রুত প্রসারিত দিল্লি মেট্রো নেটওয়ার্ক হল শহর জুড়ে সস্তায়, দ্রুত, মূলত ঝামেলাহীন এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত উপায়ে ঘুরে বেড়ানোর একটি মাধ্যম, যদিও এর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে ব্যস্ত সময়ে প্রধান ইন্টারচেঞ্জ স্টেশনগুলির ভিড় মুম্বাইয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। ২০২৫ সাল অনুযায়ী, ৯টি লাইন চালু রয়েছে:

  • লাল লাইন  1 : দিলশাদ গার্ডেন–রিঠালা
  • হলুদ লাইন  2 : সময়পুর বদলি–হুডা সিটি সেন্টার
  • নীল লাইন  3/4 : দ্বারকা সেক্টর ২১–নয়ডা ইলেকট্রনিক সিটি
    • নীল লাইন শাখা: যমুনা ব্যাঙ্ক–বৈশালী
  • সবুজ লাইন  5 : মুণ্ডকা–ইন্দ্রলোক
    • সবুজ লাইন শাখা: অশোক পার্ক মেইন–কীর্তি নগর
  • বেগুনি লাইন  6 : কাশ্মীরী গেট–বল্লভগড়
  • কমলা লাইন  Airport Express : নতুন দিল্লি–আইজিআই বিমানবন্দর–দ্বারকা সেক্টর ২১
  • গোলাপী লাইন  7 : মজলিস পার্ক–শিব বিহার
  • ম্যাজেন্টা লাইন  8 : জনকপুরী পশ্চিম–বোটানিক্যাল গার্ডেন
  • ধূসর লাইন  9 : দ্বারকা–ধানসা

ভাড়া ₹১০-৬০ এর মধ্যে, শুধু একটি টোকেন কিনুন, প্রয়োজন মতো লাইন পরিবর্তন করুন এবং বেরোনোর সময় নির্দিষ্ট জায়গায় টোকেনটি ফেলে দিন। টোকেন শুধুমাত্র যে স্টেশন থেকে কেনা হয়েছে সেখান থেকেই ব্যবহার করা যায়, তাই আপনি দুটি টোকেন কিনে দ্বিতীয়টি বাড়ি ফেরার জন্য ব্যবহার করতে পারবেন না। আপনি যদি কিছুদিন থাকার পরিকল্পনা করেন, তবে ₹২০০ দিয়ে একটি "স্মার্ট কার্ড" কিনতে পারেন, যার মধ্যে ₹১৫০ ব্যবহারযোগ্য এবং ₹৫০ জমা থাকে; এটি ব্যবহার করলে ১০% ছাড় পাওয়া যায় এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, লাইনে দাঁড়ানো এড়ানো যায়। এছাড়াও একটি "পর্যটন কার্ড" রয়েছে যা ₹১৫০ (১ দিন) বা ₹৩০০ (৩ দিন) দিয়ে সীমাহীন ভ্রমণের সুযোগ দেয়, তবে এটি ব্যবহার করে আপনার পয়সা উসুল হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এয়ারপোর্ট এক্সপ্রেসে ভ্রমণের জন্য বিশেষ ভাড়া প্রযোজ্য। ব্যস্ত সময়ে, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় স্টেশনগুলিতে, নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য আপনাকে ২০ মিনিটেরও বেশি সময় লাইনে দাঁড়াতে হতে পারে।

বিশেষ করে, হলুদ লাইনটি দিল্লি জংশন (চাঁদনী চক, জামা মসজিদ) এবং নতুন দিল্লি রেলওয়ে স্টেশন, আইএসবিটি বাস টার্মিনাল, পাহাড়গঞ্জের ব্যাকপ্যাকার এলাকা, হৌজ খাস এবং কুতুব মিনারে যাওয়ার জন্য খুব দরকারি। নীল লাইনটিও অক্ষরধাম, বোটানিক্যাল গার্ডেন পরিদর্শনের জন্য এবং আর. কে. আশ্রম মার্গ স্টেশনের মাধ্যমে পাহাড়গঞ্জের পশ্চিম অংশে পৌঁছানোর জন্য সুবিধাজনক। ম্যাজেন্টা লাইনটি দিল্লি বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১-এ পৌঁছানোর জন্য এবং হৌজ খাস, লোটাস টেম্পল, ওখলা পাখি অভয়ারণ্য এবং বোটানিক্যাল গার্ডেন পরিদর্শনের জন্য বেশ উপকারী।

সাবধান: মেট্রো স্টেশনগুলিতে নতুন, সরকারি, ভারতীয় নাম ব্যবহার করা হয়, তাই কনট প্লেস হল "রাজীব চক", দিল্লি জংশন হল "চাঁদনী চক" এবং আইএসবিটি হল "কাশ্মীরী গেট"।

প্রতিটি ট্রেনের প্রথম কামরাটি শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত, এটি লঙ্ঘন করলে জরিমানা হতে পারে। মহিলাদের সাথে থাকা পুরুষ যাত্রীদের প্রবেশও নিষিদ্ধ।

মনে রাখবেন, যদি আপনি ব্যস্ত সময়ে কোনো প্রধান স্টেশন থেকে বের হতে চান, তবে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীদের ভিড় আপনাকে আবার ভিতরে ঢোকার আগেই আপনাকে ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে আসতে হবে। বাইরে বেরোনোর জন্য নিজের শক্তি প্রয়োগ করতে ভয় পাবেন না।

স্থানীয় ট্রেনে

[সম্পাদনা]

দিল্লির রেলপথে সীমিত সংখ্যক যাত্রী পরিষেবা চালু আছে, তবে এসব সুবিধা ব্যবহারবান্ধব মেট্রো স্টেশনের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ট্রেন স্টেশনগুলো যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত নয়। এছাড়া ব্যস্ত সময় ছাড়া দিল্লি রিং রেলওয়েতে কোনো যাত্রী পরিষেবা চালু থাকে না।

দিল্লির বাসে নিত্যসঙ্গী ভিড়

দিল্লির সমস্ত অংশ বাসের মাধ্যমে ভালোভাবে সংযুক্ত এবং ₹৫-২৫ টাকার মধ্যে ভাড়া হওয়ায় এগুলি খুব সস্তা। তবে, বেশিরভাগ সময়ই এগুলিতে বেশ ভিড় থাকে। লাল এবং নীল বাসগুলি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং সবুজ ও কমলা রঙের বাসগুলি সাধারণ। যেহেতু বাস স্টপগুলিতে বাসের রুট সঠিকভাবে লেখা থাকে না, তাই আপনার পথ খুঁজে পেতে অসুবিধা হতে পারে। আপনার গন্তব্যের বাসের রুট জানার জন্য বাস স্টপে অন্য লোকেদের জিজ্ঞাসা করাই সেরা উপায়। তবে, বাসগুলি বেশ ঘন ঘন চলে, বেশিরভাগ রুটে প্রতি ১৫-২০ মিনিট অন্তর একটি করে বাস পাওয়া যায়। দিল্লিতে দুই ধরনের বাস চলে:

  • সরকারি DTC বাস (বড় জানালা সহ লাল এবং সবুজ রঙের)
  • বেসরকারি নীল-লাইন বাস (কমলা রঙের)

যদি আপনার কাছে বিকল্প থাকে, তবে ডিটিসি বাসে উঠুন। এগুলি কম জায়গায় থামে এবং সাধারণত ভিড়ও কম থাকে। মনে রাখবেন যে অনেক বাস, এমনকি ডিটিসি বাসও, পর্যাপ্ত যাত্রী ওঠা-নামা করলে প্রায় যেকোনো জায়গাতেই থেমে যায়।

বাসের পিছন দিক থেকে উঠুন এবং দরজার পাশেই বসে থাকা টিকিট বিক্রেতাকে ভাড়া দিন। অবশ্যই আপনার টিকিটটি যত্ন করে রাখুন, কারণ এখানে প্রায়শই টিকিট পরীক্ষা করা হয়। বাসের বাম দিকের কিছু আসন মহিলা এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত থাকতে পারে। নামার সময় হলে, বাসের সামনের দিকে এগিয়ে যান। যেমনটা আশা করা যায়, খুব ভিড় থাকলে এই সমস্ত নিয়ম প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়।

হপ অন হপ অফ

[সম্পাদনা]
হপ অন হপ অফ দিল্লি ট্যুরিজম বাস
  • হোহো, +৯১ ১১ ৪০৯৪ ০০০০ (হেল্পলাইন) দিল্লি ট্যুরিজম একটি হপ অন হপ অফ বাস পরিষেবা চালায়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নিচু মেঝের বাসগুলির একটি বহর শহর জুড়ে পূর্ব-নির্ধারিত কিছু স্টপেজে চলে এবং যাত্রীরা বাস থেকে নেমে নিজেদের সুবিধামতো জায়গাটি ঘুরে দেখে পরবর্তী বাসে উঠে পড়তে পারেন। এই পরিষেবাটি প্রতি ৪৫ মিনিট অন্তর চলে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভ, স্মারক, জাদুঘর এবং কেনাকাটার জায়গাগুলি এর অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি বাসে একজন জ্ঞানী, ইংরেজিভাষী গাইড থাকেন। টিকিটের দাম ₹৩০০ এবং এটি টানা ২ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকে। এই পরিষেবা সোমবার বন্ধ থাকে।

ট্যাক্সি

[সম্পাদনা]
ট্যাক্সি

দিল্লির মধ্যে এবং আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন দূরবর্তী স্থান দেখার জন্য একটি ট্যাক্সি বা ভাড়া গাড়ি (সাধারণত চালক সহ) প্রয়োজন। তবে, মেট্রো একটি অনেক সস্তা এবং সমান আরামদায়ক বিকল্প।

দিল্লির বেশিরভাগ ট্যাক্সিই হল পুরোনো কিন্তু নির্ভরযোগ্য, সিএনজি-চালিত অ্যাম্বাসেডর বা ওমনি, যেগুলির স্বতন্ত্র কালো-হলুদ রঙ এবং একটি সবুজ ডোরাকাটা দাগ থাকে। পরিবারের জন্য ভাড়া করা গাড়ি হিসাবে সাধারণত টয়োটা ইনোভা বা শেভ্রোলেট টাভেরা বেশি পছন্দ করা হয়। যদিও সবগুলিতেই মিটার লাগানো থাকে এবং প্রথম কিলোমিটারের জন্য ₹১৫ এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের জন্য ₹৮.৫ ভাড়া হওয়া উচিত, প্রায়শই মিটারগুলিতে কারচুপি করা থাকে এবং আগে থেকেই ভাড়া ঠিক করে নেওয়া ভালো। শহরের মধ্যে বেশিরভাগ যাত্রার খরচ ₹২০০-৫০০ হওয়া উচিত, যদিও বিমানবন্দর যাওয়ার ভাড়া আরও বেশি হবে, যা যাত্রারম্ভের স্থানের উপর নির্ভরশীল। আট ঘণ্টার জন্য গাড়ি ভাড়া করলে প্রায় ₹১,৫০০ খরচ হতে পারে, এবং চালক সহায়ক হলে বকশিশ আশা করা হয়। গাড়ির আকারের উপরেও দাম নির্ভর করে। কালো এবং হলুদ ট্যাক্সিগুলি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয়। এমনকি যদি এগুলিতে এসি থাকেও, তার জন্য আপনাকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে (এবং এর ভাড়া চালকের ইচ্ছামত হয়, তাই ভালোভাবে দরাদরি করুন)।

আধুনিক রেডিও ট্যাক্সি পরিষেবা: প্রতি কিলোমিটারে ₹২০ হওয়ায়, এগুলির ভাড়া অন্যদের তালিকাভুক্ত মূল্যের চেয়ে বেশি, তবে এগুলিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং জিপিএস সহ আধুনিক গাড়ি ব্যবহার করা হয় এবং দিনে ২৪ ঘণ্টা ফোন করে ডাকা যায়। সাধারণ ভাড়া হল ₹২০, এবং প্রথম কিলোমিটারের পর প্রতি ২৫০ মিটারের জন্য ভাড়া ₹৫ করে বাড়ে। আপনার যদি একটি এসইউভি প্রয়োজন হয়, তবে আপনাকে সংস্থাকে আগে থেকে জানাতে হবে, তবে ভাড়া একই থাকে। রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত রাতের খরচ (২৫% অতিরিক্ত) প্রযোজ্য। কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে বুক করুন। অনেক কর্পোরেট কর্মী তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য এই ক্যাবগুলির উপর নির্ভর করেন এবং অফিসের সময় এগুলি বুক করা থাকতে পারে। বকশিশ আশা করা হয় না। বুক করার পর, আপনি গাড়ির লাইসেন্স প্লেট নম্বর এবং চালকের নাম ও মোবাইল নম্বর সহ একটি এসএমএস পাবেন। সাধারণত চালক আপনাকে ফোন করে জানাবেন যে তিনি পৌঁছে গেছেন। অনেক চালকই খুব সাধারণ মানের ইংরেজি বলতে পারেন, তাই ছোট ছোট বাক্য ব্যবহার করুন।

আপনি ট্যাক্সিপিক্সি পরিষেবা ব্যবহার করে সমস্ত ঝামেলা এড়াতে পারেন। আপনার আইফোন/অ্যান্ড্রয়েডে অ্যাপটি ডাউনলোড করুন।

২০২৪ সাল অনুযায়ী, ভাড়ার ট্যাক্সির অ্যাপগুলির মধ্যে উবার, ওলা এবং র‍্যাপিডো (সস্তা ভাড়ার একটি জনপ্রিয় ট্যাক্সি অ্যাপ) অন্তর্ভুক্ত।

বেসরকারি ট্যাক্সি নেবেন না, তারা আপনাকে ভুল হোটেলে বা কোনো "পর্যটন তথ্য কেন্দ্রে" নিয়ে গিয়ে অতিরিক্ত দামে জিনিসপত্র বিক্রি করার চেষ্টা করতে পারে। নিরাপদ থাকতে, চালকের কাছে তার সরকারি কাগজপত্র আছে কিনা তা পরীক্ষা করে নিন।

দিল্লিতে পর্যটকদের নিয়ে ট্যাক্সি যাত্রায় প্রায় সবসময়ই ছোটখাটো প্রতারণা জড়িত থাকে। বেশিরভাগ সময়, চালক আগে থেকে ঠিক করা ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা দাবি করবে। যাত্রার সময়, কমপক্ষে নির্ধারিত ভাড়ার সমান টাকা প্রস্তুত করে আপনার জামার পকেটে বা অনুরূপ কোনো জায়গায় রাখুন। গন্তব্যে পৌঁছে, প্রথমে গাড়ি থেকে আপনার জিনিসপত্র বের করে নিন এবং দরজাটি খোলা রাখুন যাতে চালক আপনাকে অনুসরণ করলে তার গতি কমে যায়। বোকামি করে খুচরো না চেয়ে চালকের হাতে টাকাটা দিন এবং তারপর সঙ্গে সঙ্গে এমন দিকে দ্রুত হাঁটতে শুরু করুন যেদিকে তার পক্ষে আপনাকে অনুসরণ করা সবচেয়ে কঠিন হবে।

পরিষেবা নেটওয়ার্ক ট্যাক্সি

[সম্পাদনা]

দিল্লিতে উবার এবং ওলা ক্যাব সহ বিভিন্ন পরিষেবা নেটওয়ার্ক ("রাইডশেয়ারিং") কোম্পানিও পরিষেবা দেয়। টাকা দেওয়ার আগে এগুলিতে ভাড়া দেখে নিতে ভুলবেন না। যদিও এই পরিষেবাগুলির বেশিরভাগই নগদে টাকা নেয়, অনেকগুলিকে পেটিএমের মতো অনলাইন ওয়ালেট পরিষেবাগুলির সাথেও লিঙ্ক করা যায়, তাই অতিরিক্ত খরচের ঝুঁকি খুব কমই থাকে।

অটোরিকশায়

[সম্পাদনা]
দরজাবিহীন অটোরিকশা

অটোরিকশা (যাকে তিন চাকার স্কুটার, টুক-টুক বা সহজভাবে অটো-ও বলা হয়) অল্প দূরত্বের যাত্রার জন্য বেশ ভালো। এগুলি সর্বদা স্বতন্ত্র হলুদ-সবুজ রঙের হয়। অটোরিকশা হল তিন চাকার, আংশিকভাবে ঘেরা একটি যান যা সিএনজিতে চলে এবং পিছনে তিনজন বসতে পারে। সাধারণত, এগুলি ট্যাক্সির চেয়ে অনেক সস্তা এবং রাস্তা থেকে সহজেই ভাড়া করা যায়। যদিও আইন অনুযায়ী চালকদের গাড়ির মিটার অনুযায়ী ভাড়া নেওয়া উচিত (প্রথম দুই কিলোমিটারের জন্য ₹২৫, এরপর প্রতি কিলোমিটারে ₹৮), এই দরটি অবাস্তবভাবে কম এবং তারা প্রায় সবসময়ই দাম নিয়ে দর কষাকষি করার চেষ্টা করবে। গাড়িতে ওঠার আগে ভাড়া নিয়ে দরাদরি করে নিন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, মিটার যাই দেখাক না কেন, সবচেয়ে ছোট যাত্রার জন্যও মাথাপিছু ₹৩০-৪০ খরচ হবে বলে ধরে নিতে পারেন, তবে শহরের মধ্যে যেকোনো যাত্রার জন্য আপনার ₹১৫০-এর বেশি দেওয়া উচিত নয়। যদি আপনাকে বেশি ভাড়া বলা হয়, তবে সেখান থেকে চলে আসতে ভয় পাবেন না। সাধারণত খুব শীঘ্রই অন্য একটি অটো পাওয়া যায়, এবং এমন চালকও পাওয়া যায় যে আপনাকে ঠকাবে না।

যদি চালকদের সাথে আপনার কোনো সমস্যা হয়, তবে শহরের কেন্দ্রে থাকা অসংখ্য পর্যটন পুলিশ স্টেশনের যেকোনো একটিতে যান এবং তারা আপনাকে একটি অভিযোগের স্লিপ দেবে এবং অটোচালকের ₹৫০০ জরিমানা হবে। যেকোনো অভিযোগের জন্য ফোন করার জন্য গাড়ির গায়ে একটি টেলিফোন নম্বরও লেখা থাকা উচিত।

পুলিশের দ্বারা পরিচালিত বেশ কয়েকটি "প্রি-পেইড" অটো স্ট্যান্ড রয়েছে। আপনি কোথায় যেতে চান তা তাদের বলুন এবং অগ্রিম টাকা দিয়ে দিন। এই ভাড়ার মধ্যে পরিষেবার জন্য ₹৫ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এরপর কুপনটি নিয়ে বাইরে দাঁড়ালে একজন পুলিশকর্মী আপনাকে পরবর্তী উপলব্ধ অটোতে যাওয়ার নির্দেশ দেবেন। আপনার যাত্রা শেষ হলে কুপনটি অটোচালককে দিয়ে দিন, ব্যাস। এর বেশি আর কিছুই দেওয়ার নেই (তারা যাই বলুক না কেন)।

সাইকেল রিকশায়

[সম্পাদনা]
পুরানো দিল্লির চাওড়ি বাজারের যানজট, সামনে জামা মসজিদ

সাইকেল রিকশা হল তিন চাকার, প্যাডেল বা বৈদ্যুতিক শক্তিতে চালিত রিকশা, যার পিছনে যাত্রীদের বসার জন্য আসন এবং সামনে চালক থাকেন। যেসব জায়গা হেঁটে যাওয়ার জন্য বেশি দূর, কিন্তু বাস বা ট্যাক্সি নেওয়ার মতো অতটাও দূর নয়, সেইসব অল্প দূরত্বের যাত্রার জন্য এগুলি বেশ ভালো। সাইকেল রিকশায় মিটার থাকে না, তাই ওঠার আগে ভাড়া ঠিক করে নিন। কয়েক কিলোমিটার যাত্রার জন্য ₹২০-৫০ ভাড়া যুক্তিসঙ্গত।

পুরানো দিল্লির গলিগুলি ঘুরে দেখার জন্য এবং শহরের গন্ধ ও শব্দের আনন্দ উপভোগ করার জন্য সাইকেল রিকশা সবচেয়ে ভালো।

পুরানো দিল্লির কিছু অংশে এবং আবাসিক এলাকাগুলিতে এখনও সাইকেল রিকশা দেখতে পাওয়া যায়, তবে এগুলি এখন আগের চেয়ে কম দেখা যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, ব্যাটারি-চালিত ই-রিকশাগুলি বহুলাংশে এদের জায়গা নিয়েছে, কারণ এগুলি দ্রুততর, আরও সহজলভ্য এবং সাধারণত অল্প দূরত্বের জন্য সস্তা। তাই, পর্যটকরা এখন অতীতের তুলনায় কম প্রচলিত সাইকেল রিকশা দেখতে পারেন।

ই-রিকশায়

[সম্পাদনা]

ইলেকট্রিক রিকশা, যা সাধারণত টুক-টুক বা ই-রিকশা নামে পরিচিত, পুরানো দিল্লির রাস্তায় ঘোরার আনন্দ উপভোগ করার জন্যও ব্যবহৃত হয়। কম জ্বালানি খরচ এবং সাইকেল রিকশার তুলনায় কম শারীরিক পরিশ্রমের কারণে এগুলি অটোরিকশা এবং সাইকেল রিকশার ব্যাটারি-চালিত বিকল্প।

ই-রিকশা এখন সমগ্র দিল্লি জুড়ে ব্যাপকভাবে উপলব্ধ এবং অল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য সবচেয়ে প্রচলিত মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এলাকার মধ্যে ছোটখাটো যাতায়াত এবং মেট্রো স্টেশন, বাজার ও বাস স্টপ থেকে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য এগুলি বিশেষভাবে উপকারী। ভাড়া সাধারণত কম এবং প্রতি যাত্রীর জন্য নির্দিষ্ট থাকে, যদিও ওঠার আগে দাম নিশ্চিত করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

গাড়িতে

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: ভারতে গাড়ি চালানো

দিল্লিতে ভ্রমণের জন্য, আপনি একটি গাড়ি ভাড়া করতে পারেন। এখানকার রাস্তার অবস্থা সাধারণত ভারতের বাকি অংশের চেয়ে ভালো। তবে, দিল্লিতে যানজট একটি বড় উদ্বেগের কারণ - এবং এখানকার ট্র্যাফিক ব্যবস্থা উন্নত দেশগুলির তুলনায় অনেক বেশি বিশৃঙ্খল।

দিল্লিতে গাড়ি চালানো বেশ কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে যারা ভারতীয় রাস্তার অবস্থার সাথে পরিচিত নন তাদের জন্য। যানজট একটি সাধারণ ঘটনা, বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে, এবং এখানকার রাস্তার নিয়ম-কানুন পশ্চিমা দেশগুলির চালকদের অভ্যাসের থেকে ভিন্ন হতে পারে। লেন মেনে চলার নিয়ম প্রায়শই অনুসরণ করা হয় না, হর্ন বাজানো একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, এবং হঠাৎ করে থেমে যাওয়া বা মোড় নেওয়া অস্বাভাবিক নয়। উন্নত দেশ থেকে প্রথমবার আসা পর্যটকদের কাছে গাড়ি চালানো বেশ চাপযুক্ত মনে হতে পারে, তাই সাধারণত নিজে গাড়ি না চালিয়ে ট্যাক্সি, রাইডশেয়ার অ্যাপ বা ভাড়া করা চালকের উপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পায়ে হেঁটে

[সম্পাদনা]

দিল্লির বেশিরভাগ অংশই পথচারীদের জন্য বেশ প্রতিকূল। দূরত্ব অনেক বেশি, রাস্তার চিহ্নগুলি খুব ভালো নয়, এবং পর্যটন কেন্দ্রিক এলাকাগুলিতে আপনাকে প্রতিনিয়ত ভিক্ষুক এবং দালালদের দ্বারা বিরক্ত হতে হবে। রাস্তা পার হওয়ার জন্য প্রায়শই ভারী যানজটের একাধিক লেনের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। একটি অনুমানযোগ্য সরল রেখায় চলার যথাসাধ্য চেষ্টা করুন, যাতে যানবাহনগুলি আপনার পাশ কাটিয়ে যেতে পারে। আরও ভালো হয়, যদি স্থানীয়দের একটি দলের সাথে লেগে থেকে তাদের আড়ালে রাস্তা পার হন। আপনি যদি সত্যিই পায়ে হেঁটে ঘুরতে চান, তবে এই জায়গাগুলি উপযুক্ত:

  • রাষ্ট্রপতি ভবন (রাষ্ট্রপতির বাসভবন) থেকে কর্তব্য পথে ইন্ডিয়া গেট পর্যন্ত হাঁটুন (প্রায় ৩-৪ কিমি হাঁটা পথ)।
  • চাঁদনী চক এলাকায় জামা মসজিদ থেকে লাল কেল্লা পর্যন্ত হাঁটুন।
  • একদম দক্ষিণ দিল্লিতে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে পারেন। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির দক্ষিণ থেকে শুরু করে সঞ্জয় বনের মধ্যে দিয়ে কুতুব মিনার পর্যন্ত যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন যে সঞ্জয় বন সবসময় নিরাপদ নয়, এবং সেখানে দলবদ্ধভাবে, বিশেষত দিনের বেলায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
  • দক্ষিণ দিল্লি-গ্রিন পার্ক-হৌজ খাস ভিলেজ, এবং তারপর হৌজ খাসের ধ্বংসপ্রাপ্ত মাদ্রাসা পর্যন্ত হেঁটে গেলে একটি কেনাকাটার এলাকা, একটি অভিজাত শিল্পীদের গ্রাম, পুরোনো ধ্বংসাবশেষ এবং কিছু সুন্দর বাগান দেখতে পাবেন।

দেখুন

[সম্পাদনা]
স্বতন্ত্র তালিকাগুলি দিল্লি-এর জেলা নিবন্ধে পাওয়া যেতে পারে।
হুমায়ুনের সমাধি

দিল্লি তার দুর্গ, মসজিদ এবং সমাধির মতো চিত্তাকর্ষক স্থাপত্যের জন্য পরিচিত, যেগুলি সেই সময়ে নির্মিত হয়েছিল যখন দিল্লি বিশাল মুসলিম সাম্রাজ্যের কেন্দ্র ছিল। শহর জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কয়েক ডজন উল্লেখযোগ্য স্থান রয়েছে, এবং তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত। সবচেয়ে বেশি পরিদর্শন করা স্থানগুলি হল লাল কেল্লা (মুঘল সম্রাটের সপ্তদশ শতকের প্রাসাদ), জামা মসজিদ (সপ্তদশ শতকের একটি বিশাল এবং সুন্দর মসজিদ), কুতুব মিনার (ত্রয়োদশ শতকের একটি ৭৩মিটার উঁচু মিনার, যার জটিল খোদাইকার্য এখনও ভালোভাবে সংরক্ষিত), হুমায়ুনের সমাধি (মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের ষোড়শ শতকের বিশাল সমাধি), এবং পুরানা কিলা (ষোড়শ শতকের একটি মুঘল দুর্গ)। নতুনরা প্রায়শই দিল্লি এবং নতুন দিল্লির মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে বিভ্রান্ত হন। আসলে, নতুন দিল্লি, যা ভারতের রাজধানী, তা দিল্লিরই একটি জেলা। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১১-১২ সালে নতুন দিল্লি নির্মিত হয়েছিল। আধুনিক যুগে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত হওয়ায়, এর সরকারি ভবনগুলির মধ্যে চওড়া রাস্তা, বড় পার্ক এবং গোলচত্বর রয়েছে। এখানকার জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলি হল ইন্ডিয়া গেট, প্রধান সরকারি ভবনগুলিকে সংযোগকারী কর্তব্য পথ নামক "জাতীয় মল", এবং রাষ্ট্রপতি ভবন। দিল্লির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাদুঘরগুলির অনেকগুলিও এখানেই অবস্থিত। আরেকটি জনপ্রিয় আকর্ষণ হল দক্ষিণ পূর্ব দিল্লিতে অবস্থিত বাহাই সম্প্রদায়ের লোটাস টেম্পল বা পদ্ম মন্দির, যা পদ্ম ফুলের মতো আকৃতির একটি আধুনিক স্থাপত্য। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পরিদর্শন করা ভবনগুলির মধ্যে অন্যতম। দিল্লির সমস্ত দর্শনীয় স্থানের বিস্তারিত তালিকা জেলা নিবন্ধগুলিতে পাওয়া যাবে।

সাবধান

কনট প্লেসের আশেপাশে বিভিন্ন বেসরকারি "পর্যটন তথ্য" অফিস রয়েছে যারা খোলাখুলিভাবে নিজেদেরকে সরকারি পর্যটন অফিস বলে দাবি করে। আসলে এগুলি নিছকই ট্র্যাভেল এজেন্ট যাদের ভারত সরকারের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, এবং যেহেতু তারা পর্যটকদের শিকার করে, তাই তাদের কাছ থেকে আপনি যা কিছুই কিনবেন তার দাম নিজে থেকে করলে যা খরচ হত তার তুলনায় অনেক বেশি হবে।

দিল্লি পর্যটন অফিসের কর্মীরা খুব সহায়ক, এবং অফিসে অনেক বিনামূল্যে তথ্য পাওয়া যায়: 10 ভারত সরকারের পর্যটন অফিস, ৮৮ জনপথ, কনট প্লেস, +৯১ ১১ ২৩৩২ ০০০৫, +৯১ ১১ ২৩৩২ ০০০৮, +৯১ ১১ ২৩৩২ ০১০৯, +৯১ ১১ ২৩৩২ ০২৬৬ ভারত সরকারের পর্যটন অফিস প্রতিদিনের ভ্রমণের আয়োজন করে, যা দিল্লির সমস্ত প্রধান স্থানগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। আপনি যদি সরকার-অনুমোদিত এই দিনের সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে মনে রাখবেন যে সমস্ত স্থান পরিদর্শনের কারণে আপনাকে তাড়াতাড়ি ভ্রমণ করতে হবে, প্রতিটি স্থানের জন্য মাত্র ২০-৪০ মিনিট সময় দেওয়া হয়, যা প্রায় কিছুই না। এই দিনের সফরটিকে একটি প্রাকভ্রমণ হিসাবে বিবেচনা করুন। যদি কোনো বিশেষ স্থান আপনার আগ্রহের বিষয় হয়, তবে সেটিকে চিহ্নিত করে রাখুন এবং পরে আবার আসুন।

নতুন দিল্লির কেন্দ্রস্থল কনট প্লেসে (সিপি) হেঁটে বেড়ান। ব্রিটিশদের নকশা করা এই ঔপনিবেশিক স্থাপত্যটি একটি শপিং মলের সমতুল্য। এটি দুটি এককেন্দ্রিক বৃত্তাকারে সাজানো এবং কয়েকটি ব্লকে বিভক্ত, যেগুলি দোকানে ভরা এবং এখানে প্রচুর আদুরে পায়রা ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। বহুদিন অবহেলিত থাকার পর, এর নীচে প্রধান মেট্রো জংশন রাজীব চক চালু হওয়ায় এলাকাটির জৌলুস ফিরে আসে, এবং এটি দিন দিন আরও অভিজাত হয়ে উঠছে। এর কেন্দ্রে একটি ছোট কিন্তু মনোরম উদ্যান রয়েছে, আর এক প্রান্তে রয়েছে কুখ্যাত পালিকা বাজার—সস্তা জিনিসের কেন্দ্র, যার বেশিরভাগই চুরি করা বা বিদেশ থেকে চোরাইপথে আনা। এলাকাটি প্রায় সবদিকেই উঁচু অফিস বিল্ডিং দিয়ে ঘেরা। ট্রেনপ্রেমীরা (প্যাটেল চক) স্টেশনের ভিতরে অবস্থিত মেট্রো জাদুঘর ঘুরে দেখতে পারেন, যা মঙ্গলবার থেকে রবিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে (বৈধ মেট্রো টিকিটের সাথে প্রবেশ বিনামূল্যে)।

শিখুন

[সম্পাদনা]

দিল্লি ভারতের শিক্ষার একটি প্রধান কেন্দ্র। দিল্লির সবচেয়ে বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলি হল জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি, ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়, জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতীয় প্রযুক্তিক প্রতিষ্ঠান, দিল্লি। দিল্লি সরকারের শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটটি দিল্লিতে পড়াশোনার সুযোগ সম্পর্কে আরও জানার জন্য একটি ভালো সূচনা হতে পারে। স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরাল কোর্স ছাড়াও, এখানে অনেক প্রশিক্ষণ ও ডিপ্লোমা-স্তরের প্রতিষ্ঠান এবং পলিটেকনিক রয়েছে যা দক্ষতা-ভিত্তিক এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করে। প্রচলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি ছাড়াও, আরও বেশি সংখ্যক বিদেশী হিন্দুস্তানি ভাষা (হিন্দি-উর্দু) শেখার জন্য প্রচেষ্টা চালান, এবং দিল্লি এই ভাষাগুলি শেখার একটি কেন্দ্রস্থল।

দিল্লির অর্থনীতি দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। এর ফলে অনেক আকর্ষণীয় কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। মনস্টার, জবটেড এবং অন্যান্য অনলাইন কাজের প্ল্যাটফর্মগুলি কী ধরনের চাকরি পাওয়া যাচ্ছে তা দেখার জন্য একটি ভালো সূচনা হতে পারে। ঐতিহ্যগতভাবে, বিদেশীরা প্রায়শই সামাজিক ক্ষেত্রে বা শিক্ষকতায় কাজ করেন। তবে, ইদানীং প্রবাসীরা বহুজাতিক সংস্থা এবং এমনকি স্থানীয় ভারতীয় সংস্থাগুলিতেও কাজ করছেন।

দিল্লিতে বিদেশীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে, তা সে ব্যবসা, এনজিও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা এমনকি সরকারি ক্ষেত্রেই হোক না কেন। তবে, একটি সতর্কবার্তা হল: দিল্লির শ্রম বাজার অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং তাই অনেক প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে, উপলব্ধ পদের সংখ্যার চেয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি থাকে, যার ফলে নিয়োগকর্তারা অত্যন্ত প্রতিভাবান আবেদনকারীদেরও বেশ কম বেতনে (বিশেষ করে অন্যান্য আন্তর্জাতিক গন্তব্যের তুলনায়) নিয়োগ করতে পারেন।

কেনাকাটা

[সম্পাদনা]
স্বতন্ত্র তালিকাগুলি দিল্লি-এর জেলা নিবন্ধে পাওয়া যেতে পারে।
ফ্যাবইন্ডিয়া - পোশাকের দোকান

আপনি যদি দর কষাকষি করতে এবং বাজারের ভিড়ে ধাক্কাধাক্কি করতে ভয় না পান, তবে কেনাকাটার জন্য দিল্লি একটি দুর্দান্ত জায়গা। বেশিরভাগ সুপরিচিত বাজারগুলি দিল্লির একেবারে কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, মধ্য দিল্লি এবং নতুন দিল্লি উভয় জায়গাতেই। পশ্চিমা ধাঁচের মল প্রচুর রয়েছে এবং এগুলি আরও দক্ষিণে - দক্ষিণ দিল্লি এবং দক্ষিণ পূর্ব দিল্লিতে, পাশাপাশি গুরুগ্রাম এবং নয়ডার শহরতলিতেও পাওয়া যায়। বেশীরভাগ কেনাকাটার এলাকায় শনিবারে অত্যন্ত ভিড় থাকে এবং রবিবারে বন্ধ থাকে।

পোশাক

[সম্পাদনা]

পোশাকের ক্ষেত্রে দিল্লি ক্রেতাদের জন্য স্বর্গরাজ্য। শত শত বছরের পুরোনো বাজার যেখানে ঐতিহ্যবাহী কাপড় এবং বিয়ের পোশাক বিক্রি হয়, সেখান থেকে শুরু করে রাস্তার ধারের বাজারে হাল-প্রচলিত জিনিসের এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল মল পর্যন্ত, ভ্রমণকারীরা এখানে প্রায় যেকোনো ধরনের পোশাক খুঁজে পেতে পারেন। রাস্তার ধারের বাজারে দরদাম করা স্বাভাবিক ব্যাপার, যেখানে মল এবং ব্র্যান্ডেড দোকানে নির্দিষ্ট দাম থাকে।

ঐতিহ্যবাহী পোশাক

  • চাঁদনী চক: শাড়ি এবং লেহেঙ্গার দোকানে ভরা ঐতিহাসিক গলি, বিয়ে এবং উৎসবের পোশাকের জন্য আদর্শ।
  • করোল বাগ: সাশ্রয়ী মূল্যের সালোয়ার কামিজ, শাড়ি এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের ভারতীয় পোশাক।
  • ফ্যাবইন্ডিয়া (একাধিক দোকান): মার্জিত, সমসাময়িক ধাঁচের উচ্চমানের তাঁতের, সুতির এবং সিল্কের পোশাকের জন্য বিখ্যাত।

পশ্চিমা পোশাক

  • সরোজিনী নগর বাজার: সাশ্রয়ী মূল্যে হাল-প্রচলিত, শৈলীর পোশাকের জন্য বিখ্যাত।
  • জনপথ বাজার: বোহেমিয়ান ছোঁয়া সহ তরুণদের জন্য পোশাক এবং আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র।
  • সিলেক্ট সিটিওয়াক মল (সাকেত): ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডের জন্য জনপ্রিয় মল।

উভয়ের মিশ্রণ

  • লাজপত নগর সেন্ট্রাল মার্কেট: মাঝারি মূল্যে ঐতিহ্যবাহী এবং ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাকের মিশ্রণ।
  • শাহপুর জাট: সংমিশ্রিত ফ্যাশনের জন্য ডিজাইনার বুটিক, তরুণ পেশাদারদের মধ্যে জনপ্রিয়।
  • দিল্লি হাট: রাজ্য পরিচালিত হস্তশিল্পের বাজার যেখানে আঞ্চলিক বস্ত্র, কুর্তা এবং অনন্য হাতে তৈরি পোশাক বিক্রি হয়।

ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র ও শাল

[সম্পাদনা]

পশমিনা ও কাশ্মীরি শাল – সরকারি এম্পোরিয়াম বা কাশ্মীরি দোকানে পাওয়া যায় (আসলগুলি দামী এবং নকলও বাজারে প্রচলিত)। চোখ-কান খোলা রেখে কিনুন।

চারকোণা-ছাপা শাড়ী– রাজস্থান এবং গুজরাটের; স্টোল, ওড়না এবং বিছানার চাদরের দোকান চাঁদনী চকে দেকখতে পাওয়া যায়।

সিল্ক ও তাঁতের সুতি – বেনারসি সিল্ক, ইক্কত এবং খাদি ফ্যাবইন্ডিয়া, খাদি ইন্ডিয়া এবং রাজ্যের এম্পোরিয়ামগুলিতে ব্যাপকভাবে বিক্রি হয় (আসল সিল্ক খুব দামী)।

মশলা ও চা

[সম্পাদনা]

ভারত তার মশলা এবং চায়ের জন্য বিশ্ববিখ্যাত, এবং দিল্লি সেগুলি কেনার জন্য অন্যতম সেরা জায়গা। পুরানো দিল্লির পুরোনো মশলার বাজার থেকে শুরু করে আধুনিক বিশেষ দোকানে, ভ্রমণকারীরা সুগন্ধি এলাচ, জাফরান এবং দারুচিনি থেকে শুরু করে মশলা চায়ের মিশ্রণ এবং দামি আসাম বা দার্জিলিং চা পর্যন্ত সবকিছুই কিনতে পারেন।

খারি বাউলি (পুরানো দিল্লি) – এশিয়ার বৃহত্তম মশলার বাজার, মশলা, শুকনো ফল এবং চায়ের জন্য দুর্দান্ত।

চায়ের দোকান – ভালো মানের আসাম, দার্জিলিং এবং মশলা চায়ের মিশ্রণ।

ইলেকট্রনিক্স

[সম্পাদনা]
নেহেরু প্লেস

কম্পিউটার এবং সফটওয়্যারের জন্য, সেরা জায়গা হল দক্ষিণ পূর্ব দিল্লির নেহেরু প্লেসের আইটি বাজার চত্বর, যা আধুনিক প্রযুক্তি পণ্য এবং পুরোনো দিনের বাজারের একটি আকর্ষণীয় সংমিশ্রণ। আপনি এখানে সস্তা হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি আসল এবং পাইরেটেড উভয় সফটওয়্যারই খুঁজে পেতে পারেন। দিল্লির অন্যান্য অংশে, বিশেষ করে পশ্চিমের জেলাগুলিতে আরও বেশ কয়েকটি অনুরূপ বাজার রয়েছে।

ভারতীয় বই শিল্প বিশাল, যা বার্ষিক ইংরেজিতে প্রায় ১৫,০০০ বই এবং হিন্দি ও অন্যান্য দেশীয় ভাষায় আরও অনেক বেশি বই প্রকাশিত হই। দিল্লি এই শিল্পের একটি কেন্দ্র, তাই এখানে ছোট, বিশেষ বইয়ের দোকানের প্রাচুর্য রয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বইগুলি খুব সস্তা হতে পারে এবং অনেক জনপ্রিয় পশ্চিমা বই এখানে তাদের আসল দামের একটি ভগ্নাংশে প্রকাশিত ও উপলব্ধ।

সাধারণত, বই কেনার ভালো জায়গা হল মধ্য দিল্লি (দরিয়াগঞ্জ এলাকা এবং নয়া সড়ক এলাকা), এছাড়াও শহরের দক্ষিণে শপিং মলগুলিতেও বই পাওয়া যায়।

দরিয়াগঞ্জ সানডে বুক মার্কেট হল একটি বইয়ের হাট যা রবিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকে, এবং এখানে বইয়ের বিশাল সংগ্রহ দেখা যায়। সেরা দামের জন্য দরাদরি করুন।

স্বতন্ত্র তালিকাগুলি দিল্লি-এর জেলা নিবন্ধে পাওয়া যেতে পারে।
মিষ্টি জিলাপি দিল্লিতে খুব জনপ্রিয়

দিল্লিবাসীরা তাদের শহর নিয়ে অনেক অভিযোগ করে, কিন্তু এখানকার খাবার সবচেয়ে খুঁতখুঁতে ভোজনরসিককেও সন্তুষ্ট করবে। এখানে শুধু উপমহাদেশের সেরা ভারতীয় খাবারই পাওয়া যায় না, বরং সারা বিশ্বের খাবার পরিবেশনকারী চমৎকার (যদিও প্রায়শই ব্যয়বহুল) আন্তর্জাতিক রেস্তোরাঁর সংখ্যাও বাড়ছে। অর্ডার দেওয়ার সময় মনে রাখবেন যে দিল্লি নিকটতম সমুদ্র থেকে প্রায় ১,০০০ কিমি দূরে, তাই নিরামিষ, মুরগীর মাংস এবং ছাগলের মাংসের পদগুলিই এখানকার সেরা বিকল্প।

চাঁদনী চকের পরোটা ওয়ালি গলিতে অবশ্যই যাবেন। এই রাস্তায় এমন সব দোকান রয়েছে যারা শুধুমাত্র পরোটা (পুর ভরা ভারতীয় রুটি) তৈরি করে এবং বিক্রি করে। আপনি যত রকমের কল্পনা করতে পারেন, এমন সমস্ত স্বাদের এবং শত শত প্রকারের পুরের পরোটা এখানে পাওয়া যায়, করলা থেকে শুরু করে আইসক্রিম পর্যন্ত।

যুক্তিযুক্তভাবে, ভারতের সেরা স্ট্রিট ফুড বা রাস্তার ধারের খবার দিল্লিতেই পাওয়া যায়। তবে, অস্বাস্থ্যকর বা খোলা খাবার খাবেন না। অনেক রেস্তোরাঁ রয়েছে যেখানে সম্ভবত আরও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে স্ট্রিট ফুড পাওয়া যায়।

আপনি স্থানীয় ভোজনরসিকদের দলে যোগ দিতে পারেন যারা শহরের নতুন এবং পুরোনো পদের স্বাদ নিতে নিয়মিত বেরিয়ে পড়েন। আপনি যদি বিশেষভাবে আপনার জন্য তৈরি করা একটি সম্পূর্ণ কাস্টমাইজড ভোজন ভ্রমণ চান, তবে ফুড ট্যুর ইন দিল্লি একটি ভালো বিকল্প। অতিথিরা দিল্লির স্ট্রিট ফুড একটি মজাদার এবং নিরাপদ উপায়ে উপভোগ করতে পারেন। তাদের ভ্রমণে এমন সব খাবারের দোকান অন্তর্ভুক্ত থাকে যেগুলি ৫০ থেকে ১২০ বছর ধরে ব্যবসা করছে এবং বিশ্বের সেরা কিছু স্ট্রিট ফুড পরিবেশন করে। এটি পুরানো দিল্লির আঁকাবাঁকা রাস্তার পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত ঝাঁ-চকচকে অভিজাত বাজারগুলিও অন্তর্ভুক্ত করে। ভোজন ভ্রমণ অভিজ্ঞ পাচক এবং রন্ধন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত হয় এবং এতে আপনাকে নিয়ে যাওয়া ও ছেড়ে দেওয়া, সীমাহীন খাবার (যা শহরের প্রধান সমস্ত ধরণের খাবারকে অন্তর্ভুক্ত করে) এর মতো সুবিধা দেওয়া হয়। আরেকটি সবচেয়ে সক্রিয় দল হল ফুড এনথুসিয়াস্টস অফ দিল্লি[অকার্যকর বহিঃসংযোগ]। তারা শহরের বিভিন্ন অংশে এবং খাবারের দোকানগুলিতে নিয়মিত ভোজন ভ্রমণ আয়োজন করে থাকেন। এটি রেইড নামে বেশি পরিচিত। এটি একটি অ-বাণিজ্যিক গোষ্ঠী, যা শুধুমাত্র খাবারের প্রতি তাদের আবেগ এবং ভালোবাসার কারণে একত্রিত হয়েছে।

চাট

আপনি যদি উত্তর ভারতের রাস্তার ধারের জলখাবার চাট খেতে চান, তবে দিল্লিই তার সেরা জায়গা। স্প্যানিশ তাপাস বা গ্রিক মেজ্জে-র মতো, চাটেরও বিশাল বৈচিত্র্য থাকতে পারে, তবে দিল্লির শৈলীতে সাধারণত রান্নার পর আলু, ডাল বা অন্য প্রায় যেকোনো কিছু দিয়ে ভরা একটি মুচমুচে ভাজা ময়দার খোলকে ভরা হয়। এরপর এগুলির উপরে দই, চাটনি এবং চাট মশলা দিয়ে খাওয়া হয়।

কিছু সাধারণ চাট হল পাপড়ি চাট (দই এবং অন্যান্য সসের সাথে ছোট গোল ভাজা মুচমুচে খাস্তা জিনিসের মিশ্রণ), পনির টিক্কা (মশলা দিয়ে তন্দুরে সেঁকা পনিরের টুকরো), পানি পুরি বা গোলগাপ্পা বা ফুচকা (আলুর পুর এবং মশলাদার মিষ্টি সসের মিশ্রণে ভরা ছোট গোল ময়দার খোল)।

চাট খাওয়ার সেরা জায়গা হল শহরের কেন্দ্রে কনট প্লেসের কাছে বেঙ্গলি মার্কেট (মান্ডি হাউস মেট্রো স্টেশনের কাছে)। একখানের রেস্তোরাঁগুলি উচ্চমানের এবং খাবারও দুর্দান্ত। এখানে এটিএম-ও রয়েছে। সেএখানকার সবচেয়ে পরিচিত রেস্তোরাঁগুলোর একটি হল নাথুর চাটের দোকান। তবে সত্যিকারের অসাধারণ চাট খেতে চাইলে যেতে হবে পুরান দিল্লিতে—বিশেষ করে চাওড়ি বাজারের কাছে আশোকের চাটের দোকান। যদিও ভোজনরসিকরা জোর দিয়ে বলেন যে সেরা চাট রাস্তার ধারেই পাওয়া যায়, অধিকাংশ ভ্রমণকারী পরিচ্ছন্নতা ও আসল স্বাদের মধ্যে একটি আরামদায়ক ভারসাম্য খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

পানীয়

[সম্পাদনা]
স্বতন্ত্র তালিকাগুলি দিল্লি-এর জেলা নিবন্ধে পাওয়া যেতে পারে।

গত দশকে দিল্লির নৈশপ্রমোদ দৃশ্যপট অনেক বদলেছে। আপনার টাকা খসানোর জন্য প্রচুর আধুনিক, কবিশ্বজনীন ধাঁচের স্থান রয়েছে। নারী-পুরুষের অনুপাত কিছুটা হলেও সমান রাখার মরিয়া প্রচেষ্টায়, অনেক লাউঞ্জ এবং ক্লাবে শুধুমাত্র দম্পতিদের প্রবেশের নীতি রয়েছে (অর্থাৎ, একা পুরুষ বা শুধুমাত্র পুরুষদের দলের প্রবেশ নিষেধ), যা কখনো কঠোরভাবে, কখনো ঢিলেঢালাভাবে কার্যকর করা হয়। যদিও নিয়ম অনুযায়ী রাত ১টার পর সব বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা, বাস্তবে এর পরেও অনেকক্ষণ ধরে চলতে থাকে।

দিল্লির কফি সংস্কৃতি মূলত বড়, অত্যন্ত মানসম্মত চেদোকান ঘিরে গড়ে উঠেছে। সবচেয়ে সাধারণ দুটি হল বারিস্তা এবং ক্যাফে কফি ডে, যা শহরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে কনট প্লেসের আশেপাশে সহজেই পাওয়া যায়। যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক কোস্টা কফি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক স্টারবাকস এই বাজারে প্রবেশ করেছে। স্বাধীন কফি শপের তালিকার জন্য, সংশ্লিষ্ট জেলার নিবন্ধগুলো দেখুন।

রাত্রিযাপন

[সম্পাদনা]
স্বতন্ত্র তালিকাগুলি দিল্লি-এর জেলা নিবন্ধে পাওয়া যেতে পারে।

উল্লিখিত মূল্যের মধ্যে ২২.৫% পর্যন্ত কর অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারে। এই কর প্রকাশিত মূল ভাড়ার উপর গণনা করা হয় - আপনি যে প্রদত্ত প্রকৃত (ছাড়যুক্ত) মূল্যটি দিচ্ছেন তার উপর নয়। দিল্লির হোটেলগুলিতে ধূমপান অনুমোদিত নয়।

স্বল্প খরচে

[সম্পাদনা]

দিল্লিতে স্বল্প খরচে থাকার প্রচুর বিকল্প রয়েছে, যার খরচ ₹৪০০-২,৫০০-এর মধ্যে। এগুলির অনেকগুলিই শহরের কেন্দ্রস্থলে (মধ্য দিল্লি এবং নতুন দিল্লি) অবস্থিত, আবার অন্যগুলি আরও দক্ষিণে, অভিজাত দক্ষিণ এলাকাগুলিতে বা বিমানবন্দরের দিকে অবস্থিত।

মাঝারি খরচে

[সম্পাদনা]

দিল্লিতে ভালো মানের হোটেলের দীর্ঘস্থায়ী অভাবের কারণে বিভিন্ন গুণমান ও মুল্যের অতিথিশালা গজিয়ে উঠেছে। নতুন সরকারি 'দিল্লি বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট স্কিমের' ফলে বিছানা এবং জলখাবার থাকার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তিগত ঘরও উপলব্ধ হয়েছে। এই ঘরগুলি সস্তা মানের জায়গা থেকে শুরু করে দিল্লির সেরা এলাকাগুলিতে অবস্থিত উৎকৃষ্ট মানের ঘর পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বিলাসবহুল

[সম্পাদনা]

দিল্লির বেশিরভাগ বিলাসবহুল হোটেল নতুন দিল্লিতে অবস্থিত, যা মোটামুটিভাবে কনট চত্বর এবং বিমানবন্দরের মধ্যবর্তী জায়গায় পড়ে। কয়েকটি আরও দক্ষিণ ও পশ্চিমের এলাকাগুলিতে অবস্থিত। বিলাসবহুল হোটেলের খরচ সাধারণত ₹৮০০০-এর বেশি।

নিরাপদ থাকুন

[সম্পাদনা]
রাতের দিল্লি

ভারতে প্রথমবার আসা অনেক ভ্রমণকারীই প্রতারণা এবং দালালদের শিকার হন, এবং দুর্ভাগ্যবশত দিল্লিতে এই দুটিই প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। কেউ যদি অযাচিতভাবে আপনাকে পথনির্দেশ বা ভ্রমণের পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করে তবে তার থেকে সতর্ক থাকুন। ট্যাক্সি এবং অটোচালকদের পরামর্শের উপর অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না। যদি এটি আপনার ভারতে প্রথম ভ্রমণ হয়, তবে খোলাখুলি প্রকাশ করবেন না—এতে আপনি দালালদের জন্য সহজ লক্ষ্য হয়ে উঠবেন। নারীদের জন্য ভারতের তিনটি সবচেয়ে অনিরাপদ শহরের মধ্যে দিল্লি অন্যতম। এটিকে 'বিশ্বের ধর্ষণের রাজধানী' হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কিছু এলাকায় অশালীন মন্তব্য বা এমনকি শারীরিক স্পর্শের শিকার হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। আপনি যদি রাতে দিল্লিতে পৌঁছান, এবং এটি যদি আপনার দিল্লিতে প্রথম ভ্রমণ হয় এবং আপনি হোটেল বুক না করে থাকেন, তবে ভোর না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরের লাউঞ্জে বা ভালোভাবে আলোকিত কোনো জায়গায় সকাল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। সূর্যাস্তের পর কম লোকজন থাকা গলিগুলিতে একা হাঁটা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন এবং রাতে ক্যাব ভাড়া করার সময় সতর্ক থাকুন। মার্জিত পোশাক পরুন (বিশেষত ভারতীয় পোশাক যাতে ভিড়ে মিশে যেতে পারেন)। চিৎকার করে আত্মরক্ষা করার কৌশল শিখুন এবং মেস/মরিচ স্প্রে সাথে নেওয়ারর কথা বিবেচনা করুন।

আপনার নগদ টাকা, পাসপোর্ট এবং কার্ড একটি সুরক্ষিত মানি বেল্টে রাখুন। মানিব্যাগে বা সহজে পৌঁছানো যায় এমন জায়গায় একবারে কেবল কয়েক ঘণ্টার প্রয়োজনীয় নগদ রাখুন। কেউ কেউ দিল্লির সর্বত্র থাকা পকেটমার-দের জন্য একটি টোপ হিসাবে পেছনের পকেটে কয়েকটি দশ টাকার নোট সহ একটি ‘ভুয়া মানিব্যাগ’ রাখার পরামর্শ দেন।

বিভিন্ন পর্যটন সংস্থা পর্যটকদের সাথে প্রতারণা করার জন্য পরিচিত, যেমন তাদের ভ্রমণের পরিকল্পনা পরিবর্তন করে দেওয়া বা অতিরিক্ত কমিশন এবং টাকা নেওয়া। ট্রেনের টিকিট নিশ্চিত করার সেরা উপায় হল ভারতীয় রেলওয়ের ওয়েবসাইট[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] ব্যবহার করা। তবে এই প্রায়শই গোলমাল করে, তাই অনলাইনে সমস্যা হলে সরাসরি গিয়ে টিকিট কিনতে পারেন। এটি করার সেরা জায়গা হল পর্যটন তথ্যকেন্দ্র, এগুলি পরিবহন হাবের ভেতরে অবস্থিত। তবে খুব সতর্ক থাকুন—রেলস্টেশনের আশেপাশে অসংখ্য প্রতারক ঘোরাফেরা করে, যারা আপনাকে “বিদেশি পর্যটকদের জন্য টিকিট অফিসে” নিয়ে যাবে বলে প্রলুব্ধ করে, যা সাধারণত স্টেশন থেকে কয়েক গলি দূরে একটি অখ্যাত ভবনে থাকে। সেখানে আপনাকে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া এবং গাড়ি, ট্যুর ইত্যাদিতে সই করানোর জন্য চাপ দেওয়া হতে পারে। সন্দেহ হলে, আপনি যে তথ্য কেন্দ্রে আছেন তার রিভিউ দেখে নিন (উদাহরণস্বরূপ, গুগল ম্যাপে)। কিছু প্রতারক ট্রেন স্টেশনের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে শারীরিকভাবে আপনাকে প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে, আপনার টিকিট দেখতে চাইবে (যদিও টিকিট কেনার জন্যই আপনাকে স্টেশনে প্রবেশ করতে হবে!)। মনে রাখবেন - আপনার শুধুমাত্র একটি ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্রের ভেতর দিয়ে গেলেই যে কোনো রেলস্টেশনে প্রবেশ করা যায়। ট্রেনে ওঠার আগে কেউ আপনার টিকিট পরীক্ষা করবে না। (স্টেশনে ভিড় নিয়ন্ত্রণের একটি ব্যবস্থা হিসাবে, অনেক ট্রেন স্টেশন আপনাকে একটি প্ল্যাটফর্ম টিকিট (সাধারণত ₹১০-২০ দাম) কেনার জন্য বলতে পারে যদি আপনি শুধু ঘুরতে আসেন এবং আপনার কাছে কোনো রেলের টিকিট না থাকে।

আপনার বিমানের টিকিটও অনলাইনে বুক করা উচিত, কারণ সমস্ত এয়ারলাইন্সেরই অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যথায়, পর্যটন সংস্থা যে সমস্ত চার্জ ধার্য করবে সেগুলি বুঝে উঠতে আপনার এক ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে।

যদি গভীর রাতে বিমানবন্দর বা ট্রেন স্টেশনে পৌঁছান, তবে ক্লান্ত এবং অপ্রস্তুত পর্যটকদের প্রতারণা করার চেষ্টায় থাকা ট্যাক্সি চালকদের থেকে খুব সতর্ক থাকুন। একটি সাধারণ কৌশল হলো, তারা আপনাকে শহরের এমন একটি এলাকায় নিয়ে যাবে যেখানে রাস্তার কাজ চলছে বা কোনো অস্থায়ী অবরোধ রয়েছে, এবং বলবে আপনার হোটেলের রাস্তা বন্ধ, সেখানে নেওয়া সম্ভব নয়। এরপর তারা অন্য একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেবে, যেখানে গ্রাহক পাঠানোর জন্য তারা কমিশন পায়। প্রথমে তারা আপনাকে এমন কয়েকটি হোটেলে নিয়ে যেতে পারে যেগুলি বলবে যে তাদের সব ঘর ভর্তি, যাতে আপনার হতাশা বাড়ে এবং আপনি বেশি টাকা দিতে রাজি হন। কখনো কখনো তারা আপনাকে কোনো তথাকথিত ‘ট্রাভেল এজেন্টের’ কাছে নিয়ে যাবে, যিনি আপনার বুক করা হোটেলে ফোন করার ভান করবেন এবং জানাবেন যে রাস্তা বন্ধ বা হোটেল খালি নেই এবং কোনো ঘরও উপলব্ধ নেই। যদি আপনি প্রকাশ করেন যে দিল্লিতে এক রাতই থাকবেন, তবে তারা আরও বলতে পারে যে শহরের কোথাও হোটেল খালি নেই, আর আপনাকে অত্যধিক দামে ব্যক্তিগত গাড়িতে পরবর্তী গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেবে। দীর্ঘ ফ্লাইটের পর ক্লান্ত অবস্থায় এটি ভ্রমণকারীদের জন্য অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর ও ক্লান্তিকর হতে পারে।

সুতরাং, আপনি যদি মধ্যরাতের পরে পৌঁছান, তবে থাকার জায়গা আগে থেকে বুক করে রাখা এবং আপনার হোটেলের সাথে বিমানবন্দর বা স্টেশন থেকে পিক-আপের ব্যবস্থা করার জন্য বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, অথবা অন্তত হোটেলের ফোন নম্বরটি সাথে রাখুন, যাতে আপনি হারিয়ে গেলে বা কোনো ঝামেলাপূর্ণ পরিস্থিতিতে পড়লে ফোন করার জন্য একজন নির্ভরযোগ্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

দিল্লিতে প্রায় প্রত্যেকেই যারা আপনার সাথে নগদ টাকা লেনদেন করবে, খুচরো ফেরত দেওয়ার সময় ঠকানোর চেষ্টা করতে পারে, যার মধ্যে বিমানবন্দরের পুলিশ ট্যাক্সি কিয়স্কের ক্লার্ক এবং ঐতিহাসিক স্থান ও জাদুঘরের টিকিট বিক্রেতারাও অন্তর্ভুক্ত। তাই একমাত্র সুরক্ষা হল খুচরো টাকার প্রয়োজনই না রাখা। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব টাকার সঙ্গে পরিচিত হোন। আপনার যে দাম দিতে হবে, তার সমান বা তার চেয়ে বেশি সবচেয়ে ছোট অঙ্কের টাকা গুনে বের করুন। যদি তারা দাবি করে আপনি আসলে যত টাকা দিয়েছেন তত দেননি, সেই টাকা বাদ দিন, তর্ক না করে সরে যান এবং অন্য জায়গায় যান।

দিল্লি পুলিশ

[সম্পাদনা]

দিল্লি পুলিশ হল রাজধানী অঞ্চলে কর্মরত ৭০,০০০ সদস্যের একটি বাহিনী। যদিও কিছু পুলিশ অফিসার সৎ এবং সহায়ক, অন্যরা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অসহযোগী হতে পারে।

জরুরী অবস্থায় পুলিশের সাহায্যের জন্য ১০০ ডায়াল করুন

পুলিশের গাড়ি (যাকে পিিসিআর ভ্যান বলা হয়) প্রায় প্রতিটি প্রধান মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে।

জরুরি অবস্থা না হলে, অথবা কোনো অপরাধের বিষয়ে জানাতে, নিকটতম পুলিশ স্টেশনে যান।

সুস্থ থাকুন

[সম্পাদনা]
সতর্কতা টীকা: দিল্লি এবং তার আশেপাশের শহরগুলিতে সারা বছরই বায়ু দূষণ থাকে। এর মধ্যে আগ্রার তাজমহলও রয়েছে। এখানকার বায়ুর মান মাঝারি থেকে অস্বাস্থ্যকর থাকে। এর ফলে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। এই ধোঁয়াশা বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। কম দৃশ্যমানতার কারণে কিছু বিমানও দেরিতে ছাড়ে।

বর্ষাকালে বায়ুর মান সবচেয়ে ভালো থাকে। কারণ তখন বাতাস প্রবাহিত এবং প্রায়ই বৃষ্টি হয়। গ্রীষ্ম ও শীতকালে অবস্থা সবচেয়ে খারাপ হয়। কারণ তখন দিল্লির ভৌগোলিক অবস্থান এবং শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য দূষিত কণাগুলি বাতাসে আটকে যায়। যারা এখানে বেড়াতে আসেন, তাদের বাইরে কম থাকা উচিত। বেশি পরিশ্রমের কাজও এড়িয়ে চলা ভালো। বাইরে বেরোনোর সময় মাস্ক ব্যবহার করুন। সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক হলেও চলবে। টিস্যু এবং চোখের ড্রপও সাথে রাখুন।

এপ্রিলের শুরুতে গ্রীষ্মকাল শুরু হয়। এটি জুনের শেষ পর্যন্ত চলে। মে মাসে গরম সবচেয়ে বেশি থাকে। এপ্রিলের শেষে বা মে মাসের শুরুতে তাপমাত্রা প্রায়ই ৪০°সেন্টিগ্রেড (১০৪°ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে যায়। তাই, শরীরে জলের জোগান ঠিক রাখা খুব জরুরি। গরমকালে হিট স্ট্রোক এড়াতে শরীর ঢেকে রাখুন। প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন। বিশেষ করে গরমকালে দিনে প্রায় ৩ লিটার জল খাওয়া উচিত। মনে রাখবেন যে এখানকার জল প্রায় সবসময়ই রিভার্স অসমোসিস (আর.ও.) পদ্ধতিতে তৈরি। এর মানে হল, এটি প্রায় বিশুদ্ধ জলের মতো। তাই আপনি জলের সাথে কিছু ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট বা ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্সগানাইজেশন দ্রবণ মিশিয়ে নিতে পারেন।

নভেম্বরের শেষে বা ডিসেম্বরের শুরুতে দিল্লিতে শীত আসে। এই শীত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত থাকে। শীতকালে মাঝে মাঝে কুয়াশা হয়। বেশি কুয়াশার দিনে রাস্তার ওপার দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। শীতকালে যদি আপনি বিমানে দিল্লি আসেন বা এখান থেকে যান, তবে কুয়াশার কারণে বিমান দেরিতে ছাড়তে পারে। এই বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।

জলবাহিত রোগ এড়াতে শুধুমাত্র বোতলের জল পান করুন। টাটকা এবং ভালোভাবে রান্না করা খাবার খান। এতে "দিল্লি বেলি" (পেটের সমস্যা) হওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

দিল্লি বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহর। এখানকার দূষণের মাত্রা প্রায়শই "খারাপ", "গুরুতর" বা "বিপজ্জনক" পর্যায়ে থাকে। বায়ুর মানের তথ্যের দিকে নজর রাখুন। একটি সার্জিক্যাল মাস্ক বা অনুমোদিত এন৯৫/এন৯৯ মাস্ক পরার কথা ভাবতে পারেন, বিশেষ করে যদি আপনি দিল্লি বা উত্তর ভারতে বেশিদিন থাকেন।

যোগাযোগ

[সম্পাদনা]

এই শহরে ফোনের নেটওয়ার্ক খুব ভালো। এখানে তিনটি প্রধান পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা আছে। তারা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যান দিয়ে থাকে। এদের মধ্যে রয়েছে এয়ারটেল, ভিআই এবং জিও। শহরে থাকাকালীন যোগাযোগ রাখার জন্য একটি সেল ফোন কেনা ভালো। আপনি এদের কোনো একটি প্রিপেড প্ল্যান ব্যবহার করতে পারেন। দিল্লির ফোন নম্বর ০১১ দিয়ে শুরু হয়। এরপর সাধারণত আটটি সংখ্যা থাকে। ভারতের বাইরে থেকে দিল্লিতে ফোন করতে হলে প্রথমে আপনার দেশের আন্তর্জাতিক কোডটি লিখুন তারপর ফোন নম্বর লিখুন। অন্য দেশ থেকে ভারতে ফোন করতে হলে প্রথমে ভারতের কোড ৯১ ডায়াল লিখতে হবে। মোবাইল থেকে কোনো ল্যান্ডলাইন নম্বরে ফোন করতে হলে, নম্বরের আগে ০১১ যোগ করতে হবে।

দিল্লির জরুরি নম্বর

[সম্পাদনা]

এখানে দিল্লির জরুরি যোগাযোগের নম্বর দেওয়া হল

  • পুলিশ, ১০০
  • দমকল বিভাগ, ১০১
  • অ্যাম্বুলেন্স, ১০২ অথবা নিকটতম স্থানীয় হাসপাতালে ফোন করুন
  • মহিলাদের সাহায্যের জন্য, ১০৯১

মানিয়ে নিন

[সম্পাদনা]

দিল্লিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং জলের সংকট একটি সাধারণ ঘটনা। অনেক সময় দিনে একাধিকবার এমন হয়। গরমকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ভালো হোটেলগুলিতে জলের ট্যাঙ্ক এবং জেনারেটর থাকে। এতে অসুবিধা কিছুটা কমে। তবুও, রাতের জন্য একটি টর্চলাইট হাতের কাছে রাখুন। বেশি জল নষ্ট না করে নিজের দায়িত্ব পালন করুন।

  • কাপড় কাচা পরিষেবা বেশিরভাগ হোটেলেই পাওয়া যায়। এমনকি কম দামি হোটেলগুলিতেও এই সুবিধা থাকে। আপনি যদি টাকা বাঁচাতে চান এবং নিজে কাচাকাচি করতে চান, তবে প্রায় সব বাথরুমেই বালতি পাওয়া যায়। তবে ব্যবহারের আগে হয়তো বালতিটা ভালো করে ধুয়ে নেওয়া উচিত।
  • দূষণের কারণে বাইরে ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয় না। নদীতে সাঁতার কাটাও উচিত নয়। এর পরিবর্তে, এমন একটি হোটেল খুঁজুন যেখানে জিম বা পুল আছে। অনেক হোটেলে দৈনিক পাসও পাওয়া যায়। আপনি সর্বদাই উদ্যানগুলিতে সকাল বা সন্ধ্যায় হাঁটতে পারেন।

দূতাবাস ও হাইকমিশন

[সম্পাদনা]

পরবর্তী ভ্রমণ

[সম্পাদনা]

দিল্লি হল ট্রেন, বিমান এবং বাসের জন্য একটি প্রধান আন্তর্জাতিক কেন্দ্র। ভারতের অভ্যন্তরীণ গন্তব্যগুলিতে যাওয়ার জন্যও এটি একটি দারুণ সংযোগস্থল। বিখ্যাত হিল স্টেশনগুলি ঘুরে দেখার জন্যও এটি একটি চমৎকার কেন্দ্র।

  • আগ্রা এবং তাজমহল যেতে গাড়িতে ৩-৬ ঘণ্টা সময় লাগে। ট্রেনে গেলে ২-৫ ঘণ্টা সময় লাগে। সড়কপথে, যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে দিল্লি থেকে তাজমহল পৌঁছতে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে। ট্রেনের কামরায় আসন অনেক আগে থেকে বুক করা যায়। পর্যটকদের জন্য বিশেষভাবে রাখা আসনগুলির খোঁজ করুন। আপনি সারাদিনের জন্য চালক সহ একটি গাড়িও ভাড়া করতে পারেন। যাওয়া-আসা মিলিয়ে ভাড়া ₹৫,০০০-এর বেশি হওয়া উচিত নয়। তাজমহল শুক্রবারে বন্ধ থাকে।
  • বান্ধবগড় জাতীয় উদ্যান এবং বান্ধবগড় দুর্গ মধ্যপ্রদেশের বাঘ সংরক্ষণ কেন্দ্র। এটি একটি বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প। এখানে ভারতে বাঘের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
  • চারধাম - বিখ্যাত তীর্থস্থান বদ্রীনাথ (বিষ্ণুর আবাস), কেদারনাথ (শিবের আবাস), গঙ্গোত্রী এবং যমুনোত্রী (পবিত্র গঙ্গা ও যমুনা নদীর উৎস) যাওয়ার যাত্রাপথ দিল্লি থেকেই শুরু হয়।
  • দেশের প্রথম জাতীয় উদ্যান করবেট জাতীয় উদ্যান দিল্লি থেকে গাড়িতে প্রায় ৫ ঘণ্টার পথ।
  • দালাই লামার নির্বাসিত সরকারের কেন্দ্র ধর্মশালা উত্তরে ১০-১২ ঘণ্টার পথ। মেইন বাজারের পর্যটন অফিস, মজনু কা টিলার তিব্বতি বসতি বা আইএসবিটি থেকে টিকিট কেনা যায়।
  • দিল্লির একটি দক্ষিণ শহরতলি গুরুগ্রাম গাড়িতে বা মেট্রোতে ১ ঘণ্টার পথ।
  • বিমানে বা রাতের ট্রেনে জয়পুর এবং রাজস্থানে পৌঁছানো যায়।
  • হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত পবিত্র শহর হরিদ্বার এবং ঋষিকেশ বাস বা ট্রেনে ৫-৬ ঘণ্টার পথ।
  • প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের লাহোরেও' মুঘল যুগের স্থাপত্য রয়েছে। দিল্লি-লাহোর বাস বা সমঝোতা এক্সপ্রেসের মাধ্যমে লাহোরের সাথে যোগাযোগ রয়েছে।
  • প্রতিবেশী দেশ নেপালের কাঠমান্ডু যেতে বাসে প্রায় ৩৬ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। ট্রেন এবং বাসের সংমিশ্রণে গেলে আরও বেশি সময় লাগে, তবে যাত্রাটি আরও আরামদায়ক হয়।
  • দিল্লি এবং মুম্বাইের মধ্যে চলাচলকারী একটি বিলাসবহুল ট্রেন মহারাজা এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করুন।
  • মুসৌরি - ভারতের অন্যতম পুরোনো ব্রিটিশ হিল স্টেশন। এটি পাহাড়ের রানী নামেও পরিচিত।
  • নৈনিতাল - কুমায়ুন পাহাড়ের আরেকটি সুন্দর হিল স্টেশন। এখানে মনোরম নৈনি হ্রদ রয়েছে।
  • সিমলা - ব্রিটিশ ভারতের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী ছিল। এখন এটি হিমাচল প্রদেশ রাজ্যের রাজধানী। এখানে অনেক মনোরম এবং ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে। গাড়িতে যেতে প্রায় ৮ ঘণ্টা বা বাসে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। দিল্লি থেকে সরাসরি বিমানে সিমলা পৌঁছতে মাত্র ১ ঘণ্টা সময় লাগে।
দিল্লি (জাতীয় সড়ক রুট)র মধ্য দিয়ে রুট
রোহতক বাহাদুরগড়  পশ্চিম  পূর্ব  গাজিয়াবাদ মোরাদাবাদ
শেষ -এর সাথে মিশেছে  পশ্চিম  পূর্ব  মথুরা আগ্রা
লুধিয়ানা কুরুক্ষেত্র  উত্তর  দক্ষিণ  নয়ডা আগ্রা
শেষ  উত্তর  দক্ষিণ  গুরুগ্রাম জয়পুর


দিল্লি (এশীয় মহাসড়ক রুট)র মধ্য দিয়ে রুট
লুধিয়ানা কুরুক্ষেত্র  উত্তর  পূর্ব  গাজিয়াবাদ মোরাদাবাদ
রোহতক বাহাদুরগড়  পশ্চিম  উত্তর  কুরুক্ষেত্র লুধিয়ানা


This TYPE দিল্লি has নির্দেশিকা অবস্থা TEXT1 TEXT2

{{#assessment:শহর|নির্দেশিকা}}