উইকিভ্রমণ থেকে

নানিয়ারচর বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা।

জানুন[সম্পাদনা]

রাঙ্গামাটি জেলা সদর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ২২°৪৩´ থেকে ২২°৫৭´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২°০২´ থেকে ৯২°১১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে অবস্থিত নানিয়ারচর উপজেলার আয়তন ৩৯৩.৬৮ বর্গ কিলোমিটার। ১৯৭৯ সালে নানিয়ারচর থানা গঠিত হয় এবং ১৯৮৩ সালে থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়। এ উপজেলায় বর্তমানে ৪টি ইউনিয়ন রয়েছে।

নামকরণ[সম্পাদনা]

উচ্চ ব্রক্ষ্মের রাজা অরুণ যুগের পতনের পর আরাকানদের কর্তৃক নিপীড়িত ও অত্যাচারিত হয়ে চাকমারা ১৪১৮ খ্রিষ্টাব্দে তৈনছড়ি নদীকূলে মাত্র ১২টি গ্রামে বসতি স্থাপন করে। কিন্তু পরে ঐসব এলাকায় মগ ও পর্তুগীজদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়ে ষোড়শ শতাব্দীতে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের গভীর অরণ্যে বসতি স্থাপন করে। কিংবদন্তি আছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি স্থাপনকারী নান্যা নামের একব্যক্তি চেঙ্গী নদী বিধৌত চরের সত্ত্বাধিকারী ছিলেন বিধায় তার নামের সাথে সমন্বয় রেখে নান্যারচর নামকরণ করা হয়, যা বর্তমানে নানিয়ারচর নামে রুপান্তরিত হয়েছে।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী নানিয়ারচর উপজেলার জনসংখ্যা ৪২,৯৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২২,১৩০ জন এবং মহিলা ২০,৮৩৫ জন। মোট জনসংখ্যার ১৪.৬৫% মুসলিম, ২.৪৬% হিন্দু, ৮১.৮৭% বৌদ্ধ এবং ১.০২% খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী রয়েছে। এ উপজেলায় চাকম মারমা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আধিক্য রয়েছে।

কীভাবে যাবেন[সম্পাদনা]

রাঙ্গামাটি জেলা শহর থেকে রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি সড়ক হয়ে বাস বা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা যোগে নানিয়ারচর যাওয়া যায়। এছাড়া রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার বা তবলছড়ি থেকে ইঞ্জিনবোট যোগেও নানিয়ারচর যাওয়া যায়।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

মানচিত্র
নানিয়ারচর উপজেলার মানচিত্র
  • কাপ্তাই হ্রদবাংলাদেশের বৃহত্তম কৃত্রিম এ হ্রদ রাঙ্গামাটি জেলার রাঙ্গামাটি সদর, কাপ্তাই, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, বাঘাইছড়ি, লংগদু ও নানিয়ারচর উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত। উইকিপিডিয়ায় কাপ্তাই হ্রদ
  • বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতিসৌধমুন্সি আব্দর রউফ স্মৃতিসৌধের চারদিকে লেক এবং তার অদুরে রয়েছে বড় বড় পাহাড়। এখানে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড নির্মিত স্মৃতিসৌধের চারপাশে সুদৃশ্য লোহার বেষ্টনী।
  • রত্নাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহাররাঙ্গামাটি রাজবন বিহারের অন্যতম শাখা বিহার এটি। দানসূত্রে প্রাপ্ত ৩২ একর ভূমির উপর ১৯৯৭ ইংরেজি সালে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মূলতঃ বর্তমান বিহার অধ্যক্ষ ধুতাঙ্গশীলধারী ভিক্ষু শ্রীমৎ বিশুদ্ধানন্দ মহাস্থবির ১৯৯৭ সালের ২৯ অক্টোবর তারিখে (বুধবার) পাতাছড়ি বৌদ্ধ বিহারে ৯ জন শিষ্য নিয়ে আগমন করলে প্রথমে অরণ্য কুটির, পরে পাতাছড়ি বৌদ্ধ বিহারটি স্থানান্তর করে বর্তমান মূল বিহার প্রতিষ্ঠা করা হয়।

কোথায় থাকবেন[সম্পাদনা]

নানিয়ারচরে থাকার জন্য উপজেলা সদরে পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ পরিচালনাধীন জেলা পরিষদ ডাক বাংলো রয়েছে।

খাওয়া দাওয়া[সম্পাদনা]

নানিয়ারচর উপজেলা সদর এলাকায় যে কোন খাবার হোটেলে সুলভ মূল্যে খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।