উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন

মাধবপুর উপজেলা বাংলাদেশের একটি উপজেলা যা সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার অন্তর্ভূক্ত। ২৩°৫৮´ উত্তর অক্ষাংশ হতে ২৪°১৬´ উত্তর অক্ষাংশে এবং ৯১°১৬´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ হতে ৯১°২৫´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে বিস্তৃত এই উপজেলার পূর্বে চুনারুঘাট উপজেলাভারতের ত্রিপুরা রাজ্য; পশ্চিমে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদরনাসিরনগর উপজেলা; উত্তরে লাখাইহবিগঞ্জ সদর উপজেলা এবং দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য অবস্থিত। এই উপজেলাটি রাজধানী ঢাকা থেকে ১২০ কিলোমিটার এবং জেলা শহর হবিগঞ্জ থেকে ৪৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

কীভাবে যাবেন?[সম্পাদনা]

স্থলপথে[সম্পাদনা]

সড়ক পথে ঢাকা হতে মাধবপুরের দূরত্ব ১২০ কিলোমিটার এবং জেলা শহর হবিগঞ্জ হতে মাধবপুরের দূরত্ব ৪৯ কিলোমিটার। রেলপথে ঢাকা হতে মাধবপুরের নয়াপাড়া রেল স্টেশনের দূরত্ব ১৮৩ কিলোমিটার।

সড়কপথ[সম্পাদনা]

ঢাকার সায়েদাবাদ বাস স্টেশন থেকে হবিগঞ্জ বা সিলেট বিভাগের যেকোন স্থানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা দুরপাল্লার বাসে মাধবপুর আসা যায়; কারণ মাধবপুর হচ্ছে সড়কপথে সিলেট বিভাগের প্রবেশ-দ্বার এবং এই শহরটির উপর দিয়েই মূল ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক বিস্তৃত। ঢাকা-হবিগঞ্জ রুটে চলাচলকারী পরিবহনে মাধবপুর আসার ক্ষেত্রে ভাড়া হলো -

  • এসি বাসে - ২৫০ টাকা এবং
  • নন-এসি বাসে - ২০০ টাকা।

আর, ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা পরিবহনে আসার ক্ষেত্রে ভাড়া হলো -

  • এসি বাসে - ১২০০ টাকা এবং
  • নন-এসি বাসে - ৩৭০ টাকা।

জেলা শহর হবিগঞ্জ হতে মাধবপুরে আসার জন্য সাধারণত সরাসরি বাস ও ম্যাক্সি সার্ভিস রয়েছে। এক্ষেত্রে ভাড়া হলো -

  • বাসে - ৪০ টাকা এবং
  • ম্যাক্সিতে - ৪৫ টাকা।

রেলপথ[সম্পাদনা]

মাধবপুরে সরাসরি ট্রেনে আসা যায়। ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন বা চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা যেকোন ট্রেনে মাধবপুরের নয়াপাড়ায় আসা যায়; কারণ নয়াপাড়া হচ্ছে রেলপথে সিলেট বিভাগে প্রবেশের অন্যতম প্রধান স্টেশন এবং এই শহরটির উপর দিয়েই মূল ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথটি বিস্তৃত। কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে প্রতিদিন একাধিক ট্রেন সিলেটের উদ্দেশ্যে ছাড়ে। ঢাকা – সিলেট এবং চট্টগ্রাম – সিলেট রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলো হলোঃ

  • ৭১০ পারাবত এক্সপ্রেস - সিলেট হতে দুপুর ০৩ টায় ছাড়ে এবং ঢাকায় রাত ০৯ টা ৪৫ মিনিটে পৌছে (মঙ্গলবার বন্ধ) ও ঢাকা থেকে ভোর ০৬ টা ৩৫ মিনিটে ছাড়ে এবং সিলেট পৌছে দুপুর ০১ টা ৪৫ মিনিটে (মঙ্গলবার বন্ধ);
  • ৭১৮ জয়ন্তীকা এক্সপ্রেস - সিলেট হতে সকাল ০৮ টা ৪০ মিনেটে ছাড়ে এবং ঢাকায় বিকাল ০৪ টায় পৌছে (বৃহস্পতিবার বন্ধ) ও ঢাকা থেকে দুপুর ১২ টায় ছাড়ে এবং সিলেট পৌছে সন্ধ্যা ০৭ টা ৫০ মিনিটে (কোন বন্ধ নেই);
  • ৭২০ পাহাড়ীকা এক্সপ্রেস (শনিবার বন্ধ) সিলেট হতে সকাল ১০ টা ১৫ মিনিটে ছাড়ে এবং চট্টগ্রামে রাত ০৭ টা ৪৫ মিনিটে পৌছে;
  • ৭২৪ উদয়ন এক্সপ্রেস (রবিবার বন্ধ) সিলেট হতে রাত ০৭ টা ২০ মিনিটে ছাড়ে এবং চট্টগ্রামে ভোর ০৫ টা ৫০ মিনিটে পৌছে;
  • ৭৪০ উপবন এক্সপ্রেস - সিলেট হতে রাত ১০ টায় ছাড়ে এবং ঢাকায় ভোর ০৫ টা ১০ মিনিটে পৌছে (কোন বন্ধ নেই) ও ঢাকা থেকে রাত ০৯ টা ৫০ মিনিটে ছাড়ে এবং সিলেট পৌছে ভোর ৫ টা ১০ মিনিটে (বুধবার বন্ধ);
  • ৭৭৪ কালনী এক্সপ্রেস - সিলেট হতে সকাল ০৭ টায় ছাড়ে এবং ঢাকায় দুপুর ০১ টা ২৫ মিনিটে পৌছে (শুক্রবার বন্ধ) ও ঢাকা থেকে বিকাল ০৪ টায় ছাড়ে এবং সিলেট পৌছে রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে (শুক্রবার বন্ধ)।

ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচলকারী রেলে ঢাকা হতে মাধবপুরের নয়াপাড়া আসার ক্ষেত্রে ভাড়া হলো -

  • ২য় শ্রেণির সাধারণ - ৫০ টাকা;
  • ২য় শ্রেণির মেইল - ৬৫ টাকা;
  • কমিউটার - ৮৫ টাকা;
  • সুলভ - ১০০ টাকা;
  • শোভন - ১৬৫ টাকা;
  • শোভন চেয়ার - ১৯৫ টাকা;
  • ১ম শ্রেণির চেয়ার - ২৬০ টাকা;
  • ১ম শ্রেণির বাথ - ৩৯০ টাকা;
  • এসি সীট - ৪৪৯ টাকা এবং
  • এসি বাথ - ৬৭৩ টাকা।

ট্রেন সম্পর্কিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন:

  • কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, ☎ ০২-৯৩৫৮৬৩৪,৮৩১৫৮৫৭, ৯৩৩১৮২২, মোবাইল নম্বর: ০১৭১১৬৯১৬১২
  • বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন, ☎ ০২-৮৯২৪২৩৯
  • ওয়েবসাইট: www.railway.gov.bd

আকাশপথে[সম্পাদনা]

এই শহরটিতে সরাসরি বিমানে চলাচলের কোনো ব্যবস্থা এখনো তৈরি হয় নি; তবে ঢাকা হতে সিলেটে আকাশ পথে বিমানে এসে সেখান থেকে সড়ক বা রেলপথে মাধবপুর আসা যায়। ঢাকা থেকে সিলেটের সাথে সরাসরি বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় বাংলাদেশ বিমান, জেট এয়ার, নোভো এয়ার, রিজেন্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়আর - প্রভৃতি বিমান সংস্থার বিমান পরিষেবায় ঢাকা থেকে সিলেটে আসা যায়।

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের একটি করে ফ্লাইট সপ্তাহে ৪ দিন ঢাকা- সিলেট ও সিলেট-ঢাকা রুটে চলাচল করে; ভাড়া লাগবে একপথে ৩,০০০/- এবং রিটার্ণ টিকিট ৬,০০০/-। সময়সূচী হলোঃ

  • ঢাকা হতে সিলেট - শনি, রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি - সকাল ১১ টা ২০ মিনিট এবং দুপুর ১২ টায়।
  • সিলেট হতে ঢাকা - শনি, রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি - দুপুর ১২ টা ২০ মিনিট এবং দুপুর ০১ টায়।

এই সম্পর্কিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন:

  • কর্পোরেট অফিস: উত্তরা টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ১ জসিম উদ্দিন এভিনিউ, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০, ☎ ০২-৮৯৩২৩৩৮, ৮৯৩১৭১২, ইমেইল: info@uabdl.com, ফ্যাক্স: ৮৯৫৫৯৫৯
  • ঢাকা এয়ারপোর্ট সেলস অফিস: ডমেস্টিক উইং কুর্মিটোলা, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা-১২৩০, ☎ ০২৮৯৫৭৬৪০, ৮৯৬৩১৯১, মোবাইল: ০১৭১৩-৪৮৬৬৬০
  • ওয়েবসাইট: www.uabdl.com

জলপথে[সম্পাদনা]

অপ্রচলিত মাধ্যম হিসাবে নৌপথ ব্যবহৃত হয়ে থাকে; তবে কেবলমাত্র সিলেট, শেরপুর ও আজমেরীগঞ্জ ছাড়া অন্য কোনো এলাকার সাথে ঢাকা থেকে বা সিলেট শহর হতে সরাসরি কোনো নৌযান চলাচল করে না। অপরদিকে, হাওড় এলাকায় যোগাযোগের একমাত্র বাহন নৌযান।

দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা[সম্পাদনা]

  • সুরমা চা বাগান - তেলিয়াপাড়া;
  • মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সৌধ - তেলিয়াপাড়া;
  • বাঘাসুরা রাজবাড়ী - বাঘাসুরা;
  • শাহ সোলেমান ফতেহগাজী-এর মাজার - শাহজীবাজার;
  • ফ্রুটস ভ্যালী - শাহজীবাজার;
  • শাহজীবাজার তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র - শাহজীবাজার;
  • শাহজীবাজার রাবার বাগান - শাহজীবাজার।

খাওয়া দাওয়া[সম্পাদনা]

মাধবপুরে স্থানীয় পর্যায়ের বিশেষ কোনো বিখ্যাত খাদ্য নেই, কেবল আথনী পোলাও ও সাতকরা (হাতকরা) ব্যতীত। তবে স্থানীয় আনারস, কমলা, পান, লেবু এবং কাঠালের বেশ সুখ্যাতি রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে চা-পাতা। হাওড় এলাকায় প্রচুর মাছ পাওয়া যায় এবং খামার ভিত্তিক হাঁস পালন করা হয়। এখানে সাধারণভাবে দৈনন্দিন খাওয়া-দাওয়ার জন্য স্থানীয় হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়। এখানে কিছু উন্নতমানের হোটেল রয়েছেঃ

  1. আল-আমিন হোটেল;
  2. হোটেল নুরজাহান;
  3. হাইওয়ে ইন লিঃ;
  4. পানশী।

থাকা ও রাত্রিযাপনের স্থান[সম্পাদনা]

মাধবপুরে থাকার জন্য স্থানীয় পর্যায়ের কিছু সাধারণ মানের হোটেল রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে উন্নতমানের -

  1. আল-আমিন হোটেল, মাধবপুর।
  2. হোটেল নুরজাহান, মাধবপুর।
  3. হাইওয়ে ইন লিঃ, মাধবপুর।