এই নিবন্ধের জন্য GPX ফাইল ডাউনলোড করুন

এশিয়া > দক্ষিণ এশিয়া > বাংলাদেশ > ঢাকা বিভাগ > মুন্সিগঞ্জ জেলা

মুন্সিগঞ্জ জেলা

উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

মুন্সীগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের একটি জেলা যা ঢাকা বিভাগ এর অন্তর্গত। মুন্সিগঞ্জ জেলার উত্তরে ঢাকা জেলা, দক্ষিণে ফরিদপুর জেলা, পূর্বে মেঘনা নদী ও কুমিল্লা জেলা এবং পশ্চিমে পদ্মা নদী ও ফরিদপুর জেলা অবস্থিত।

কিভাবে যাবেন?[সম্পাদনা]

স্থল পথে[সম্পাদনা]

ঢাকার গুলিস্তান, সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী থেকে এই রুটে বিভিন্ন পরিবহনের অসংখ্য বাস প্রতি ১০/১৫ মিনিট পর পর চলাচল করে। গুলিস্তান সুন্দরবন স্কোয়ার মার্কেটের পূর্ব পাশ এবং যাত্রাবাড়ী গোলচত্ত্বরের পূর্ব-দক্ষিণ দিক থেকে ঢাকা-মাওয়া ও ঢাকা-লোহজং, শ্রীনগর, টংগীবাড়ী প্রভৃতি স্থানের বাস ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে সড়কপথে এই জেলার ভাড়া ৬০ টাকা।

আকাশ পথে[সম্পাদনা]

এখানে কোন বিমানবন্দর নেই।

জল পথে[সম্পাদনা]

নৌ-পথে ঢাকার সদরঘাট থেকে সারাদিনই ছোট ছোট লঞ্চ এই জেলার কাঠপট্টি, ফতুল্লা প্রভৃতি ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এছাড়া চাঁদপুর গামী লঞ্চগুলোও এসব ঘাটে যাত্রী উঠানামা করিয়ে থাকে। লঞ্চে ভাড়া ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

  • রামপাল দীঘি- মুন্সীগঞ্জ জেলার রামপাল নামক স্থানে এই দীঘিটি অবস্থিত। বিক্রমপুরের রাজধানী রামপালের রাজা বল্লাল সেন সেই সময় তার প্রজা সাধারণের পানির কষ্ট লাঘব করার জন্য এই দীঘিটি খনন করেছিলেন। সেই সময় থেকে জায়গার নামানুসারে এই দীঘিটির নাম লোক মুখে প্রচারিত হতে হতে এটি এখন রামপাল দীঘি নামে পরিচিত। লোকমুখে আরও কথিত আছে যে, স্থানীয় প্রজা সাধারণের পানীয় জলের কষ্ট লাঘব করার জন্য তার মা বল্লাল সেনকে একটি দীঘি খনন করার কথা বললে রাজা বল্লাল সেন তার মাকে আশ্বাস দেন যে, তার মা যতদূর হেটে যেতে পারবেন রাজা বল্লাল সেন ততটুকু জায়গা জুড়ে দীঘি খনন করে দিবেন। তার পরের দিন তার মা দক্ষিণ দিকে হাটা শুরু করে অনেক দূর পর্যন্ত চলে যায়। তখন রাজা বল্লাল সেনের অসুস্থতার খবর শুনে তার মা হাটা থামিয়ে ফিরে আসেন। সেদিন বল্লাল সেনের মা যতদূর পর্যন্ত হেঁটে গিয়েছিলেন ততদূর পর্যন্ত বল্লাল সেন দীর্ঘ দীঘি খনন করেন।
  • বাবা আদম শহীদ মসজিদ- পূর্বেকার বিক্রমপুর জেলার রাজধানী রামপাল জুড়েই বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলার বেশিরভাগ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো অবস্থিত। তেমনই একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হলো বাবা আদম শহীদ মসজিদ। রামপাল রেকাবি বাজার ইউনিয়নের কাজী কসবা গ্রামে এই মসজিদটি অবস্থিত। ইতিহাস থেকে জানা যায় সুলতান ফতেহ শাহ এর শাসন আমলে ১৪৮৩ সালে মালিক কাফুর মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। মসজিদটির উপরে দুই সারিতে মোট ছয়টি গম্বুজ রয়েছে। মসজিদটির বাইরের দৈর্ঘ্য ১০.৩৫ মিটার এবং প্রস্থ ৩.৭৫ মিটার। এর দেয়াল ২ মিটার পুরু। জনশ্রুতি আছে, রাজা বল্লাল সেনের শাসনামলে বাবা আদম নামে একজন ব্যক্তি ধর্ম প্রচারের জন্য এ অঞ্চলে এসেছিলেন। রাজা বল্লাল সেনের নির্দেশ মতে তার সেনা সদস্যগন বাবা আদমকে হত্যা করে এই স্থানে দাফন করেন। মসজিদের পাশে এখনো বাবা আদম এর সমাধি রয়েছে।
  • ইদ্রাকপুর দুর্গ- ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায়, মুঘল সুবাদার মীর জুমলা ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরে পুরোনো ইছামতি নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত ইদ্রাকপুরে এই দুর্গটি নির্মাণ করেছিলেন। সে সময় মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ সহ আরও কিছু এলাকা রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এই দুর্গটি নির্মাণ করা হয়েছিল। জনশ্রুতি আছে, এই দুর্গের সুরঙ্গ পথের সাথে লালবাগ কেল্লা দুর্গের সংযোগ রয়েছে। শত্রুদের উদ্দেশ্যে গোলা নিক্ষেপের জন্য দুর্গটির দেয়ালে অসংখ্য ছিদ্র রয়েছে। প্রাচীর ঘেরা এই দুর্গটির চারকোণায় রয়েছে একটি করে গোলাকার বেস্টনী। ১৯০৯ সালে এই দুর্গটি পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয়।
  • মীরকাদিম পুল- মীরকাদিম নামটি শুনলেই আমাদের অনেকেরই কুরবানীর মিরকাদিমের গরুর কথা মনে পড়ে যায়। মুন্সিগঞ্জ জেলা শহর থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে কয়েক কিলোমিটার দূরে এই স্থানটি অবস্থিত। এখানে মীরকাদিম নামে একটি খাল রয়েছে। মুঘল আমলে এই খালের উপর একটি পুল নির্মাণ করা হয়েছিল। যার দৈর্ঘ্য ছিল ৫২.৪০ মিটার। চুন ও সুরকির সমন্বয়ে এই পুলটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বহুবার সংস্কারের ফলে পুলটির এখন আর সেই আগের অবস্থা নেই।
  • পদ্মা রিসোর্ট- বর্তমান সময়ে মুন্সীগঞ্জ জেলার পর্যটক আকর্ষণের দিক থেকে যে স্থানটি সবচেয়ে এগিয়ে সেটি হলো পদ্মা রিসোর্ট। প্রমত্তা পদ্মা নদীর বুকে এই রিসোর্টটি অবস্থিত। মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং নামক স্থানে এই রিসোর্টটি অবস্থিত। পর্যটকদের নিরিবিলি অবকাশ যাপনের জন্য এখানে রয়েছে কাঠের তৈরি ১৬টি কটেজ। সেই সাথে রয়েছে পদ্মার টাটকা ইলিশের তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাবারের পাশাপাশি উন্নতমানের বিভিন্ন ধরনের খাবারের ব্যবস্থা। রিসোর্টটিতে অবকাশ যাপনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে। কটেজে যাওয়ার জন্য মাওয়া ফেরিঘাটে রিসোর্টের নিজস্ব স্পীডবোট রয়েছে।


  • মেঘনা ভিলেজ- মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলায় মেঘনা নদীর কোলঘেষে মেঘনা ব্রীজ হতে ১ কিলোমিটার দূরত্বে এই রিসোর্টটি অবস্থিত। সম্পূর্ণ গ্রামীণ নিরিবিলি পরিবেশে এই রিসোর্টটি গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে অবকাশ যাপনকারীদের জন্য রয়েছে এসি ও নন-এসি উভয় ধরনের কটেজ। এখানকার কটেজগুলো দেখতে অনেকটা নেপালি বাড়িঘরের মতো। পর্যটকদের জন্য এখানে রয়েছে সুবিশাল খেলার মাঠ, খেলাধুলার উপকরণ, সুস্বাদু ও উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা। রাতের বেলায় যারা চাঁদ দেখতে ভালোবাসেন তারা একবার ঢু মেরে আসতে পারেন ঢাকার কাছের এই মেঘনা ভিলেজ হতে।

রাত্রী যাপন[সম্পাদনা]

ঢাকা থেকে খুব বেশি দূরে না হওয়ায় বেশিরভাগ পর্যটকই দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসে। তবে যারা থাকতে চান তাদের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরে সাধারণ মানের কিছু হোটেল রয়েছে। তবে সবচাইতে ভালো পুরো মুন্সীগঞ্জ ঘোরা শেষে পদ্মা রিসোর্টে রাত্রিযাপন করলে আপনার ভ্রমণ আরো আনন্দ ও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে।