এই নিবন্ধের জন্য GPX ফাইল ডাউনলোড করুন

এশিয়া > দক্ষিণ এশিয়া > বাংলাদেশ > বরিশাল বিভাগ > বরিশাল জেলা > কুয়াকাটা

কুয়াকাটা

উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্র সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা "সাগর কন্যা" হিসেবে পরিচিত। ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সৈকত বিশিষ্ট কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম নৈসর্গিক সমুদ্র সৈকত। এটি বাংলাদেশের একমাত্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়।

কীভাবে যাবেন[সম্পাদনা]

সড়ক পথে[সম্পাদনা]

ঢাকা থেকে বেশ কয়েকটি বাস এখন সরাসরি কুয়াকাটা যায়। ঢাকা থেকে "সাকুরা পরিবহন" ছাড়াও বিআরটিসি পরিবহনের বাস সরাসরি কুয়াকাটায় যায়। আপনি এসব বাসে গেলে আপনাকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ২০০ মিটার দূরে নামিয়ে দিবে। ঢাকা থেকে কুয়াকাটা বাসে যেতে মোট সময় লাগে প্রায় ১২/১৩ ঘন্টা। গাবতলী থেকে প্রতিদিন অসংখ্য বাস কুয়াকাটা যায় । এদের মধ্যে সুরভী, সোনারতরী, সাকুরা বাস অন্যতম । সকাল সন্ধ্যা যেকোন সময়ের বাস পাবেন। ভাড়া সুরভীতে শুধুমাত্র ৭৫০ বাকিগুলোতে ৬৫০। মোটামুটি ৯-১০ ঘণ্টা লাগে বাসে যেতে এবং দুটি ফেরী পার হতে হয়।

রেলপথে[সম্পাদনা]

সরাসরি কুয়াকাটা যাওয়ার কোন ট্রেন নেই। ট্রেনে ঢাকা সুন্দরবন এক্সপ্রেস বা চিত্রা এক্সপ্রেসে, আর উত্তরবঙ্গ থেকে আসতে চাইলে সৈয়দপুর থেকে খুলনা পর্যন্ত রূপসা অথবা সীমান্ত আন্তঃনগর ট্রেনে করে খুলনা আসতে হবে। খুলনা থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে সকাল ৭ টায় একটি বিআরটিসি বাস ছেড়ে যায়। খুলনা থেকে যেতে সময় লাগে প্রায় ৭/৮ ঘন্টা। বাসভাড়া ২৭০ টাকা।

জল পথে[সম্পাদনা]

লঞ্চ অনেক ভালো একটা বিকল্প। ঢাকা থেকে বরিশাল, আমতলী বা পটুয়াখালি হয়ে কুয়াকাটা যাওয়া যায়।

পটুয়াখালি হয়ে কুয়াকাটা

ঢাকার সদরঘাট থেকে বিকাল ৫.৩০ থেকে ৬.৩০ টার মধ্যে এমভি কাজল-৭, এমভি প্রিন্স আওলাদ-৭, এমভি সুন্দরবন-৯ ও ১১, এমভি জামাল-৫, এমভি এ আর খান-১, এমভি সাত্তার খান-১, এমভি কুয়াকাটা-১, এমভি মাহিন রিফাত-১ লঞ্চগুলো পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। দৈনিক ৩টি লঞ্চ পটুয়াখলীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং এই লাইনের লঞ্চগুলো বেশ নতুন আর মুজবুত। সেগুলো পটুয়াখালী পৌছায় সকাল ৭ টার দিকে। লঞ্চ ভাড়া ১৮০-২০০ টাকা করে (ডেক), আর কেবিনে গেলে ৯০০ টাকা সিঙ্গেল, ১৮০০ -২০০০ টাকা ডাবল, ২৫০০ - ৩০০০ টাকা ফ্যামিলি। ভিআইপি কেবিন লঞ্চভেদে ৩০০০-৪০০০ টাকার মধ্যে হয়। কিছু লোকাল লঞ্চ যেমন মাহিন রিফাত-১, প্রিন্স অব রাসেল-৪, সৈকত-১৫ তে ডেক ভাড়া ১৫০ টাকা। তবে এগুলা ঘাট বেশী দেয় এবং সময়ও কিছুটা বেশী লাগে। তবে লঞ্চ যাত্রা উপভোগ করতে চাইলে এগুলোতেও যেতে পারেন।

লঞ্চ দিয়ে সকালে পটুয়াখালী নেমে একটা রিক্সা নিয়ে (ভাড়া ১৫ টাকা) বাস স্ট্যান্ডে চলে আসতে হবে। সেখানে খাওয়া দাওয়ার দোকান নাই। তবে সকালের নাস্তা খেতে হলে আপনাকে একটু পিছিয়ে চৌরাস্তার মোড়ে যেতে হবে, সেখানে ভালো কিছু পরটার দোকান পাবেন । এখান থেকে (চৌরাস্তা) মোটর সাইকেল পাওয়া যায়, এক মোটর সাইকেলে ২ জন জাত্রী বসা যাবে, সরাসরি কুয়াকাটা পর্যন্ত ভাড়া নিবে ৬০০-৮০০ টাকা (দরদাম করতে হবে)। সময় লাগবে প্রায় আড়াই ঘন্টা। এছাড়া বাসে করেও যাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে আবার বাস স্ট্যান্ডে আসতে হবে, কুয়াকাটার বাসের টিকিট কাটতে হবে, ভাড়া নিবে ১৩০ টাকা। পটুয়াখালি থেকে কলাপাড়া পর্যন্ত রাস্তা অসাধারণ, রীতিমতন বিমান নামতে পারবে এমন, রানওয়ের মতন চকচকে। আগে তিনটা ফেরী পার করতে হত কিন্তু এখন ৩টা নতুন ব্রিজ হওয়াতে পুরো ঝকঝকে রাস্তা। মনে রাখবেন সন্ধ্যা ৫টার পর আর কোনো বাস পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা যায় না।

আমতলী হয়ে কুয়াকাটা

প্রতিদিন একটি করে লঞ্চ ঢাকা সদরঘাট হতে আমতলী যায় । লঞ্চ ছাড়ে ৪.৩০ হতে ৫.০০ টার মধ্যে । সবগুলো লঞ্চই নতুন । লঞ্চগুলো হচ্ছে এমভি সুন্দরবন-৫,এমভি প্রিন্স অব হাসান হোসেন-১,এমভি ইয়াদ । লঞ্চ ভাড়া ২০০ টাকা করে (ডেক), আর কেবিনে গেলে ৯০০ টাকা সিঙ্গেল, ১৮০০ টাকা ডাবল । বরিশাল থেকে যেই বাস গুলো কুয়াকাটা যায় সেগুলোতেই আমতলী থেকে উঠতে পারবেন । ভাড়া নিবে ১০০ টাকা । এখানে নামলে অসংখ্য বাস এবং খাওয়ার হোটেল পাবেন ।

বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা

ঢাকা থেকে বরিশালের লঞ্চগুলো রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে সদর ঘাট থেকে ছাড়ে। এর মধ্যে সুন্দরবন, সুরভী, পারাবর, কীর্তনখোলা লঞ্চগুলো ভাল। লঞ্চগুলো বরিশাল পৌঁছায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে। ডেক ভাড়া সাধারনত ১০০ টাকা। বরিশাল থেকে মাইক্রোবাস ভাড়া করে সরাসরি কুয়াকাটা পৌঁছানো সম্ভব। সেইক্ষেত্রে খরচ কিছুটা বেশী পরবে। দামাদামি করলে ৩৫০০ টাকার মধ্যে ভাড়া পাওয়া সম্ভব।

বরিশাল থেকে দুই ভাবে কুয়াকাটা যাওয়া সম্ভব।

এক, বরিশাল-কুয়াকাটার রাস্তা ভালো হলেও লোকাল বাস গুলোর অবস্থা ভালো না। বরিশাল থেকে ডাইরেক্ট কুয়াকাটা যেতে পার হতে হয় ৪টা ফেরি। বরিশাল থেকে সরাসরি কুয়াকাটা যাওয়ার বাস ভাড়া ২২০ টাকা।

দুই, আমতলী দিয়ে গেলে ৩টা ফেরি পার হতে হবে। সেইক্ষেত্রে আপনাকে বরিশাল থেকে আগে আমতলী আসতে হবে। বরিশাল থেকে আমতলী যাওয়ার ভাড়া ১২০টাকা। আমতলী থেকে ঘুরে ফিরে বরিশাল থেকে ছেড়ে আসে সেই লোকাল বাস এই আপনাকে কুয়াকাটা যেতে হবে। সেইক্ষেত্রে ভাড়া ১০০-৮০ টাকা।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

৩৬ ফুট লম্বা স্বর্ণের বৌদ্ধ মূর্তি, সাগরের পাশেই বেড়ীবাধের উপরে আরেকটা বৌদ্ধ মূর্তি, শুটকি পল্লী, ফাতরার চর, লাল কাঁকড়ার দ্বীপ, মোহনীয় মায়াময়ী গঙ্গামতির চর - যেখানে দাঁড়িয়ে একই সাথে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়, যেই কুয়াটার নামে এই জায়গায় নামকরণ হয়েছে সেই কুয়া।

কুয়াকাটা থেকে “সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে” যাওয়া যায়, স্থানীয় লোকজন এটিকে “নাই বাম” বলে।

সবচাইতে ভালো হয় কুয়াকাটা সি-বিচ থেকে একটা ট্রলার সারাদিনের জন্য ১০০০-১২০০ টাকা দিয়ে ভাড়া নিয়ে নিতে পারেন, তাহলে সে-ই সব যায়গা দেখিয়ে নিয়ে আসবে। চেস্টা করবেন বিকেলটা গঙ্গামতির চরে কাটানোর।

কুয়াকাটার আশেপাশের চর ও তাদের বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

ঘোরাঘুরি করার মতন চমৎকার কয়েকটা চর রয়েছে –

ফাতরার চর

এখানকার গাছপালা কিছুটা হলুদ বর্ণের, আর বনের মধ্যে দিয়ে পায়ে চলার পথটা অসম্ভব সুন্দর, বন দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একসময়য় সাগরের দিকে বের হওয়া যায়, সেখানে একটা চুলা আছে যেখানে রাতে ক্যাম্পিং করে বারবিকিউ করা যায়।

গঙ্গামতির চর

কুয়াকাটার সবচাইতে মায়াময় চর হলো এই গঙ্গামতির চর, মুল কুয়াকাটা থেকে এটাতে মোটরসাইকেল, ভ্যান এবং ট্রলারের করে যাওয়া যায়। এই চরে দুরন্ত সবুজ একটা বন রয়েছে। এই বনে বানর, শিয়াল আর অজগর সাপ পাওয়া যায়। এই বনে কমলা গাছ, বরই গাছ আর কামরাঙ্গা গাছ রয়েছে, এখান থেকেই একি সাথে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখা যায়। যদি কেউ গঙ্গামতি চরের চরম মজাটা নিতে চান তাহলে খাল পার হয়ে চরের পূর্ব প্রান্তে চলে যেতে হবে – জীবনে অবগাহণ করার মতন মোহনীয় যায়গা এটি।

লাল কাঁকড়ার দ্বীপ

কুয়াকাটা থেকে ফাতরার চরের দিকে যেতে হাতের ডান পাশে পড়বে এই দ্বীপ, এখানে ভোর সকালে আসলে লাল কাঁকড়ার মিছিল দেখা যাবে, আবার গঙ্গামতি চরের পূর্ব পাশেও লাল কাঁকড়া অবাধে ঘুরে বেড়ায়। তাদের সাথে সাক্ষাতের সময় ঐ একটাই - প্রথম ভোরে।

লাল কাঁকড়ার দ্বীপে ভোরে বা সকালে গেলে লাল কাঁকড়ার দেখা পাওয়া কষ্টকর। সূর্যের তাপে বালু উত্তপ্ত হয়ে গেলে কাঁকড়া রা বাইরে বের হয়ে আসে। তাই সকাল ১১ টার দিকে গেলেই শজে লাল কাঁকড়ার দৌড়া দৌড়ি উপভোগ করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, আপনার উপস্থিতি যেন কোন ভাবেই তাদের কে ক্ষতিগ্রস্থ না করে।

লেবুর চর

লেবুর চর নামে একটা জায়গা থেকে তিন নদীর মোহনা দেখা যায়। এক পাশে সমূদ্র আরেক পাশে তিন নদীর মোহনা, অপর পাশে উপকূলীয় বন, নদীর ওপারে দেখা যায় ফাত্রার বন- সব মিলিয়ে জায়গা টা অসাধারন। মোটর সাইকেল করে সহজেই ঘুরে আসা যায়।

কোথায় থাকবেন[সম্পাদনা]

কুয়াকাটায় প্রচুর হোটেল রয়েছে। ৩০০ থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকার হোটেল পর্যন্ত রয়েছে। একেবারে সী-বিচের কাছে কিছু হোটেল রয়েছে, এছাড়া পর্যটনের হোটেলও আছে। থাকা নিয়ে সমস্যা নাই, যেকোনো হোটেলে আরামে থাকা যাবে।

  • ইয়ুথ ইন হোটেল, কুয়াকাটা, কলাপাড়া, +৮৮০৪৪২৮-৫৬০০৮পর্যটন করপোরেশনের অধীনস্থ হোটেল। কক্ষের সুবিধা: টেলিভিশন, টেলিফোন, গরম এবং ঠান্ডা পানির ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুবিধা। Linecons banknote.svg ৳২,০০০-৫,৫০০
  • হলিডে হোমস হোটেল, কুয়াকাটা, কলাপাড়া, +৮৮০৪৪২৮-৫৬২০৮পর্যটন করপোরেশনের অধীনস্থ হোটেল। কক্ষের সুবিধা: টেলিভিশন, টেলিফোন, গরম এবং ঠান্ডা পানির ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুবিধা। Linecons banknote.svg ৳১,০০০-৩,৫০০

কী খাবেন[সম্পাদনা]

আবাসিক হোটেলগুলিতে অতিথিদের জন্য নিজস্ব রেস্তোরাঁয় খাবার ব্যবস্থা আছে। লেবুর চরের কাঁকড়া ভুনা বেশ বিখ্যাত। বীচ এলাকায় রয়েছে মাছের নানা দোকান, যেখানে আছে টাটকা মাছ ভেঁজে খাওয়ার সুযোগ। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের সামুদ্রিক মাছ ও মাছের শুকটি পাওয়া যায়।