উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন

গাইবান্ধা সদর উপজেলা বাংলাদেশের একটি প্রশাসনিক এলাকা যা রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলার অন্তর্ভূক্ত। গাইবান্ধা সদর উপজেলা ২৫°১৩´ উত্তর অক্ষাংশ হতে ২৫°২৭´ উত্তর অক্ষাংশের এবং ৮৯°২৬´ পূর্ব দ্রাঘিমা হতে ৮৯°৪১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। ৩২০.২৫ বর্গ কিমি আয়তনের এই উপজেলাটির উত্তরে সুন্দরগঞ্জচর রাজীবপুর উপজেলা, দক্ষিণে পলাশবাড়ি, সাঘাটাফুলছড়ি উপজেলা; পূর্বে দেওয়ানগঞ্জফুলছড়ি উপজেলা এবং ব্রহ্মপুত্র নদ এবং পশ্চিমে সাদুল্লাপুরপলাশবাড়ি উপজেলা অবস্থিত।

কিভাবে যাবেন?[সম্পাদনা]

দেশের যেকোন স্থান হতে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় সরাসরি আসতে হলে রেল, সড়ক ও নৌ পথে আসতে হয়; আকাশ পথে এখানে সরাসরি আসার কোনো ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। তবে, নৌ-পথ সীমিত এলাকা জুড়ে বিস্তৃত বিধায় দেশের সকল স্থান থেকে আসার ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা সম্ভব নয়। মূলতঃ গাইবান্ধা জেলায় কোনো বিমানবন্দর না-থাকায় এবং নাব্যতা ও বড় নদ-নদী না-থাকায় এ অঞ্চলের সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের আকাশ পথে বা নৌ-পথে কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

স্থল পথে[সম্পাদনা]

সড়ক পথে ঢাকা হতে গাইবান্ধা সদর উপজেলার দূরত্ব ২৭০ কিলোমিটার এবং রেলপথে ঢাকা হতে গাইবান্ধা সদর উপজেলার মূল রেল স্টেশনের দূরত্ব ৪৮০ কিলোমিটার। উপজেলা সদরদপ্তরটি জেলা শহর গাইবান্ধা হতে ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

সড়কপথ[সম্পাদনা]

ঢাকা থেকে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় আসতে হলে মহাসড়ক পথে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা এবং বগুড়া জেলা হয়ে আসতে হয়। ঢাকা থেকে এখানে সরাসরি বাসে আসা যায়; বিভিন্ন বিলাসবহুল পরিবহনের গাড়ি ঢাকা-গাইবান্ধা রুটে চলাচল করে। গাইবান্ধা সদরের সাথে এই উপজেলার পাকা সড়ক পথে যোগাযোগ রয়েছে। তাছাড়াও উপজেলা সদর হতে ইউনিয়নগুলোতে যাওয়ার জন্য পাকা রাস্তা রয়েছে।

ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ, আসাদগেট, শ্যামলী, মহাখালী, মিরপুর, আব্দুল্লাহপুর বাস স্টেশন থেকে গাইবান্ধা আসার সরাসরি দুরপাল্লার এসি ও নন-এসি বাস সার্ভিস আছে; এগুলোতে সময় লাগে ৬.৩০ হতে ৮.০০ ঘণ্টা। ঢাকা থেকে গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে শাহ ফতেহ আলী, নাবিল, এস আর ট্র্যাভেলস প্রভৃতি পরিবহন কোম্পানীর বাস আছে প্রতিদিন।

  • নাবিল পরিবহন, ঢাকা: ☎ ০২-৯০০ ৭০৩৬, ৯০১ ৩৬৮২, ৮১২ ৭৯৪৯, মোবাইল: ০১৭১৪-৮২৭ ৩৭৩ (আসাদগেট);
  • হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ঢাকা: ☎ ০২-৯১৪ ৪৪৮২, ৮০১ ১৭৫০, ৯০০ ৩৩৮০, ৮১১ ৯৯০১, মোবাইল: ০১১৯৮-২২০ ০৫২ (শ্যামলী), ০১১৯০-১৮৮ ১৬৯ (গাবতলি);
  • এস আর ট্র্যাভেলস, ঢাকা: মোবাইল: ০১৭১১-৩৯৪ ৮০১ (গাবতলি), ০১৫৫২-৩১৫ ৩১৮ (উত্তরা);
  • শাহ ফতেহ আলী এক্সপ্রেস, ঢাকা: মোবাইল: ০১১৯৩-২২১ ০৮৫ (মহাখালি), ০১১৯৩-২২১ ০৮৪ (উত্তরা);
  • আল হামরা ট্র্যাভেলস, ঢাকা: মোবাইল: ০১৭২১-৮০২ ০৩১ (গাবতলি)।
  • ঢাকা-গাইবান্ধা রুটে সরাসরি চলাচলকারী পরিবহনে আসার ক্ষেত্রে ভাড়া হলোঃ
    • এসি বাসে - ৭০০/- এবং
    • নন-এসি বাসে - ৩৫০/- - ৫০০/-।

রেলপথ[সম্পাদনা]

অনেক পূর্ব হতেই গাইবান্ধা জেলায় রেলপথ রয়েছে; এই জেলায় রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য ৫৬ কিলোমিটার (প্রায় ৫২ মাইল)। গাইবান্ধা জেলার রেলস্টেশনগুলি হচ্ছে - বামনডাঙ্গা, নলডাঙ্গা, কামারপাড়া, কুপতলা, গাইবান্ধা, ত্রিমোহিনী, বালাসীঘাট রেলওয়ে ফেরী স্টেশন, বাদিয়াখালী, বোনারপাড়া জংশন, মহিমাগঞ্জ, ভরতখালী, ফুলছড়ি, তিস্তামুখ ঘাট রেলওয়ে স্টেশন।

ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ট্রেনে সরাসরি গাইবান্ধায় আসা যায়। কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে প্রতিদিন একাধিক ট্রেন গাইবান্ধার পথে যাতায়ত করে। ঢাকা – গাইবান্ধা রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলো হলোঃ

  • ৭৭১ রংপুর এক্সপ্রেস (রবিবার বন্ধ) - রংপুর হতে রাত ০৮ টায় ছাড়ে ও ঢাকায় ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে পৌছে এবং ঢাকা থেকে সকাল ০৯ টায় ছাড়ে ও রংপুরে সন্ধ্যা ৭টায় পৌছে;
  • লালমনি এক্সপ্রেস (শুক্রবার বন্ধ) - ঢাকা থেকে রাত ১০ টা ১০ মিনিটে ছাড়ে।

ঢাকা-গাইবান্ধা রুটে চলাচলকারী রেলে ঢাকা হতে গাইবান্ধা আসার ক্ষেত্রে ভাড়া হলো -

  • শোভন চেয়ার - ৫১৫ টাকা;
  • স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) - ৯৮৪ টাকা।

ট্রেন সম্পর্কিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেনঃ

  • কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, ☎ ০২-৯৩৫৮৬৩৪,৮৩১৫৮৫৭, ৯৩৩১৮২২, মোবাইল নম্বর: ০১৭১১৬৯১৬১২;
  • বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন, ☎ ০২-৮৯২৪২৩৯;
  • ওয়েবসাইট: www.railway.gov.bd।

আকাশ পথে[সম্পাদনা]

গাইবান্ধায় কোনো বিমানবন্দর না-থাকায় এখানে সরাসরি আকাশ পথে আসা যায় না, তবে ঢাকা থেকে সরাসরি বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের সাথে; ঢাকা থেকে সৈয়দপুর এসে সেখান থেকে সড়কপথে গাইবান্ধায় আসা যায়। বাংলাদেশ বিমান, জেট এয়ার, নোভো এয়ার, রিজেন্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়ার - প্রভৃতি বিমান সংস্থার বিমান পরিষেবা রয়েছে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর আসার জন্য।

বাংলাদেশ বিমানের একটি করে ফ্লাইট সপ্তাহে ৪ দিন ঢাকা-সৈয়দপুর ও সৈয়দপুর-ঢাকা রুটে চলাচল করে; ভাড়া লাগবে একপথে ৩,০০০/- এবং রিটার্ণ টিকিট ৬,০০০/-। সময়সূচী হলোঃ

  • ঢাকা হতে সৈয়দপুর - শনি, রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি - দুপুর ০২ টা ২০ মিনিট;
  • সৈয়দপুর হতে ঢাকা - শনি, রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি - দুপুর ০৩ টা ৩৫ মিনিট।

এই সম্পর্কিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেনঃ

    • ম্যানেজার, সৈয়দপুর বিমান বন্দর, মোবাইল - ০১৫৫৬-৩৮৩ ৩৪৯।

জল পথে[সম্পাদনা]

অপ্রচলিত মাধ্যম হিসাবে নৌপথ ব্যবহৃত হয়ে থাকে; তবে কেবলমাত্র স্থানীয় পর্যায় ছাড়া অন্য কোনো এলাকার সাথে, কিংবা ঢাকা থেকে বা অন্যান্য বড় শহর হতে সরাসরি কোনো নৌযান চলাচল করে না। তবে, চরাঞ্চলে যোগাযোগের একমাত্র বাহন নৌযান।

দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা[সম্পাদনা]

  • মীরের বাগান মসজিদ (১৩০৮) - খাগোয়া;
  • পীর ইবনে শরফুদ্দিনের মাযার - খাগোয়া;
  • ভবানীগঞ্জ ডাকঘর (১৮৫৮);
  • বাগুড়িয়া তহশিল অফিস (উনিশ শতক);
  • স্বাধীনতা প্রাঙ্গন;
  • হেলালপার্ক বধ্যভূমি;
  • কামারজানি গণকবর;
  • তুলসীঘাট ও বল্লমঝাড় শহীদ সমাধি;
  • পৌর পার্ক শহীদ মিনার;
  • গাইবান্ধা কলেজ শহীদ মিনার;
  • মুন্সীপাড়া শহীদ মিনার;
  • মুক্তিযুদ্ধ বিজয়স্তম্ভ;
  • পশ্চিমপাড়া স্মৃতিস্তম্ভ;
  • মাতৃভান্ডার স্মৃতিস্তম্ভ;
  • শাহ্ সুলতান গাজীর মসজিদ - মীরের বাগান;
  • ভরতখালী কাষ্ঠ মন্দির (কালি মন্দির);
  • এসকেএস ইন;
  • গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৮৫);
  • গাইবান্ধা ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৪);
  • গাইবান্ধা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় (১৯১৬);
  • পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৭);
  • চাপাদহ বি. এল উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৯);
  • তুলসীঘাট কাশিনাথ উচ্চ বিদ্যালয় (১৯২১);
  • গাইবান্ধা কলেজ (১৯৪৭);
  • কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (১৯৫৪)।

খাওয়া দাওয়া[সম্পাদনা]

‘সিদল ভর্তা’ এখানকার জনপ্রিয় খাবার, যা কয়েক ধরনের শুঁটকির সঙ্গে নানা ধরনের মসলা মিশিয়ে বেটে তৈরি করা হয়। এছাড়াও রয়েছে বিখ্যাত “হাড়িভাঙ্গা” আম, তামাক ও আখ। এখানে সাধারণভাবে দৈনন্দিন খাওয়া-দাওয়ার জন্য স্থানীয় হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়।

থাকা ও রাত্রী যাপনের স্থান[সম্পাদনা]

গাইবান্ধায় থাকার জন্য স্থানীয় পর্যায়ের কিছু সাধারণ মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকার জন্য উন্নতমানের আবাসন সুবিধা পাওয়া যায় -

  • সার্কিট হাউজ, গাইবান্ধা, মোবাইল: ০১৭৬২-৬৯৫ ০৫৫;
  • এসকেএস ইন, গাইবান্ধা, মোবাইল: ০১৭১৩-৪৮৪ ৪১৭;
  • গণ উন্নয়ন কেন্দ্র, গাইবান্ধা, মোবাইল: ০১৭১৩-৪৮৪ ৬৪৭।

জরুরি নম্বরসমূহ[সম্পাদনা]

জননিরাপত্তা সম্পর্কিত যোগাযোগের জন্য
  • ওসি গাইবান্ধা, মোবাইল: ০১৭১৩-৩৭৩ ৮৯২।