উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন


ঝালকাঠি সদর উপজেলা বাংলাদেশের ঝালকাঠি জেলার অন্তর্গত একটি প্রশাসনিক এলাকা। ২০৪.৪৮ বর্গ কিমি আয়তনের এই উপজেলাটি ২১°৩৫´ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২২°৪৭´ উত্তর অক্ষাংশের এবং ৯০°০৬´ পূর্ব দ্রাঘিমা থেকে ৯০°১৭´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত, যার উত্তরে বানারীপাড়া, উজিরপুর এবং বাবুগঞ্জ উপজেলা; দক্ষিণে রাজাপুর উপজেলা; পূর্বে বরিশাল সদরনলছিটি উপজেলা এবং পশ্চিমে কাউখালী, স্বরূপকাঠিবানারীপাড়া উপজেলা

কিভাবে যাবেন?[সম্পাদনা]

রাজধানী ঢাকা থেকে উপজেলা সদরের দূরত্ব ১৮২ কিলোমিটার। এই জেলাটি একটি উপকূলী ও নদীবহুল অঞ্চল হওয়ায় এখানকার যেকোনো স্থানে আসার জন্য নৌপথ সবচেয়ে সুবিধাজনক পরিবহন ব্যবস্থা। তবে, সড়ক পথেও এখানে আসা সম্ভব; সেক্ষেত্রে ফেরী পারাপার হতে হবে। ঝালকাঠিতে রেল যোগাযোগ বা বিমান বন্দর নেই বলে এই দুটি মাধ্যমে এখানকার কোনো স্থানে আসা যায় না।

স্থল পথে[সম্পাদনা]

ঢাকা থেকে ঝলকাঠির উদ্দেশ্যে যেসব গাড়ি ছেড়ে যায় সেগুলো হল এসি চেয়ার কোচ, হিনো চেয়ার কোচ ও নরমাল চেয়ার কোচ। এসি চেয়ার কোস ও হিনো চেয়ার কোচগুলো গুলো ফেরী পারাপার এবং নরমাল চেয়ার কোসগুলো লঞ্চ পারাপার। এছাড়া লোকাল পথেও ঝালকাঠি যাওয়া যায়।

কাটা লাইনে ঝালকাঠি যেতে চাইলে গুলিস্তান থেকে যেসব গাড়িগুলো ছেড়ে যায় সেগুলো শুধু মাওয়াঘাট পর্যন্ত যায়। তারপর যাত্রীগণকে গাড়ি থেকে নেমে লঞ্চে অথবা স্পীড বোটে কাওরাকান্দি যেতে হয়। লঞ্চে পদ্মা নদী পার হতে হলে ১.৩০ মিনিট থেকে ২.০০ ঘণ্টা সময় লাগে। লঞ্চ ভাড়া ৩০ টাকা। স্পীড বোটে নদী পার হলে আনুমানিক ২০মিনিট সময় লাগে। স্পীড বোটে ভাড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। কাওরাকান্দি থেকে বাস অথবা মাইক্রোবাসে বরিশাল যাওয়া যায়। বাসে ডাইরেক্ট বরিশাল ভাড়া ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা। মাইক্রোবাসে ডাইরেক্ট বরিশাল ভাড়া ১৮০-২০০ টাকা। এছাড়া কাওরাকান্দি থেকে ভাংগা পর্যন্তও বাসে যাওয়া যায়। কাওড়াকান্দি থেকে ভাংগা পর্যন্ত বাস ভাড়া-৪০, ভাংগা থেকে বরিশাল পর্যন্ত বাস ভাড়া- ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরিশাল থেকে ঝলকাঠি ভাড়া ৪০ টাকা।

  • উপজেলা সদর হতে কাঠালিয়া উপজেলায় বাস ও লঞ্চ যোগে যাওয়া যায় এবং এতে ভাড়া লাগে ৪০-৮০ টাকা;
  • উপজেলা সদর হতে নলছিটি উপজেলায় সিএনজি, টেম্পু, বাস, লঞ্চ ও স্টীশার যোগে যাওয়া যায় এবং এতে ভাড়া লাগে ৩০-১০০ টাকা;
  • উপজেলা সদর হতে রাজাপুর উপজেলায় রিক্সা, টেম্পু ও বাস যোগে যাওয়া যায় এবং এতে ভাড়া লাগে ১৫-৫০ টাকা।

নৌপথে[সম্পাদনা]

ঢাকা সদরঘাট নদী বন্দর লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ঝালকাঠির উদ্দেশ্যে যেসব লঞ্চ ছেড়ে যায় সেগুলো হল এম ভি টিপু-০, এম ভি টিপু-১ সুরভী-৭, সুরভী-৮, পারাবত-২, পারাবত-৯, পারাবত-১১।

দর্শনীয় স্থানসমূহ[সম্পাদনা]

  1. ঘোষাল রাজপ্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ,
  2. নুরুল্লাপুর মঠ,
  3. হাজরাগাতি গ্রামের শিবমন্দির,
  4. শেখেরহাটে আঞ্জির শাহের মাযার,
  5. পৌরসভার পুরাতন ভবন,
  6. ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৭২),
  7. কীর্তিপাশা প্রসন্ন কুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯০৩),
  8. মোঃ লেহাজ চাঁন চিশতী 'এর মাজার,
  9. ঝালকাঠি পৌর সিটি পার্ক,
  10. কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ীর,
  11. গাবখান সেতু,
  12. ভীমরুলী ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান,
  13. কায়েদ সাহেব হুজুরের দরবার শরীফ,
  14. ইকো পার্ক,
  15. তোতাশাহ 'এর মাজার শরিফ।

খাওয়া - দাওয়া[সম্পাদনা]

থাকা ও রাত্রী যাপনের স্থান[সম্পাদনা]

ঝালকাঠিতে থাকার জন্য স্থানীয় পর্যায়ের কিছু সাধারণ মানের হোটেল রয়েছে। এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকার জন্যে রয়েছে উন্নতমানের -

  • জেলা পরিষদ ডাকবাংলো - ঝালকাঠি।
  • হালিমা বোডিং - হোঘলা পটী রোড।
  • ধানসিড়ি বোডিং - কালিবাড়ি রোড।
  • আরাফাত বডিং - বাতাসা পটী রোড।
  • ভাই ভাই হোটেল - রোনাছ রোড, ঝালাকাটি।

জরুরি নম্বরসমূহ[সম্পাদনা]

পরিবহন সম্পর্কিত যোগাযোগের জন্য
  • বি.আর.টি.সি. পরিবহনঃ মোবাইল: ০১৭১২-১৬৯ ৯২৭; ০১৫৫৮-৩৬১ ৪৮৬।
  • প্যাডল স্টীমার পরিবহনঃ মোবাইল: ০১৫৫৮-৩৬১ ৪৪০।
চিকিৎসা সম্পর্কিত যোগাযোগের জন্য
  • উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা, ঝালকাঠি সদরঃ ☎ ০৪৯৮-৬৩২৭১; মোবাইল: ০১৭৩২-৮০০ ৭০০;
জননিরাপত্তা সম্পর্কিত যোগাযোগের জন্য
  • ইউ.এন.ও. ঝালকাঠি সদরঃ ☎ ০৪৯৮-৬৩৫৮১ (অফিস), মোবাইল: ০১৭০৫-৪১১ ০২০;
  • ওসি, ঝালকাঠি সদরঃ ☎ ০৪৯৮-৬২২১৫; মোবাইল: ০১৭১৩-৩৭৪ ২৮৬।